.
২৩.
স্যামের পাঠানো ছবিগুলো পাওয়ার দু’ঘণ্টা পর ফোন করল সেলমা। রেমি ও স্যাম ব্রিজ থেকে ডাইভারদের কাজ দেখছে। প্রথম চেম্বারে ঢুকেছে ডাইভাররা। কাজের গতি বেশ ধীর। সামুদ্রিক আগাছাগুলো পরিষ্কার করার পর অনেকক্ষণ পানিতে মেঘের মতো ভেসে থাকার ফলে কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এভাবে দেড় ঘণ্টা কাজ করার পর ক্যাপ্টেন ডেস একটা পান্থ বসিয়ে জঞ্জালগুলো শুষে নেয়ার বুদ্ধি বের করল। পাম্ব ব্যবহার করে আলগা জঞ্জালগুলোর অধিকাংশই সরিয়ে ফেলায় গতি এলো কাজে।
‘তোমাদের ভাগ্য ভাল। বলল সেলমা ‘ মিল্টন গ্রেগরি হলেন ২য় বিশ্বযুদ্ধের অস্ত্র সম্পর্কে জানা অন্যতম জ্ঞানী ব্যক্তি। তোমার দেয়া হ্যাঁন্ডেলের ছবিটার পরিচয় বের করতে তার খুব একটা সময় লাগেনি।
তিনি কী বললেন? স্যাম জানতে চাইল।
‘জাপানিজ আর্মি। টাইপ ৩০ বেয়নেট। হয়তো আরিসাকা রাইফেলের ডগায় ছিল ওটা। এই রাইফালটা জাপানিজ সৈনরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করত।’
উনি নিশ্চিত?
‘একদম। মিত্রপক্ষের বেয়নেটের হ্যাঁণ্ডেল ভিন্ন রকমের ছিল। আরেকটা কথা: হ্যাঁন্ডেলের শেষ প্রান্তের দিকে খেয়াল করলে একটা ঝাপসা চিহ্ন দেখতে পাবে। যার নাম : আওবা।’
কী?
‘জাপানিজ রেজিমেন্টের নাম। গোয়াডালক্যানেলে পাঠানো তৃতীয় ব্যাটেলিয়ন, চতুর্থ পদাতিক রেজিমেন্ট। দ্য আওবা রেজিমেন্ট।
এই রেজিমেন্ট কবে এসেছিল?
১৯৪২ সালের সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখ।
কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল স্যাম। আপনমনে মাথা নেড়ে মনিটর থেকে চোখ সরাল।
‘সেলমা, তোমাকে একটা কাজ দেব।
‘আন্দাজ করেছিলাম, দেবে।’
‘তোমার আন্দাজ সঠিক। গোয়াডালক্যানেলে জাপানিদের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাই। কমাণ্ডে কে ছিল? কতজন সৈন্য এসেছিল এখানে? কবে এখান থেকে পালিয়ে গেছে? কীভাবে পালিয়েছে? সবকিছু জানতে চাই।
কতখানি বিস্তারিত জানতে চাও?
‘তুমি যা পাও সব আমাকে দেবে। সব তথ্যের সাথে একটা সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও দিয়ে।
‘দেব।’
‘কতদিন লাগবে?
‘আমি পিট ও ওয়েণ্ডিকেও কাজে লাগিয়ে দিচ্ছি। কখন লাগবে তোমার?
বরাবরের মতো।
মানে, গতকাল? তাহলে গতকাল দেই?
স্যাম হাসল। তবুও একটু দেরি হয়ে যাবে!’
