আপনারা তাহলে জাপান ফিরছিলেন?’ স্যাম জানতে চাইল।
হ্যাঁ। আমাদের ক্যাপ্টেনকে সেটাই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
কারণ?
ওয়াতানাবি মাথা নাড়ল। তা তো জানি না। আপনি যখন নাবিক হিসেবে কাজ করবেন যখন আপনাকে যা নির্দেশ দেয়া হবে সেটাই পালন করতে হবে।’
হাসল রেমি। আপনারা গোয়াডালক্যানেল থেকে শুধু মানুষই তুলেছিলেন?
‘হ্যাঁ।’ ভ্রু কুঁচকে গেল জাপানির। পালানোর মিশন ছিল ওটা।’
‘কোনো মাল কিংবা কারগো তোলার সম্ভাবনা ছিল আপনাদের জাহাজে?
প্রশ্নটা শুনে ওয়াতানাবি বোধহয় ধাঁধায় পড়ে গেছে। কী লাভ এনে? সৈনিকদের কাপড়-চোপড় ঘেঁড়া- ময়লা। পেটে ক্ষুধা। মুমূর্ষ অবস্থা ছিল ওদের।
‘কোনো কিছু লোড করার মতো সময় ছিল?
একটু ভেবে দেখল জাপানি না। কোনমতে সৈনিকদের তুলে নেয়া হয়েছিল।
হঠাৎ দরজা খুলে এক এশিয়ান নারী ঢুকল রুমে। তার বয়স প্রায় ৬০ বছর হবে। চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছে বেশ ক্ষিপ্ত।
‘এখানে কী করছেন?’ স্যাম ও রেমি’র দিকে তাকিয়ে কৈফিয়ত দাবি করল মহিলা। এমনভাবে প্রশ্নটা করল যেন ওরা দুজন মিলে লোকটাকে এতক্ষণ পেটাচ্ছিল।
‘আমরা জাস্ট কথা বলছিলাম। ওনার অনুমতি নিয়েই। বলতে গেল রেমি। কিন্তু মহিলার কারণে থেমে যেতে হলো।
কথা? কীসের কথা? আমার বাবার সাথে কীসের কথা আপনাদের?
মহিলার দিকে তাকিয়ে চুপসে গেল ওয়াতানাবি। যুদ্ধ নিয়ে কথা বলছিলাম।’
রেমি’র দিকে তাকাল মহিলা। মাথা নাড়ল। বহুত কথা বলেছেন। এবার আসুন। ওনার শরীরের অবস্থা ভাল না। অপরিচিত লোকদেরকে সেই ভয়ঙ্কর রাতের গল্প শোনানোর কোনো দরকার নেই।’
‘দুঃখিত। আমরা জাস্ট…’ বলমে গেল স্যাম।
কিন্তু মহিলা ওকে বলার সুযোগ দিল না। আসুন! উনি ক্লান্ত। দেখেছেন বাবার চেহারা? আপনাদের সমস্যাটা কী? নুন্যতম বিবেকবোধ নেই আপনাদের? নরক থেকে কোনমতে ফিরে এসেছে বাবা। ওনাকে শান্তিতে থাকতে দিন।’
দরজার দিকে এগোল ফারগো দম্পতি। আমরা কিন্তু ক্ষতি হতে পারে এমনকিছু করিনি বা করতে চাইনি। আস্তে করে বলল রেমি।
‘আমি বড় হতে হতে দেখেছি যুদ্ধ আমার বাবাকে কী করেছে। জাপান থেকে সরে এসেছে বাবা। দেশটাকে বাবা অনেক ভালবাসত। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে আর কখনও ফিরে যায়নি। আপনারা কী জানেন? কিছু জানেন না। জাস্ট… চলে যান। অনেক হয়েছে।
রেমিকে নিয়ে স্যাম বাইরে বেরোল। ওর মুখ শক্ত হয়ে আছে।
‘উনি বোধহয় ঠিকই বলেছেন। আমরা আসলে খুব বেশি কিছু জানি না। তাই না?
