‘আমি সেলমাকে বলেছি, জাপানিদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আমাকে যেন দেয়। পলায়নের সময় কোন কোন জাহাজ সেটার দায়িত্বে ছিল, যুদ্ধের পর জাপানিদের সম্পদ বিক্রির রেকর্ড ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেক কাজ করতে হবে সেলমাকে। কিন্তু সেলমা এরকম চ্যালেঞ্জ নিতেই পছন্দ করে। আমাদেরকে এসব তথ্য যদি কেউ সরবরাহ করতে পারে তাহলে সে হলো সেলমা।’
ডেকে গেল স্যাম ও রেমি। ডাইভাররা তাদের ডাইভিঙের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হঠাৎ কীসের ঝলকানি থেকে চোখকে বাঁচানোর জন্য হাত দিয়ে রেমি চোখ আড়াল করল। স্যাম লিও’র সাথে আস্তে আস্তে কথা বলছিল। রেমিকে এভাবে হাত উঁচু করতে দেখে বলল, কী হয়েছে?
রেমি মাথা নাড়ল। হয়তো কিছুই নয়। আমাদের গাড়ির ওখান থেকে কীসের ঝলকানি দেখতে পেলাম।
‘সূর্যের আলো গিয়ে গাড়ির কাঁচে পড়েছে বোধহয়। বলল রেমি।
ডেসের দিকে তাকাল স্যাম। ক্যাপ্টেন ডেস হাতে মগ নিয়ে কফি খাচ্ছে। ‘আপনার কাছে বাইনোকুলার টাইপের কিছু আছে?
সায় দিয়ে মাথা নাড়ল ডেস! পাইলটহাউজ থেকে একটা ওয়াটারপ্রুফ বুশনেল নিয়ে এলো।
বুশনেলের লেন্স দিয়ে পাড়ে তাকাল স্যাম। ডেসের হাতে জিনিসটা ফিরিয়ে দিয়ে বলল, আমাকে একটু পাড়ে যেতে হবে। লিফট পাব?’
ডেস মাথা নাড়ল। অবশ্যই। আমি নিজে আপনাকে লিফট দেব, চলুন।
রেমি’র দিকে ফিরল স্যাম। আমি এখুনি আসছি।’
‘আমিও তোমার সাথে যেতাম। কিন্তু যাব না।’ রেমি নিজের ঘাড় ডলতে উলতে বলল।
‘তুমি ঠিক আছে তো?
ঠিক আছি। রাতে হয়তো বেকায়দাভাবে শুয়েছিলাম।’ রেমি বলল। কিন্তু স্যাম ও রেমি কেউ-ই কথাটা বিশ্বাস করল না।
সমুদ্রে তেমন একটা ঢেউ নেই। কয়েক মিনিটের মধ্যে পোর্টে পৌঁছে গেল স্যাম।
ওদের গাড়িটা স্যাম যেভাবে রেখে গিয়েছিল এখনও ঠিক সেভাবেই রয়েছে। গ্যাস কম্পার্টমেন্ট পরীক্ষা করল স্যাম। না, কেউ অনাহুতভাবে প্রবেশের চেষ্টা করেনি। জানালাগুলোও সব ঠিকঠাক আছে। দরজাগুলো লকড। স্যাম এখন অনেক সতর্ক। পাশের জঙ্গলে কোনো নড়াচড়া শোনা যায় কিনা সেজন্য কান খাড়া করে রাখল ও।
বাতাসের ফলে গাছের মৃদু নড়াচড়ার আওয়াজ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই।
টয়োটা গাড়ির দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর স্কিফে চড়ল স্যাম।
তবে ও টয়োটার আশেপাশে টায়ারের টাটকা ছাপ দেখতে পেয়েছে।
রেমি’র আশংকা ভুল নয়। শিপের উপর নজর রাখছে কেউ।
.
২৪.
