ক্রুদেরকে ডেকে আনল স্যাম। দু’জন এইড-কর্মীর মৃত্যুর সংবাদ কুরা আগে থেকেই জানে। তাই এরকম পানিতে ভেসে থেকে, মাথায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হলেও ওরা ভয় পেল না।
স্যামের কথা শেষ হলে ওকে নিয়ে একপাশে সরে গেল লিও। নিচু গলায় বলল, তোমার কি মনে হয় আমাদের বিপদ হতে পারে?”
হলে ডাঙার চেয়ে কম হবে।’
‘খুব একটা ভরসা পাচ্ছি না।’
‘সবকিছুতেই ঝুঁকি থাকে। স্যাম শ্রাগ করল। আমার মনে হয় না, আমাদেরকে কেউ আক্রমণ করবে। কেউ যদি নজরদারি করে থাকে তাতে তো ক্ষতির কিছু নেই। তাছাড়া আমরা এমন এক অঞ্চলে অবস্থান করছি যেখানে বিদ্রোহীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিষয়টাকে হেলাফেলা করা যাবে না।’
পুরোটা দিন কেটে গেল ধীরে ধীরে। ডাইভাররা তাদের কাজ করছে। সন্ধ্যায় হোটেলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিল স্যাম ও রেমি। আরেকটা রাত জাহাজে কাটানোর দরকার নেই। রেডিওতে নতুন কোনো অঘটনের ঘটনা শোনা যায়নি। হনিয়ারার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত।
ওরা শহরে এসে দেখল গতকালের চেয়ে আজ যানবাহনের চলাচল বেশি। সবকিছু বেশ স্বাভাবিক লাগছে। আজও রাস্তায় পুলিশের দেখা মিলল। তবে তারা রিল্যাক্স করছে।
হোটেলের পার্কিং লট প্রায় ফাঁকা। তবুও সিকিউরিটি গার্ড তার দায়িত্ব পালন করছে। অতিথিগণ এখানকার অস্থিতিশীল পরিবেশে ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটানোর চেয়ে নিরাপদে সটকে পড়াই শ্রেয় ভেবেছে। সামনের দরজার কাছে গাড়ি পার্ক করল স্যাম। আজ লবি একদম খালি। শুধু দু’জন ডেস্ক স্টাফ রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন স্যামকে হাত দিয়ে ইশারা করে একটা চিরকূট ধরিয়ে দিল। মেসেজ। কাগজের দিকে এক পলক তাকিয়ে স্টাফকে ধন্যবাদ দিল স্যাম।
‘সেলমা ফোন করেছিল,’ বলল ও। ভাল লক্ষণ। তার মানে ও কিছু একটা পেয়েছে।’
‘আশা করা যায়।
রুমে গিয়ে স্যাম স্যাটেলাইট ফোন সাথে করে ছোট্ট বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। ২য় বার রিং হতেই ফোন ধরল সেলমা।
‘বেশ। তুমি মেসেজ পেয়েছ তাহলে সেলমা বলল।
‘অবশ্যই পেয়েছি।’
‘যুদ্ধের সময়ে জাপানিরা কোনো গুপ্তধন লটেছিল কিনা সেব্যাপারে আমি আমার বিভিন্ন সোর্সের রিপোর্ট ঘেঁটে দেখলাম। কিন্তু কিছু নেই। কিছু না। তারপর আমি খোঁজ করতে শুরু করলাম তাদের ব্যাপারে যারা বিভিন্ন গোপন বা অবৈধ ধন-রতুগুলো কিনে সংগ্রহ করে। কিন্তু তাতেও ফলাফলে কোনো পরিবর্তন এলো না। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, যদি জাপানিরা গুপ্তধন উদ্ধার করে থাকে তাহলে সেটা এখনও গোপন আছে। বলা যেতে পারে, যুদ্ধকালীন সময়ের অন্যতম বড় গোপন বিষয় এটা।’
‘খারাপ খবর।
‘জানি। তারপরও আমি আরও খোঁজ করে যাচ্ছি। সূত্রের খোঁজ করছি। যদি তোমাদের কোনো কাজে আসে…’
‘সেলমা, বেয়নেট থেকে প্রমাণিত হয়েছে জাপানিরা সেই কোষাগারে ঢুকেছিল। আর আমরা যা দেখে এসেছি… দেয়ালের গায়ের খাঁজেই যদি ওই পরিমাণ সোনা থাকে তাহলে মূল কোষাগারে না জানি কী পরিমাণ ধন-রত্ন ছিল।’
ঠিক। গোপনীয় ধন-রত্ন কেনা-বেচার ব্যাপারে খোঁজ নেয়ার পর তোমার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জাপানিদের দ্বীপ থেকে পালানোর বিষয়টা নিয়ে ঘাটতে শুরু করলাম। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখ।
তারপর?
