‘আমি হলে ধন-রত্ন সব নিয়ে এই দ্বীপ থেকে সটকে যেতে চাইতাম।
‘ঠিক। শত্রুপক্ষ তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে আক্রমণ করছে, এরকম অবস্থায় “দ্বীপ থেকে রত্ন নিয়ে পালিয়ে যাওয়া” মুখে বলা যতটা সহজ কাজে করে দেখানো ততটাই কঠিন। ভ্রু কুঁচকে কী যেন ভাবল স্যাম। আরেকটা বিষয় আছে। যেখানে তারা ডাইভ দিয়েছিল নিশ্চয়ই একটা জাহাজকে ওখানে কয়েক সপ্তাহ নোঙর করে রাখতে হয়েছে? বিষয়টা শত্রুপক্ষের চোখে খুব সহজেই ধরা পড়ে যাওয়া কথা।
‘সেক্ষেত্রে আমরা ধরে নিতে পারি নোঙর করা জাহাজটা জাপানিদের অফিশিয়াল কোনো জাহাজ ছিল না।
স্যাম মাথা নেড়ে সায় দিল। সেটা এমন কিছু ছিল যা দেখতে সাধারণ জাহাজের মতো। যুদ্ধজাহাজ হলে বিপক্ষের আক্রমণে সাগরে ডুবে যেত জাহাজটা।
ভ্রু কুঁচকাল রেমি। পানির নিচে কোনো ডুবে যাওয়া জাহাজ নেই। তার মানে তুমি কী বলতে চাইছ? জাপানিরা গুপ্তধন পানি থেকে তুলে এখান থেকে স্রেফ গায়েব হয়ে গেছে?
স্যাম মাথা নাড়ল। হতে পারে। প্রতিপক্ষ খুব কড়া পাহারা দিচ্ছিল সেসময়। সৈন্যদের জন্য দ্বীপে রসদ পর্যন্ত আসতে পারছিল না তখন। অবশ্য তারা যে জাহাজই ব্যবহার করে থাকুক সেটা যদি ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে কিংবা যদি সার্চ হয় তাহলে সব শেষ। এত বড় ক্ষতি পোষানোর কোনো উপায় ছিল না জাপানিদের। তাই লুটে নেয়া গুপ্তধন নিয়ে উন্মুক্ত সমুদ্রে যাত্রা করাটা খুব বেশি ঝুঁকি ছিল তাদের জন্য।
তাহলে?
মাথা খাটাও। তোমার কাছে গুপ্তধন আছে, ক্ষুধায় ভুগছ। ওদিকে দ্বীপে শত্রুপক্ষ চলে এসেছে। কোনো জাহাজকে আসতে দিচ্ছে না তোমাদের কাছে। সাগরের পাড় জুড়ে জাপানিজ জাহাজ আর নৌকোর ধ্বংসস্তূপে মাখামাখি। দিনের বেলায় সাগরে কড়া পাহারা চলছে। তাহলে তুমি কী করতে?
রেমি একমুহূর্ত ভাবল। সাবমেরিন!
‘হ্যাঁ। একটা সম্ভাব্য উপায় হতে পারে। কিন্তু ওতে খুব ঝুঁকি থাকে। পরিকল্পনা মাফিক কিছু না হলে, কোথাও বাড়তি সময় লেগে গেলে সব গড়বড় হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া পাড়ের কাছে সাবমেরিন আনা খুব কঠিন। তবে রাতে সম্ভব। কিন্তু পাড়ে তো বিভিন্ন জাহাজ ডুবে রয়েছে। তাদের সাথে সংঘর্ষ এড়ানোটা প্রায় অসম্ভব।’
তাহলে আমি নিরাপদ সময় পাওয়ার আগপর্যন্ত গুপ্তধনগুলো লুকিয়ে রাখতাম।’
‘আচ্ছা, মানলাম। কিন্তু কীভাবে? প্রতিপক্ষ তো হাল ছাড়বে না। তুমি যতই দেশপ্রেমিক হও না কেন, প্রকৃত সত্য হলো, জাপান এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ কখনই আজীবন ধরে রাখতে পারবে না।’
‘তাহলে… তাহলে আমি একটু বড় সুযোগের অপেক্ষায় থাকতাম। সুযোগ বুঝে কেটে পড়তাম এখান থেকে।
‘হলো না। দ্বীপে সৈনিকদের কার্যবিধির ধারাবাহিকতার দিকে খেয়াল করলে দেখা যায় মাত্র একটা উপায় ছিল এখান থেকে প্রাণ হাতে নিয়ে ফেরার।
কী সেটা…?
