দীর্ঘশ্বাস ফেলল স্যাম। তুমি বললে একটা জাহাজ ঝড়ে ডুবে গিয়েছিল। ঠিক কোথায় ডুবেছিল সেটা বের করা সম্ভব?
‘তোমার আগেই আমি এটা নিয়ে চিন্তা করেছি। মিত্রদের নৌ-বাহিনির রিপোর্ট অনুযায়ী, নাবিকদেরকে যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল সেখান থেকে বৃত্তাকার ১৫ মাইলের মধ্যে জাহাজটা ডুবেছে। আর ঝড়ের গতি ছিল উত্তরদিকে।’ সেলমা ইতস্তত করছে। এটা ভাল খবর নয়।
“কেন?”
‘সাগরের ওই অংশের গভীরতা ১৬ থেকে ১৭ হাজার ফুট।
স্যাম যেন বুকে ধাক্কা খেল। তাহলে ওই জাহাজে যদি গুপ্তধন থেকে থাকে তাহলে সেগুলো ওখানেই থাকবে।’
‘তবে রেইজ দ্য টাইটানিক এর মতো যদি কিছু করতে চাও তাহলে ভিন্ন কথা।
নাহ, সম্ভব না। আমি এরকম খবরের আশা করিনি।’
এখানে আমার কোনো দোষ নেই কিন্তু।
‘গোয়াডালক্যানেল থেকে সৈনিক নিয়ে পালানোর সময় একটা ডেস্ট্রয়ার কেন নিরাপদ পথ ছেড়ে সমুদ্রের ওই পথ দিয়ে যাত্রা করতে গেল?’ বলল স্যাম ‘পোর্ট থেকে প্রায় ১০০ মাইল দূরে। কেন ঝড়-ঝঞ্ঝার পথ মাড়াতে গেল?
‘আমি আন্দাজ করেছিলাম তুমি এরকম প্রশ্ন করবে। ম্যাপ দেখো, অনেককিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে তাহলে।
‘কেন, সেলমা? কী আছে ওতে?
‘আমার মনে হয় না, ওটা বেজে নোঙ্গর করত। কারণ ডেস্ট্রয়ারটার কোর্স ছিল সোজা জাপানের দিকে।
.
২৫.
রাতে স্যাম ও রেমি ওদের ই-মেইলের ইনবক্স চেক করে দেখল। সেলমার কাছ থেকে একটা সংক্ষিপ্ত মেইল পেয়েছে স্যাম! ডুবে যাওয়া সেই ডেস্ট্রয়ার থেকে উদ্ধার পাওয়া একজনের খোঁজ করছে সেলমা। তার বয়স ৯০-এরও বেশি। একমাত্র সে-ই বেঁচে আছে। সময়ের ফেরে বাকিরা আর পৃথিবীতে নেই। স্যাম আশা করল আগামীকাল হয়তো সেলমা আরও বিস্তারিত তথ্য পাঠাবে। স্যাটেলাইট ফোন নিয়ে বারান্দায় গেল স্যাম! সেলমার ফোন দু’বার রিং হলো কিন্তু কেউ জবাব দিল না।
‘এখানে কী করছ?’ স্লাইডিং ডোর খুলে রেমি জানতে চাইল। হঠাৎ করে রেমি’র আওয়াজ পেয়ে স্যাম চমকে উঠেছে। ওর হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল। স্বামীর মুখভঙ্গি দেখে রেমি “সরি” বলল।
‘ব্যাপার না। হঠাৎ করে তোমার কথা শুনে চমকে গিয়েছি আরকী।
‘সেলমা?’
‘হ্যাঁ। চেষ্টা করলাম কিন্তু কেউ ফোন ধরল না।’ স্যামের হাত থেকে ফোনটা পড়ে গিয়ে বিচের বালুতে গিয়ে মুখ গুঁজেছে। সেদিকে তাকাল ও। ‘আমি এখুনি আসছি।
‘আমিও আসি?’
স্যাম হাসল। আজকের দিনের সেরা প্রস্তাব এটা!’
বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিচে গেল। বালুর উপর থেকে ফোনটা তুলল রেমি। স্যাম ওকে ফিসফিস করে বলল, “তাকিয়ো না। বিচে কয়েকজন লোককে দেখতে পাচ্ছি। নিজেদেরকে আড়াল করার খুব চেষ্টা করছে। আসছে এদিকে।
ঘাড় না ফিরিয়ে বালুর দিকে তাকাল রেমি! এইমাত্র ওদের পায়ের ছাপ পড়েছে বালুতে। আমাদের পেছনে?
হ্যাঁ।
‘তাহলে আমি সামনে থাকব।’
‘তাড়াতাড়ি হাঁটো। এই দ্বীপে এরকম সময়ে বাইরে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
রেমি’র পিছু পিছু দ্রুত এগোল স্যাম। কান খাড়া করে রাখল পেছনের আওয়াজ শোনার জন্য। ধারণা সঠিক। বালুতে দ্রুত স্যাণ্ডেল ওঠা-নামার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। স্যাম সাহস করে পেছনে তাকাল। দু’জন স্থানীয় লোক আসছে ওদের পিছু পিছু। দূরত্ব মাত্র ৩০-৪০ ফুট। খুব দ্রুত দূরত্ব কমে আসছে।’
‘রেমি দৌড়াও!’ বলল স্যাম। রেমি গ্ৰেহাউণ্ডের মতো গতি বাড়াল। দৌড়ের গতি বাড়াতে গিয়ে স্যাম টের পেল ওর জিম করার সময়টা আরও বাড়াতে হবে। হঠাৎ করে দ্রুতগতিতে এগোতে গিয়ে ফুসফুসে যেন আগুন ধরে গেছে।
হোটেলের স্টিলের দরজার কাছে পৌঁছে কি-কার্ড বের করল রেমি। কয়েক সেকেণ্ড পর স্যামও হাজির। কোনমতে কি-কার্ডটা স্ক্যান করাল মিসেস ফারগো। পেছনে তাকিয়ে দেখল লোক দুটো আর মাত্র কয়েক পা দূরে!
দরজা খুলতেই ভেতরে ঢুকে পড়ল ওরা। দরজা লাগিয়ে দিল। লবিতে থাকা এক গার্ড এগিয়ে এলো ওদের দিকে।
‘আপনেগো কুনো সমস্যা?
স্যাম ও রেমি একে অন্যের দিকে তাকাল। দু’জনই হাপাচ্ছে। মাথা নাড়ল স্যাম। না, ঠিক আছে। কিন্তু বাইরের বিচে গুণ্ডা টাইপের দু’জন লোক ছিল।
গার্ড হাতের ব্যাটন মারমুখী ভঙ্গিতে ধরে বলল। আপনাগো কিছু হয় নাই
না, হয়নি। তবে অল্পের জন্য বেঁচে গেছি।’ বলল রেমি।
‘এইহানে এইরাম টাইমে ভালা আচরণ পাইবেন না। বিশেষ কইর্যা রাইতে।’ গার্ড বলল। কী যেন বলল রেডিওতে। আমরা বিষয় দেখতাছি।
‘চলো, রেমি।’ স্ত্রীকে নিয়ে রুমে গেল স্যাম। বারান্দায় গিয়ে বিচের দিকে তাকাল। না, লোক দুটো নেই। শুধু তাদের পায়ের ছাপ আছে। সেটাও ধুয়ে যাচ্ছে সাগরের ঢেউয়ে।
‘চন্দ্রবিলাস করতে যাওয়াটা হয়তো ঠিক হয়নি। স্যাম বলল।
‘ফোনটা তো আনতেই হতো।
‘তা ঠিক। কিন্তু হাত থেকে পড়ে যাওয়াটাই তো অসাবধানতার পরিচয় দেয়। এই দ্বীপের অবস্থা ভাল নয়, বারবার ভুলে যাই বিষয়টা।
স্যামের বাহুতে মাথা রাখল রেমি। তাতে কী হয়েছে?
‘থাক, কিছু না।
পরদিন সকালে ওরা যখন ঘুম থেকে উঠল তখন গুঁড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। ইন্টারনেটে ঢুকল স্যাম। সেলমা আরেকটা মেসেজ পাঠিয়েছে। সিডনি থেকে ৪০ মাইল দক্ষিণের এক শহরের ঠিকানা দিয়েছে ও। সাথে এক ব্যক্তির নাম। স্যাম নাম ও ঠিকানা শব্দ করে উচ্চারণ করল যেন রেমি শুনতে পায়।
