পরিষ্কার করতে করতে আরেকটা রেখা পেল স্যাম। একটার সাথে আরেকটা এসে মিলিত হয়েছে। দুই মিনিট পর ৩-৪ ফুট সেকশন স্যাম পরিষ্কার করে ফেলল। ভাল করে তাকিয়ে দেখল কিছু একটা আঁকা হয়েছে রেখার সাহায্যে।
কী যেন ঝকমক করে উঠল। দেয়ালের আরও কাছে তাকাল স্যাম। দেয়াল থেকে ওর মুখের দূরত্ব এখন মাত্র ১ ইঞ্চি। লাইট ধরতেই আবার ঝিকিয়ে উঠল জায়গাটা।
ওর পাশে রয়েছে রেমি, মেঝে পরিষ্কার করছে। আগাছার জঞ্জাল পানিতে মিশে পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল রেমি। তারপর স্যামের হাতে টোকা দিল। ঘুরল স্যাম। রেমি মেঝের দিকে ইঙ্গিত করে কী যেন দেখতে বলছে। পানি এখনও ভালভাবে পরিষ্কার হয়নি। স্যাম নিজের লাইট ধরল ওদিকে।
জিনিসটা চোখে পড়তেই স্যামের চোখ বড় বড় হয়ে গেল। একটা বড় ছুরি বলে মনে হচ্ছে।
ছুরিটা তুলল স্যাম। কিন্তু ওঠানোর সময় ওটার ফলার বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে খণ্ড খণ্ড হয়ে গেল। অবশিষ্ট যেটুকু রইল সেটাকে একটা জীর্ণ কাঠের টুকরো ছাড়া কিছু বলা যাবে না। ছুরির হাতল। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে রেমি’র দিকে ফিরল স্যাম। রেমি রেখাগুলো দেখছে। স্ত্রীকে নিয়ে দেয়ালের আরও কাছে গেল স্যাম। ঝিকিয়ে ওঠা জিনিসটা দেখাল তাকে। রেমি ইঞ্চিখানেক গভীর রেখা ছুঁয়ে দেখল।
দেয়ালের আরও কিছু অংশ পরিষ্কার করার পর হাতঘড়ি ও এয়ার গজ চেক করল স্যাম। রেমিও করল। স্যামকে সংকেত দিল উপরে যেতে হবে। অক্সিজেন শেষ হয়ে আসছে।
ওরা ফিরছে এমন সময় মৃদু গুড় গুড় আওয়াজ করে কেঁপে উঠল পুরো ইমারত। উপরের চেম্বারের কয়েকটা বড় ব্লক স্থানচ্যুত হল। ছোট আকারের ভূমিকম্প হচ্ছে। কম্পন থামা পর্যন্ত স্থির হয়ে রইল ফারগো দম্পতি। সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার পর দেখা গেল কোনোকিছু পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে না। তলানিতে থাকা বালু পানিতে মিশে পানি ঘোলা করে দিয়েছে। ওরা যে ফাঁক দিয়ে এখানে এসেছিল সেদিকে তাকিয়ে দেখল ব্লক স্থানচ্যুত হওয়ার ফলে ফাঁকটা বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থাৎ, ওদের ফেরার পথ নেই।
স্যাম ফ্ল্যাশলাইট দিয়ে আশপাশ দেখল। আরেকটা রাস্তা খুঁজছে। চেম্বারের একদম অন্যপ্রান্ত বেশ অন্ধকার দেখাচ্ছে। ভূমিকম্পের আগে ওখানে হয়ত দেয়াল ছিল। নতুন ফাঁকা অংশ দেখিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে সেদিকে এগোল স্যাম। সামনে গিয়ে দেখল ওটা একটা প্যাসেজ। পুরো প্যাসেজ সামুদ্রিক আগাছা ও জঞ্জালে বোঝাই। পানিতে আগাছার বিভিন্ন অংশ মিশে সবুজ ধোয়ার মতো তৈরি করে রেখেছে। রেমি’র দিকে তাকাল স্যাম। এয়ার গজ চেক করল। রেমিও চেক করল নিজেরটা। স্যামকে সংকেত দিল: মোটামুটি।