‘চুড়ান্ত পলায়নের সময়। কোনো এক কারণে প্রতিপক্ষ জাপানিদেরকে সেই পিছু হটার সময় বাধা দেয়নি। একপ্রকার বিনা চ্যালেঞ্জে দ্বীপ ছেড়েছিল জাপানি সৈন্যরা।
‘প্রতিপক্ষ কেন বাধা দিল না?’
“আমি যতদূর জানি, প্রতিপক্ষ ভেবেছিল সামনে বড় কোনো আক্রমণ হতে যাচ্ছে। তাই সমস্ত নৌ-বহর কোরাল সমুদ্রে অবস্থান নিয়েছিল তখন। জাপানিজদেরকে উন্মুক্ত সমুদ্রে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে গিনিপিগ বানিয়েছিল। কেউ আক্রমণ করে কিনা সেটা দেখার জন্য।’
‘তোমার জ্ঞান আমার পছন্দ হলো না। এরচেয়ে আমার সাবমেরিন তত্ত্বই ভাল।”
‘জানি। কিন্তু সলোমনের এদিকে জাপানিজ সাবমেরিন ছিল না বললেই চলে। অন্তত আমাদের জানা নেই। নিজের চোয়ালে হাত বুলাল স্যাম, মাথা নাড়ল। এছাড়া জাপানিজ সাবমেরিনে মাল রাখার মতো জায়গা খুব কম ছিল।’
বুঝলাম।
স্যাম দাঁত বের করে হাসল। ধরা যাক, পানির নিচে থাকা ইমারতগুলোর খোঁজ পেতে বেশকিছু সময় লেগেছিল জাপানিদের। তবে ইমারতগুলো দেখা ও গুপ্তধন উদ্ধার করার জন্য বেশ ভাল পরিমাণ সময় ছিল তাদের হাতে। আমরা এখন যে পরিমাণ সামুদ্রিক জঞ্জাল সাফ করছি, এটা তাদের মোকাবেলা করতে হয়নি। তাদের কাজ তুলনামূলক দ্রুত এগিয়েছিল। দেয়াল থেকে সোনা আর মূল কোষাগার থেকে কী তুলে নিয়েছিল কে জানে। আমরা জেনেছি বেয়নেটটা যে সৈন্যবাহিনির তারা দ্বীপে এসেছিল সেপ্টেম্বরে। ধরলাম, ১ মাসের মধ্যে তারা গুপ্তধন লুটে নেয়ার কাজ সেরেছিল। তাহলে ততদিনে অক্টোবর মাস গড়িয়েছে। পুরোদমে যুদ্ধ চলছে তখন। দু’পক্ষের অনেক জাহাজ ধ্বংস হয়ে গেছে। এবার ভাবো, তখনকার সময়কে দ্বীপ থেকে গুপ্তধন সরানোর জন্য উপযুক্ত সময় বলে মনে হচ্ছে কি?
গলা পরিষ্কার করল রেমি। হয়তো না। কিন্তু অনেক কিন্তু আছে এখানে।
‘আমি জানি। কিন্তু সময়কালটা দেখো। চূড়ান্ত পলায়নের সময়টা ছাড়া অন্য কোনোসময় দ্বীপ থেকে সটকে পড়াটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।’
রেমি ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল। একমত। তবে তোমার আগের পয়েন্টটা ভাল ছিল। যদি গুপ্তধন উদ্ধার হয়েই থাকে তাহলে অতদিন লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। গুপ্তধনের ঘটনা প্রচার পেল না কেন? গোপন জিনিস বেশিদিন গোপন থাকে না। আমার ধারণা, যুদ্ধে জাপানিদের অনেক খরচ হয়েছিল। এই গুপ্তধন বিক্রি করে সেটা পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করার কথা তাদের।
