১০ মিনিটের মধ্যে ওরা ওদের ডাইভিং গিয়ার ছেড়ে, শরীর মুছে শর্টর্স ও টি-শার্ট পরে নিল। কোন পদ্ধতিতে এগোলে সবচেয়ে ভাল হবে সেটা নিয়ে আলোচনা সেরে পাইলট হাউজে ফিরল স্যাম ও রেমি। লিও মনিটরের সামনে বসে রয়েছে। বরাবরের মতো হাঁড়ির মতো মুখ করে রেখেছে সেটা বলাই বাহুল্য।
ওর পাশে বসে ভূমিকম্প ও কীভাবে অল্পের জন্য প্রাণ নিয়ে ফিরে এসেছে সেসব খুলে বলল স্যাম।
‘তোমাদের কপাল ভাল।
‘আমাদের কপাল এরকমই। দেবতাদের ধন্যবাদ। স্যাম থামল। তুমি একটা থিওরি দিয়েছিলে… ভূমিকম্পের কারণে ইমরাতগুলো ক্ষয়ে যাচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে তোমার থিওরিটা ঠিক। একটু আগে যে ভূমিকম্প হলো ওটা কিন্তু খুব বড় ছিল না। কিন্তু আমাদেরকে বেকায়দা ফেলতে ও ইমারতের ক্ষতি করার জন্য যথেষ্ট ছিল।
‘তুমি বাকি সবাইকে পানি থেকে উঠে আসতে বলেছ কেন? জানতে চাইল লিও। ওরা তো ইমারতের বাইরে ছিল। কিছু টেরই পায়নি।
‘ওদেরকে উঠে আসতে বলেছি কারণ ভেতরে গিয়ে আমরা যা দেখে এসেছি সেটা নিয়ে আমি আলোচনা করতে চাই। আর এক আলোচনা দু’বার করাটা আমার পছন্দ নয়।’
ওয়ারেন ও ডেস ইতিমধ্যে হাজির হয়ে গেছে। ডাইভ টিমের বাকিরাও হাজির। সবাই দাঁড়িয়ে রয়েছে। স্যাম ও রেমি কী বলবে সেটা শোনার অপেক্ষায় আছে সবাই। স্যাম নিজের গলা পরিষ্কার করে নিল। রুমে থাকা সবার উপর দিয়ে ধীরে ধীরে চোখ বুলিয়ে নিয়ে লিও’র উপর এসে থামল ও।
‘একটা জিনিস পেয়েছে রেমি। যা সবকিছু বদলে দিয়েছে।
কী?
রেমি বাধা দিল। প্রথমে জানিয়ে রাখি আমরা কী পাইনি। কোনো গুপ্তধন পাইনি আমরা।’
কাঁধ ঝাঁকাল লিও। কিন্তু ভেতরে বৈঠকখানার মতো একটা বড় চেম্বার আছে। গভীর আঁজ কাটা রয়েছে সেটার দেয়ালে। পুরোটা পরিষ্কার করার আগে বলা মুশকিল কিন্তু আমি মনে করি ওই ভবনটা হলো মূল মন্দির। আর চেম্বারটা হলো রত্ন রাখার কোষাগার। অর্থাৎ, ট্রেজার ভল্ট।
‘দেয়ালের গায়ে খাজ কাটা?’ ডেসের কণ্ঠ শুনে মনে হচ্ছে সে বিষয়টা ঠিক বুঝতে পারছে না।
‘হ্যাঁ।’ বলল স্যাম। পাথরের দেয়ালের গায়ে খাজ কাটা। আমার ধারণা পুরো দেয়ালটা পরিষ্কার করলে আমরা চিত্রকর্ম দেখতে পাব। হয়তো কোনো পবিত্র স্থানের ছবি কিংবা দেবতাদের ছবি আঁকা আছে দেয়ালে।
‘এত নিশ্চিত হচ্ছ কীভাবে? জানতে চাইল লিও।
রেমি চোখের এক ভ্রু উঁচু করল। কারণ খাজগুলো সোনা দিয়ে ভরা ছিল।
‘সোনা! অনেকটা বোকার মতো উচ্চস্বরে বলে উঠল ওয়ারেন।
এবার লিও দ্বিধায় পড়ে গেছে। একটু আগেই তো তুমি বললে কোনো গুপ্তধন নেই।’
মাথা নাড়ল রেমি। ঠিকই বলেছি। খাঁজের গায়ে অল্প কিছু সোনা রয়ে গেছে। তুলে ফেলা হয়েছে বাকিটুকু। ওরা সবটুকু তুলে নিতে পারেনি।’
‘ওরা? তারমানে আমাদের আগেই কেউ মন্দিরে ঢুকেছিল? লিও জানতে চাইল।
‘ঠিক ধরেছ। দেয়ালের গায়ে সেটার প্রমাণও আছে। সোনা তোলার সময় ওরা কোনো সাবধানতা অবলম্বন কিংবা যত্নবান হওয়ার প্রয়োজনবোধ করেনি। তাই দেয়ালের গায়ে চিহ্ন ফেলে গেছে। ওখানে নিজেদের উপস্থিতি লুকোনোর কোনো চেষ্টাই করেনি তারা। বলল রেমি।
‘বুঝলাম। কিন্তু এরকম একটা জিনিসের খোঁজ পেয়েও তারা কাউকে জানাল না? এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?