সরু করিডর দিয়ে এগোচ্ছে দু’জন। সামনে স্যাম, পেছনে রেমি। ওদের ফ্ল্যাশলাইটগুলো কোনমতে পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সামনে মোড় পড়তেই গতি কমাল স্যাম। এখানকার মেঝেতে বিভিন্ন ধ্বংসস্তূপের টিলা। দেখা যাচ্ছে।
আবার হাতঘড়ির দিকে তাকাল স্যাম। পানির উপরে ভেসে ওঠার আগে ডিকম্প্রেশনের জন্য কিছু সময় দরকার। নইলে রক্তে জমা নাইট্রোজেনের কারণে বড়ধরনের শারীরিক ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু ওরা যে গতিতে এগোচ্ছে এভাবে এগোলে ডিকম্প্রেশনের জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া সম্ভব হবে না।
সামনে এগোল স্যাম। কিন্তু কোনো রাস্তা পেল না। একটা বড় পিলার রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে। যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ছাদের দিকে তাকাল ও। ছোট্ট একটা ফাঁক দেখা যাচ্ছে ছাদে। ওদিকে এগোল স্যাম।
হাত দিয়ে দুই মিনিট কাজ করার পর অক্সিজেন ট্যাঙ্ক ছাড়া বের হওয়ার মতো যথেষ্ট জায়গা তৈরি করতে পারল। ট্যাঙ্ক রেখে ফাঁক গলে বেরিয়ে গেল স্যাম। নিচে রেমি অপেক্ষা করছে। ২০ সেকেণ্ড পর স্যাম ফিরে এসে রেমিকে উপরে সঁতরে আসার জন্য ইশারা করল।
স্যামের মতো রেমিও তার অক্সিজেন ট্যাঙ্ক খুলে তারপর ফাঁক গলল। ওরা এখন অন্য একটা চেম্বারে এসে পৌঁছেছে। ওরা প্রথমে যে চেম্বারে এসে ঢুকেছিল এটা আকারে সেটার চেয়ে ছোট।
চেম্বারের এক কোনার দিকে এগোল রেমি। ওর উরুতে রাখা একটা ডাইভিঙের ছুরি বের করে একটা সেকশন পরিষ্কার করল। ব্লকের আঘাতে এখানকার মেঝে ভেঙ্গে গেছে। একটু আগে ওরা যে ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এসেছে সেটার চেয়ে এখানকার ফাঁকটা আকারে বড়। রেমি ওর অক্সিজেন ট্যাঙ্ক নিয়ে ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে গেল। স্যামের ভাগ্য অতটা ভাল নয়। ট্যাঙ্ক খুলে তারপর ফাঁক পেরোতে হলো ওকে।
ওরা এখন যে অংশে এসে পৌঁছেছে এখানে সামুদ্রিক শৈবালের কোনো অভাব নেই। ফারগো দম্পতি ছুরি দিয়ে সেগুলো কেটে কেটে উপরের দিকে সাঁতরে চলল।
শেষ শৈবালটিকে কাটার পর দিনের আলোর দেখা পেল ওরা। আলোকে অনুসরণ করে সাঁতরাতে সাঁতরাতে পানির উপরের অংশে পৌঁছে গেল স্যাম ও রেমি। ওরা যেখান দিয়ে ধ্বংবশেষের ভেতরে ঢুকেছিল সেখান থেকে বেশ খানিকটা দূরে এসে ভেসে উঠেছে এখন। পানির উপরের অংশ দিয়ে সাঁতরে ওদিকে এগোল স্যাম। কারণ ওয়ারেন ওখানে ওদের জন্য অপেক্ষা করছে। স্যাম ওয়ারেনের কাছে গিয়ে পানির উপরে ওঠার সংকেত দিল। সায় দিল অস্ট্রেলিয়ান।
ওয়ারেন নিজের ডিকম্প্রেশন স্টক থেকে ওদেরকে অক্সিজেন দিল। তারপরও ওরা যখন পানির উপরে এসে পৌঁছুনোর পর দেখা গেল অক্সিজেন ট্যাঙ্ক একদম খালি। পানির উপরে মাথা তুলে যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচল স্যাম। ওর পাশে রেমিও ভেসে উঠেছে। সাগরে হালকা ঢেউ। প্রাণ ভরে শ্বাস নিচ্ছে দু’জন। ডারউইন ওদের কাছ থেকে প্রায় ১৫০ ফুট দূরে ভেসে রয়েছে।