“ঠিক আছে। খুব শীঘ্রই পেয়ে যাবে।’
স্যামের কথা বলা দেখছিল রেমি। আমার ধারণা, জাপানিজ। ঠিক? বলল সে।
‘ স্যাম মাথা নাড়ল। হুম। কিন্তু তাদের ব্যাপারে তথ্য যোগাড় করা কঠিন হবে বলে মনে হচ্ছে।’
ইতিহাস বিজয়ীদের হাতে রচিত।
‘ঠিক বলেছ। জাপানীরা হেরেছিল ২য় বিশ্বযুদ্ধে। এনসাইক্লোপিডিয়াতে জাপানিজদের অপারেশনের রেকর্ড হয়তো নেই।
হুম। তবে ভাগ্য ভাল হলে কোনো সূত্র পেয়েও যেতে পারি।
সূর্যের আলোতে সাগরের পানি চিকচিক করছে। সেদিকে তাকিয়ে আছে স্যাম। চিন্তা করে দেখো, কীভাবে কাজটা করেছিল তারা। যুদ্ধের সময়ে দিনের পর দিন ভাইভ দিয়েছে। হরদম শত্রু বাহিনির হামলা চলছিল তখন। আদিকালের স্কুবা আর তামার তৈরি ডাইভিং হেলমেট ব্যবহার করতে হয়েছিল তাদের। অনেকটা জুল ভার্নের গল্পের মতো।
তবে যা-ই হোক, সফল হয়েছিল তারা। দেয়ালের দিকে একবার তাকালেই সেটার প্রমাণ পাওয়া যায়।
স্যাম চিন্তিতভাবে মনিটরের দিকে তাকাল। কিছু বলার নেই।’
রাত নামা পর্যন্ত কাজ করল ডাইভাররা। পাম্প ব্যবহার করে জঞ্জাল পরিষ্কার করা হলেও আশানুরূপ গতিতে কাজ এগোল না। লিও কিছুটা অস্থির হয়ে উঠল।
ডিনারে গ্যালিতে জড়ো হলো ডাইভার টিমের সবাই। টাটকা মাছ দিয়ে ডিনার সারতে সারতে হাসি-ঠাট্টায় মেতে রইল।
ক্যাপ্টেন ডেস স্থানীয় রেডিও ব্যাণ্ড টিউন করে রেখেছে। সর্বশেষ খবরা খবর জানা দরকার। রেডিও’র সংবাদ পাঠক জানাল, বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা করার অপরাধে এপর্যন্ত ২০ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে বিদ্রোহীদের ব্যাপারে কোনো নতুন তথ্য জানা যায়নি। তাই বলা যায়, খুনের পর আপাতত ঘাপটি মেরে রয়েছে তারা।
পরদিন সকালে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার স্যাম ওর ই-মেইল চেক করল। সেলমা একটা ফাইল মেইল করেছে। ফাইলটা ডাউনলোড করে পৃষ্ঠাগুলো পড়তে শুরু করল স্যাম। ওদিকে রেমি আরেক কাপ কফিতে চুমুক দিচ্ছে। ফাইলটা পড়া শেষে রেমিকে ফাইলটার ব্যাপারে সংক্ষেপে ধারণা দিল স্যাম।
‘জাপানিরা এখানে ওদের সৈন্যদের জন্য পর্যাপ্ত রসদ পাঠাতে গিয়ে প্রচুর ভুগেছে। মূলত এজন্যই এখান থেকে কেটে পড়তে হয়েছিল তাদেরকে। জাহাজে চড়ে যেসব সৈন্যরা ফিরছিল তাদের সবাই ছিল অসুস্থ। ক্ষুধায় কাহিল। এছাড়া আমাশয় ও পুষ্টিহীনতাসহ নানান অসুখে আক্রান্ত ছিল তারা।
এই দ্বীপ কতদিন জাপানিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল?
মাত্র ৭ মাসের মতো। ১৯৪২ সালের জুন থেকে ১৯৪৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। যুদ্ধের সবচেয়ে তিক্ত সময় ছিল তখন!
‘তাহলে আমাদেরকে স্রেফ ওই ৭ মাসের ব্যাপারে খোঁজ নিতে হবে। কাজ কমে গেল দেখা যায়।
না। জাপানিদের দিক থেকেও কিছু রেকর্ড আছে।
‘তা ঠিক। কিন্তু যেহেতু আমরা জানি এখানে গুপ্তধন ছিল এবং তারা সেটা তুলে নিয়েছে, এখন প্রশ্ন হলো তারপর কী হলো? যুদ্ধের পর কেন বিষয়টা সামনে এলো না?
‘আচ্ছা, নিজেকে দিয়ে হিসেব করো। যদি তুমি এরকম সোনা খুঁজে পেতে কিংবা মূল্যবান রত্ন… যা-ই হোক, কী করতে তুমি? মনে রেখো, তুমি এমন এক জায়গায় আছে যেখানে প্রতিদিন যুদ্ধ হচ্ছে। তোমার দল হেরে যাচ্ছে যুদ্ধে। খাদ্যের অভাবে ভুগছে সবাই। দলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