‘হ্যাঁ, খটকাটা তো এখানেই। খাজ থেকে সোনা তুলতে এক দল ডাইভারদের কমপক্ষে কয়েক সপ্তাহ লেগেছে।’
লিও মাথা নাড়ল। আমি বুঝতে পারছি না। কারা আমাদেরকে হারিয়ে দিল?”
লিও’র দিকে তাকাল স্যাম। সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না… তবে রেমি একটা ক্লু পেয়েছে।’
ক্লু? ওয়ারেন প্রশ্ন করল।
“হ্যাঁ, ক্লু। নিজের ডাইভিং ব্যাগের দিকে এগোল স্যাম। ছুরির সেই হাতলটা বের করে সবার দেখার সুবিধার্থে বেশ কিছুক্ষণ সামনে ধরে রাখল। একটু কাছে এগিয়ে এসে দেখল সবাই। সবার আগে লিও প্রতিক্রিয়া জানাল।
কী এটা? কোনো বাতিল জিনিসের অংশ?
বাতিল নয়, লিও।’
‘একটা কাঠের টুকরো পেয়েছ? তাছাড়া আর কী?
হতাশা মিশ্রিত দৃষ্টিতে লিও’র দিকে তাকাল স্যাম। একজন বিজ্ঞানী হয়ে তুমি আসল প্রশ্নটাই করোনি।
কী সেটা?’ ভ্রূকুটি করল লিও।
‘স্যাম কেন পানির নিচ থেকে একটা বাতিল জিনিসের টুকরো এসে সবাইকে মিটিঙে ডাকবে?’ রেমি বলল।
দাঁত বের করে হাসল স্যাম। “ঠিক। এটাই হচ্ছে আসল প্রশ্ন।
‘এবার উত্তরটা বলো। নাকি এটাও আমাদেরকে আন্দাজ করে নিতে হবে?
স্যাম দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই জীর্ণ কাঠের টুকরোটিকে এখানে নিয়ে আসার কারণ একটাই। আমি যখন জিনিসটা তুলতে গিয়েছিলাম এই অংশটুকু ছাড়া বাকিটুকু খণ্ড খণ্ড হয়ে ভেঙ্গে গিয়েছিল। আমার মনে হচ্ছে এটা একটা ভাঙ্গা বেয়নেটের অংশ। ভাঙ্গা বলছি এই কারণে… হয়তো এই বেয়নেট ব্যবহার করে দেয়াল থেকে সোনা লুট করা হয়েছিল। তারপর লুটের কোনো একপর্যায়ে ভেঙ্গে গেছে।
‘যদি ভেঙ্গেই গিয়ে থাকে তাহলে কীভাবে নিশ্চিত হচ্ছেন এটা বেয়নেটের? জানতে চাইল ডেস।
কাঠের টুকরোটাকে কাছে নিয়ে দেখুন। বেয়নেটের হাতলের অংশ দেখতে পাবেন।’
আর আমার মনে হয়, রেমি বলল, হয়তো এটার সাথে ২য় বিশ্ব যুদ্ধের সময় এখানে আসা সৈন্যবাহিনির বেয়নেট মিলে যাবে।’
‘এই গুপ্তধন সেই যুদ্ধের সময় তোলা হয়েছিল? ধীরে ধীরে বললেন
রেমি সায় দিয়ে মাথা নাড়ল। তবে কাজটা মিত্রবাহিনি লোক করেছে নাকি জাপানিরা করেছে সেটা এখুনি বলা যাচ্ছে না। কারণ আমি নিজে অ্যান্টিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই। তবে খুব শীঘ্রই আমি এটার ছবি বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাব। তারপর আমরা জানতে পারব কারা এখান থেকে সোনা সরিয়েছে। যদি খাজগুলোর পুরোটা সোনায় ভর্তি হয়ে থেকে থাকে তাহলে সোনার পরিমাণ নেহাত কম নয়।
