জি।
ছায়ার গিয়ে বসল ফারগো দম্পতি। এখানে এত গরম যে ছায়ায় বসেও ঘামছে ওরা। স্যাম কখন বলতে শুরু করবে তার জন্য রেমি অপেক্ষা করছে।
রুবো, আপনি বলেছিলেন, এই দ্বীপে জাপানিরা ছিল। স্থানীয় লোকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করত তারা।
রুবো সায় দিল মাথা নাড়ল। ‘হ। জাপানিরা কুমীরের লাগান বদ আছিল।
‘সবাই?
‘হেইডা কওয়া মুশকিল। কিন্তু ব্যাবাক কিছু যে অফিসার চালাইত… হে আস্তা জানোয়ার আছিল।’
‘তার ব্যাপারে আমাদেরকে বলতে পারবেন?
‘শয়তানডার নাম আছিল কুমা… কুমাসাকা। কর্নেল কুমাসাকা। এই নাম আমি জীবনে ভুলুম না।
‘কী করতেন তিনি?
রুবো এরআগে যা বলেছিল আজও তা-ই বলল। নতুন কিছুই জানা গেল না। তাই ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করল।
‘দ্বীপের পশ্চিম পাশে জাপানিদেরকে কিছু করতে দেখেছেন কিংবা শুনেছেন কখনও?
কীরাম?
‘অদ্ভুত কিছু। হয়তো সাগরে ডুব দিয়েছিল জাপানিরা কিংবা অন্যকিছুও হতে পারে।’
‘যুদ্ধের শ্যাষের দিকে অনেক গুলাগুলি হইছে। তাই একেবারে সঠিক কইরা কিছু কইতে পারুম না। তয় দ্বীপ ছাইড়া যাওনের আগে সাগরের পাশের এক গ্রামের অনেকজনরে ওরা খুন কইরা গেছিল।
‘তাই?
‘আমি শুনছি। দেহি নাই।
মাথা নাড়ল রেমি। বুঝতে পারছি। কী মনে হয়, রুবো? কী হয়েছিল?
‘আমি শুনছি, আমাগো অনেক লোকরে জাপানিরা মাইরা ফালাইছে। প্রথমে কামলা বানায়া কাম করাইসে পরে যাওনের সময় খুন কইরা থুইয়া গেছে।
কামলা? অর্থাৎ শ্রমিক? কী কাজে নিয়েছিল জাপানিরা?”
“জানি না।’
‘স্বাভাবিক কাজ ছিল সেটা?
রুবো মাথা নাড়ল। হেইডা কইতে পারি না। তয় কামের লিডার আছিল কুমাসাকা। মানুষরে মাইরা ফালাইয়্যা মজা পাইত ব্যাডা। আস্তা শয়তান আছিল। পাশে থাকা শুকনো পাতার উপর থুথু ফেলল রুবো। মাত্র দুইজন জান লইয়্যা বাঁচতে পারছিল। বাকি সবাইরে…’দুখী মুখে রুবো মাথা নাড়ল।
‘ওই ঘটনা থেকে লোক বেঁচে ছিল? প্রশ্ন করল স্যাম।
‘হ, একজন এখনও বাইচ্যা আছে মনে হয়। ব্যাডার কই মাছের জান।
‘সত্যি? আপনি তাকে চেনেন?’
‘একটা জায়গায় আপনে অনেকদিন থাকলে এমনেই সবাইরে চিন্না ফালাইবেন।
‘আচ্ছা, তাহলে তো আপনি জানেন তিনি কোথায়।
‘হ, জানি। ওই গ্রামেই থাকে মনে হয়। রেমি’র দিকে তাকাল ও ‘তয় এইহানকার ভাষা ছাড়া অন্য কিছু পারে না।’
‘আমাদেরকে তার কাছে নিয়ে যাবেন?’ রেমি প্রশ্ন করল।
গাড়ির দিকে তাকাল রুবো। বহুত রাস্তা।’
‘রাস্তা ভাল না?’
হাসল রুবো। আবার থুথু ফেলল। রাস্তাই নাই। আপনেগো ওই গাড়িতে চইড়া যাইবার পারবেন না।’
‘আচ্ছা, যদি বড় ট্রাক নিই তাহলে আপনি যাবেন আমাদের সাথে? আপনাকে সম্মানী দেব।’
রুবো প্রথমে স্যাম তারপর রেমি’র দিকে তাকাল। কত দিবেন?
