‘আমি নিজেই জানতাম না। গতকাল রাতে ঘুমানো চেষ্টা করতে গিয়ে টের পেলাম।’
কাশি দিল ডেস। রেমি হেসে ফেলল। স্যাম অনেক চেষ্টা করে নিজের হাসি থামিয়ে রেখে বলল, যদি তুমি ডাইভ দাও তাহলে এই সি-সিকনেসের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে। তারপর দেখা যাবে, বাচ্চাদের মতো সুন্দর ঘুম হচ্ছে তোমার।’
‘মিথ্যা বলছো না তো?
না, না! একদম সত্যি। সিরিয়াসভাবে বলল স্যাম। ওর চেহারা যেন পাথরে গড়া।
পাইলটহাউজে থাকা স্পিকার জ্যান্ত হয়ে উঠল হঠাৎ। অস্ট্রেলিয়ান উচ্চারণে কথা বলছে…
ক্যাপ্টেন, আপনি ওখানে আছেন?’ ডাইভ টিমের লিডার কেট ওয়ারেন জানতে চাইল।
মাইক্রোফোনের দিকে এগোল ডেস। মুখের কাছে নিয়ে বল, হ্যাঁ, কেন্ট। বলো, কী অবস্থা?
‘আপনি হয়তো এটা এখনও দেখেননি, কিন্তু আমরা এমন কিছু পরিষ্কার করেছি যেটা টিমের প্রধানদের মধ্যে থেকে কেউ এসে দেখলে ভাল হতো।
এক ভ্রূ উঁচু করে ডেস-এর দিকে তাকাল স্যাম।
ওয়ারেন ইতস্তত করছে। আমার ভুলও হতে পারে কিন্তু মনে হচ্ছে এটা একটা প্রবেশ পথ। থামল সে। এরপর সে যা বলল সেটা শুনে ধাক্কা খেল পাইলটহাউজের সবাই। আর আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে তাহলে সম্প্রতি এই পথটাকে ব্যবহার করা হয়েছে।
.
২২.
অক্সিজেন মাস্ক পরে নিল স্যাম। রেমি’র দিকে তাকাল। ওয়েট স্যুট রয়েছে রেমি’র পরনে। দারুণ মানিয়েছে তোমাকে। স্ত্রীর ফিগারের প্রশংসা করল স্যাম।
‘উঁহু, অনেক ঢোলা মনে হচ্ছে, তবে আমি ম্যানেজ করে নিতে পারব। তুমি তৈরি?
তৈরি হয়েই আমার জন্ম!
‘চাপা কম মারো।’ রেমি নিজের রেগুলেটর পরিষ্কার করে পানিতে ডাইভ দিল। স্যামও নামল ওর পিছু পিছু।
পানির নিচে গিয়ে রেমি’র দিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সংকেত দিল স্যাম। একইভাবে রেমিও সংকেত দিল। সব ঠিক আছে। স্যাম ডান দিকে তাকিয়ে ওদিকে যাওয়ার জন্য ইশারা করল। মাথা নেড়ে তাতে সায় দিল রেমি। কয়েক মিনিট পর ওয়ারেন ও তার ডাইভ সহযোগীর সাথে গিয়ে যোগ দিল ওরা। ওদের পরনে কমার্শিয়াল ডাইভিং সট ও কিরবি মরগ্যান হেলমেট রয়েছে। দেয়ালে থাকা একটা ফাঁক দেখাল ওয়ারেন। স্যাম ওদিকে সাঁতরে এগোল।
গ্লোভ পরিহিত হাতে ফাঁকের কিনারা পরীক্ষা করল স্যাম, বৃত্তাকার দাগ দেখা যাচ্ছে। ওয়ারেনের কাছে ফিরে এলো ও। দাগের দিকে ইঙ্গিত করল। ওয়ারেন সংকেত দিল না। অর্থাৎ দাগটা ওরা তৈরি করেনি।
রেমি ও গ্রেগ টরেস রয়েছে ওদের পাশে। ডাইভ ব্যাগ থেকে একটা ফ্ল্যাশলাইট বের করে সুইচ অন করল স্যাম। রেমিও একটা ফ্ল্যাশলাইট বের করে জ্বালাল। গ্রেগ নিজের হাতঘড়িতে টোকা মেরে উপরের দিকে ইশারা করে দেখাল। অর্থাৎ, ওর অক্সিজেন শেষের দিকে ডিকম্প্রেশনের জন্য উপরে যেতে হবে। স্যাম ওকে সংকেত দিল: ঠিক আছে। সংকেত পেয়ে যাত্রা শুরু করল গ্রেগ।