অরউন ম্যানচেস্টার ওয়াটারফ্রন্ট বারের পেছন দিকে বসে রয়েছে। পুরো বার এখন খালি। বারটেণ্ডার ছাড়া কেউ নেই। যখন কোনো গোপন মিটিং করার দরকার হয় তখন এখানে আসে ম্যানচেস্টার। বারটেণ্ডারকে ঘুষ দিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখে। দ্য রাস্টি শ্রিমপার নামের এই বারটা বিগত কয়েক দশক ধরে দ্বীপে মদ পরিবেশন করে আসছে। সারাদিন বন্ধ থাকে। খোলা থাকে শুধু রাতে। অবশ্য আজকের বিষয়টা ভিন্ন।
বিয়ার খেতে খেতে ঘড়ি চেক করল ম্যানচেস্টার। ওর সহকর্মী ও বিভিন্ন কুকর্মের সঙ্গী গর্ডন রোলিন্স দেখা করবে এখানে। ব্রিটিশ সরকারের গর্ভনর হিসেবে এককালে দায়িত্ব পালন করেছিল রোলিন্স। তাই একই সাথে ক্ষমতা ও অর্থ দুটোই আছে তার।
বারের পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকল রোলিন্স। কপালের সামনে হ্যাটটা নিচু করে পরে রয়েছে। এগিয়ে এলো ম্যানচেস্টারের টেবিলের দিকে! এক আঙুল দিয়ে বারটেণ্ডারকে ইশারা করল সে। বসল চেয়ারে। একটু পর বারটেণ্ডার একটা বোম্বে স্যাফায়ার গিবসন নিয়ে এলো। বারটেণ্ডার শ্রবণ-সীমার বাইরে যাওয়ার আগপর্যন্ত ওরা কেউ কথা বলল না।
‘অরউন, বিদ্রোহীদেরকে তো মনে হয় ঈশ্বর পাঠিয়েছেন। আমি বিদেশি অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখেছি। এরকম জাতীয়করণে ওরা খুশি নয় কিন্তু কিছু করার মতো অবস্থায় নেই তাদের।
সাবধানে মাথা নাড়ল ম্যানচেস্টার। তাতে আমাদের অবস্থায় কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
‘আমি আর আপনি সলোমন আইল্যাণ্ডের সম্পত্তির দখল পাব। আকর্ষণীয় মুনাফা হবে।’
হুম। আমি এই ধারণার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি বহু বছর হলো।
‘ওভাবেই থাকুন। পর্দার আড়ালে থেকে সব কাজ সারব আমি। উপযুক্ত সময় আসার আগপর্যন্ত নিজের জনদরদী, ভালমানুষী ভাবটা ধরে থাকুন। কাজে লাগবে। আপনি দীর্ঘদিন ধরে এর বিপক্ষে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন জনগণের সামনে। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে পড়ে যখন হার স্বীকার করে নেবেন তখন আর কারও কিছু বলার থাকবে না।
ম্যানচেস্টারের চোখ সরু হলো। আচ্ছা, আপনি কোনোভাবে এই বিদ্রোহীদের সাথে জড়িত না তো?’
শান্তভাবে ওকে পর্যবেক্ষণ করল রোলিন্স। অবশ্যই নয়। কিন্তু আমি জানি কীভাবে কোন সুযোগকে কাজে লাগাতে হয়। বিদ্রোহীদের কাজের ধারাকে আমি সমর্থন করি কি করি না সেটা বিষয় নয়। ওরা সরকারকে জাতীয়করণের ব্যাপারে আলোচনায় বসতে বলেছে, এটাই মূখ্য। ছয় মাস আগেও এসব অসম্ভব ছিল কিন্তু এখন সম্ভব হলেও হতে পারে। আর এই সুযোগে কীভাবে পকেট ভারি করা যায় সেটাই ভাবছি আমি।’
বিয়ারে চুমুক দিয়ে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকাল অরউন। বলুন, শুনছি…’
***
ডারউইন-এ ফিরে রেমিকে সব খুলে বলল স্যাম। রেমি প্রস্তাব রাখল শিপের সব ক্রুদেরকে ডেকে নিয়ে সর্তক করে দেয়া উচিত। হয়তো কোনো উৎসুক স্থানীয় বাসিন্দা পোর্টে এসে নিরীহভাবে সময় পার করছিল। হয়তো বিষয়টা গুরুত্বর কিছুই নয়। তারপরও সতর্ক থাকা দরকার।