‘সলোমন ডলারে নেবেন নাকি আমেরিকান ডলারে? স্যাম প্রশ্ন করল।
‘আমেরিকান।
‘আচ্ছা, বলুন কত হলে আপনার ন্যায্য সম্মানী হবে?
গভীরভাবে ভাবল রুবো। তারপর বলল, “১০০ আমেরিকান ডলার দিবেন।
ফারগো দম্পতি আর দর কষাকষি করতে গেল না! বেশ, দেব।’ ঘড়ি দেখল রেমি। শহর থেকে এখানে আসতে দেড় ঘণ্টা লাগে। নতুন একটা গাড়ি ভাড়া করে এখানে আসাটা বেশ তাড়াহুড়ো করে করতে হবে। আগামীকাল সকালে এসে আপনাকে নিয়ে যাব। ঠিক আছে?
ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল রুবো। দাঁতবিহীন মাঢ়ি বের করে হাসল। ১০০ ডলার।
.
২৭.
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
নিজের ইয়টে মুখ হাঁড়ি করে বসে আছে জেফরি গ্রিমস। তার থেকে কয়েক ফুট দূরে ইয়টের ক্যাপ্টেন দাঁড়িয়ে রয়েছে।
‘সব শালা চোর। পালিশের কী হাল! শিরিশ কাগজ দিয়ে ডলা দিলেও এরচেয়ে ভাল পালিশ করা যায়। এই চোরগুলোকে টাকা দেয়া হয় এরকম ফাঁকিবাজি করার জন্য?
‘স্যার, এরআগের কাজটাও আপনার পছন্দ ছিল না তাই আমি নতুন করে ইয়টটাকে পালিশ করিয়েছি। আপনার বন্ধুর পরামর্শ নিয়েই করেছি সব। এবার সবকিছু তো ঠিক হওয়ার কথা। বলল ক্যাপ্টেন।
‘কীসের ঠিক? দেখলেই তো মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। সিরিয়াসলি? এটা কোনো পালিশ হলো? ইয়টের পেছনের অংশে পা বাড়াল গ্রিমস। এদিকটা বেশ উজ্জ্বল ও সুন্দর করে বার্নিশ করা। যাক, চোরগুলো এই অংশের কাজ একটু ভাল করেছে। রীতিমতো অলৌকিক ঘটনা!’
হঠাৎ তার সেল ফোন বেজে উঠল। কোনো কলারের আইডি ফোন স্ক্রিনে ওঠেনি। শক্ত করে গেল গ্রিমসের পাকস্থলীর ক্যাপ্টেনকে বলল, এখন আপনি আসতে পারেন।
‘জি, স্যার।
ক্যাপ্টেন যথেষ্ট দূরের যাওয়ার আগপর্যন্ত গ্রিমস অপেক্ষা করল। হ্যাঁ, বলছি…
ফিল্টার করা যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর শোনা গেল ওপাশ থেকে। সব কাজ বেশ দ্রুত এগোচ্ছে।
গ্রিমস হতাশায় দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “আমি তো সেরকম কোনো নমুনা দেখতে পাচ্ছি না। আপনি পাচ্ছেন?
এরআগেও বলেছি, কোনো কিছু করতে হলে সময়ের প্রয়োজন। তবে আমি স্বীকার করছি, চাপ আরও বাড়ানো দরকার।’
গ্রিমস চারদিকে তাকিয়ে দেখে নিল ওর দিকে কেউ তাকিয়ে আছে কিনা। গলা নামিয়ে বলল, হঠাৎ করে এরকম কঠিন পদক্ষেপ নেয়াটা কি খুব জরুরী ছিল?
‘সেটা ফলাফলই বলে দেবে। ইতিহাস দেখুন, বড় অর্জনগুলো রক্ত না ঝরিয়ে সম্ভব হয়নি। এই ক্ষেত্রে বাদ যাবে কেন?
‘ওরা তো নির্দোষ এইড কর্মী ছিল।’
আপনি লাভের অংকটা ভুলে যাননি।
‘অবশ্যই ভুলিনি। আমি ভাবলাম… ওটা এই ব্যাপারে সেভাবে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।