যা যা পেয়েছি সেসব আমি তোমাকে ই-মেইল করে দেব। কিন্তু গোয়াডালক্যানেলের ওদিকে জাপানি নৌ-বাহিনির যাতায়াতের ব্যাপারে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন নৌ-যুদ্ধের রেকর্ড থাকলেও আমাদের যেটা দরকার সেটা নেই। আমাকে অনেক ঘাঁটতে হয়েছে।
‘তারমানে তুমি ইন্টারেস্টিং কিছু খুঁজে পেয়েছ?
হ্যাঁ। হয়তো এটা কিছুই নয় কিন্তু আমি জানতে পেরেছি মিত্রবাহিনির একটা জাহাজ কিছু জাপানি নাবিককে সলোমন সাগর থেকে উদ্ধার করেছিল। দিনটা হলো ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখ, সকাল বেলা। বিভিন্ন তথ্য মিলিয়ে যা দেখলাম, নাবিকদের ডেস্ট্রয়ার ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে গিয়েছিল। অধিকাংশ ক্রু মারা গিয়েছিল ডেস্ট্রয়ারের।
দাঁড়াও! আমি জাপানিদের চূড়ান্ত পলায়নের ব্যাপারে অনলাইনে পড়েছিলাম। সেখানে বলা আছে কোনো সূত্র না রেখেই গায়েব হয়ে গিয়েছিল তারা।
হয়তো। আমার প্রশ্ন হলো যুদ্ধের সময় মূল নৌ-বহরের সাথে না থেকে প্রায় ১০০ মাইল দূরে সলোমন সাগরে কোন জাহাজটা ছিল? কেন ছিল? আর জাহাজটার কোর্সও কিন্তু বুগেইনভিল আইল্যাণ্ডের দিকে ছিল না। সেলমা একটু থামল। অনলাইন থেকে এতটুকুই জানা গেছে।
‘তোমরা প্রশ্নের পেছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে সেলমা। আচ্ছা, তাহলে ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখের গোলমাল এই একটাই?
‘হ্যাঁ। রেকর্ড তো তা-ই বলে। ডেস্ট্রয়ার ডোবার ঘটনাটা চোখের আড়ালেই চলে যেত যদি আরেকটা জাহাজ সলোমন সাগরে না থাকত। কিন্তু এই উদ্ধারকারী জাহাজের ব্যাপারে কোনো তথ্য পেলাম না।
‘আশ্চর্য।
‘হ্যাঁ। টোকিও জাহাজটার কোনো ইতিহাসই রাখেনি।
যারা বেঁচেছিল তাদের কী খবর? কেউ কোনো স্মৃতিচারণমূলক কিছু লিখে যায়নি?
না। তাদের সবাইকে আটক করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জেল দেয়া। হয়েছিল।
‘তাহলে আমার প্রশ্নটা তো তুমি বুঝতেই পারছ…’
‘পারছি। বেঁচে যাওয়া নাবিকদের হদিস বের করার চেষ্টা করছি। তবে সময় লাগবে। জেলে যাওয়া নাবিকদের প্রত্যেকের নাম ও জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার তথ্য বের করতে হবে আমাকে। অনেকে যুদ্ধের শেষপর্যন্ত বেঁচে ছিল না। আর যারা বেঁচে ছিল তারা যদি আজও বেঁচে থাকে তাহলে থুরথুরে বুড়ো হয়ে গেছে। আর সেটা হওয়ার সম্ভবনা খুবই ক্ষীণ।