স্যাম সেই ফাঁকা অংশের দিকে মনোযোগ দিল। লাইট ধরল ওদিকে। রেমিকে নিয়ে ফাঁকা অংশ দিয়ে ভেতরে ঢুকল ও। ওয়ারেন রয়ে গেল বাইরে।
ভেতরে এটা একটা প্যাসেজ। ফ্ল্যাশলাইটের আলোতে দেখা গেল করিডোরের মেঝে ফেটে গেছে। কমুকসহ অনেক সামুদ্রিক জলজ আগাছা জন্মেছে বিভিন্ন অংশে।
নিজের লাইটটা সামনের দিকে ধরল রেমি যাতে স্যাম ওকে পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিতে পারে। প্যাসেজ দিয়ে সাবধানে এগোল স্যাম। প্যাসেজটা বেশ চওড়া তাই রেমিও স্যামের পাশাপাশি এগোতে পারছে। খুব ধীরে ধীরে এগোচ্ছে ওরা।
উপরের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে দিনের আলো প্রবেশ করেছে। প্যাসেজ শেষ হয়েছে এখানে। থামল স্যাম। ডানদিকে ঘুরল। এদিকটা অন্ধকার। মনে হলো। পানিতে কেউ কালো কালি গুলে দিয়েছে। হঠাৎ পিছু হটল স্যাম। কালো দীর্ঘ আকৃতির কী যেন ওর দিকে সঁতরে এলো। ফ্ল্যাশলাইটের আলোতে দেখা গেল ওটা একটা ইল মাছ। প্রায় ৪ ফুট লম্বা। শরীরটা তেলতেলে। রেমিকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল প্রাণীটা।
যতক্ষণ চোখের আড়াল না হলো ততক্ষণ ওটার দিকে লাইট ধরে রাখল রেমি। তারপর স্যামের দিকে ফিরল। কোনায় থাকা একটা ব্লক পরিষ্কার করল স্যাম। আরও কোন কোন জায়গা পরিষ্কার করা যেতে পারে সেগুলো ইঙ্গিত করে দেখাল।
আসলে স্যাম দেয়াল পরিষ্কার করে চিহ্ন এঁকে যাচ্ছে। ফেরার সময় যাতে পথ হারিয়ে না ফেলে।
রেমিকে পেছনে নিয়ে এগোল স্যাম! আরেকটা মোড় ঘুরতেই একটা বড় চেম্বারে এসে পড়ল ওরা! চেম্বারের একাংশ ধ্বসে গেছে। আলো ফেলে দেয়াল ও মেঝে দেখল ওরা। রেমি এখানে আরেকটা ফাঁক দেখতে পেল। এবারের ফাঁকটা মেঝেতে।
ফাঁকটার দিকে এগোল স্যাম। চারদিক দেখে নিয়ে ওটার কিনারা পর্যবেক্ষণ করল। রেমিকে দেখাল ফাঁকটার কিনারা। নড করতে গিয়ে একটু জোরে মাথা ঝাঁকিয়ে ফেলল রেমি! ডাক্তার সর্তক করেছিল কিন্তু রেমি সেসব ভুলে গেছে। ঘাড়ের ব্যথাটা ওর শিরদাঁড়া পর্যন্ত পৌঁছে গেল।
স্যাম অবশ্য স্ত্রীর সমস্যাটা টের পাচ্ছে না। আলো দিয়ে ফাঁকটা পরীক্ষা। করছে ও। রেমি’র দিকে এক নজর তাকিয়ে স্যাম ফাঁকটার ভেতরে সাঁতরে চলে গেল।
ওর পিছু নিল রেমি। ব্যথাটা যেরকম হঠাৎ করে জেগে ছিল তেমনি চট করে মিলিয়ে গেল। ফাঁক গলে ছোট একটা চেম্বারে এলো ওরা। এখানকার দেয়ালেও উপরতলার মতো সামুদ্রিক আগাছা রয়েছে। সবচেয়ে কাছের দেয়ালের কাছে গিয়ে হাত দিয়ে ঘষা দিল স্যাম। সবুজ-বাদামী রঙের জঞ্জাল ছড়িয়ে পানিতে মেঘের মতো ভাসতে শুরু করল। একটা রেখা দেখা যাচ্ছে দেয়ালের গায়ে। এক ইঞ্চি পুরু। একদম উপর থেকে নিচ পর্যন্ত রয়েছে রেখাটা।