‘স্যাম, আমরা কিন্তু এরকম পরিস্থিতিতে প্রায়ই পড়ি। শোনোনা, ওয়াতানাবি’র সাথে আমাদেরকে কথা বলতে হবে। উনি ছাড়া আমাদের আর কোনো রাস্তা নেই।’
‘জানি। কিন্তু তার মেয়ে তো ক্ষেপে ভূত! বুড়ো লোকটাকে বিব্রত করলাম হয়তো।
‘ওয়াতানাবি’র কোনো আপত্তি নেই কিন্তু। যত আপত্তি তার মেয়ের। বাবাকে সামলে রাখতে চায়।’
স্যাম মাথা নাড়ল। তার দিকটাও আমি বুঝি।
‘স্যাম, আমরা ভুল কিছু করিনি। ‘তা তো জানি। কিন্তু কেন এরকম মনে হচ্ছে, ভুল করেছি?
২৬. হনিয়ারা ফিরে
২৬.
পরদিন বিকেলে স্যাম ও রেমি হনিয়ারা ফিরে দেখল রাস্তাঘাট ভেজা। একটু আগে বৃষ্টি হয়েছে। হোটেলের রুমে ঢুকে রেমি খেয়াল করল এক চিলতে হাসি ঝুলছে স্যামের ঠোঁটে।
কী ব্যাপার? প্রশ্ন করল ও।
‘গাড়ি নিয়ে ড্রাইভ করার জন্য আজকের দিনটা দারুণ।
চোখ সরু করল রেমি। “ও আচ্ছা, তাই? তোমার মতলবটা কী?
‘চলো আবার রুবো’র সাথে গিয়ে কথা বলি। দ্বীপে জাপানিদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তিনি হয়তো আমাদেরকে কিছু জানাতে পারবেন।
জানলেও বা কী! দেড় মাইল গভীর পানির নিচ থেকে জাহাজ কীভাবে তুলবে সেটাই প্রশ্ন।
‘তা ঠিক।’ স্যাম বলল। তবে আমাদের হাতে এখন করার মতো কিছু নেই। অবশ্য শিপে গিয়ে ডাইভারদের ডাইভ করা দেখা যায় কিন্তু সেটা তো কোনো কাজের কাজ হলো না, তাই না?
‘এরআগের বার ওদিকে যাওয়ার পর ফেরার সময় কিন্তু গাড়ি ছাড়া ফিরতে হয়েছিল, মনে আছে?’
কথা দিলাম। আর রাস্তা থেকে ছিটকে যাব না।
‘গুলিও ছোঁড়া হয়েছিল কিন্তু রেমি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আমার মনে হয় এসব নিয়ে কথা বলার কোনো মানে হয় না।
‘আমাদের কিছু হবে না।’ থামল স্যাম। খুব আগ্রহের সাথে বলল, সৈকতের পাশ দিয়ে ড্রাইভ করার চেয়ে মজার আর কী হতে পারে?
হয়েছে, ফারগো, হয়েছে।’
নাদান দৃষ্টিতে স্ত্রীর দিকে তাকাল স্যাম।
শহর থেকে বাইরে যাওয়ার পথে একটা রোডব্লকে পড়ল ওরা। পুলিশরা এখন অনেক আয়েশ করছে। তেমন কোনো কড়াকড়ি নেই। স্রেফ রুটিন ডিউটি দিচ্ছে।
কাঁচা রাস্তা শুরু হওয়ার পর গাড়ি ঝাঁকুনি খেতে শুরু করল।
‘স্যাম যা-ই করো, আমাকে কথা দাও, আমরা যেন আটকে না পড়ি।
‘আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
কী চেষ্টা করবে? কথা দেবে না? নাকি আটকে পড়বে না? কোনটা?
‘আশা করি, কোনোটাই নয়।’
‘তুমি আমাকে মানানোর চেষ্টা করছ না, আমরা কথার গুরুত্বও দিচ্ছ না।
রুবোর কুড়েঘরের সামনে পৌঁছুল ফারগো দম্পতি। রুবো ছায়ায় বসে নদীর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। গাড়ির শব্দ শুনে ওদের দিকে তাকাল রুবো। গাড়ি থেকে বের হয়ে রেমি হাত নাড়ল।
রুবো, আমরা আপনাকে বিরক্ত করছি না তো?
হাসল রুবো৷ না। বিরক্ত হমু ক্যান। আরও গল্প শুনাবেন?
