***
হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে স্যামের কানে ফিসফিস করল রেমি। ওনার সাথে খুব মেপে কথা বললে দেখলাম। হু?
‘অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখেছি এসব বিষয় যত কম লোক জানে তত ভাল। আর সবচেয়ে বড় কথা, প্রজেক্টটা লিও’র। আমরা সেটা নিয়ে বিশদ আলোচনা করার অধিকার রাখি না।
‘জানি। কিন্তু আসল কথা না বলে তোমাকে নাচতে দেখে মজা পেয়েছি।
‘আমি সবসময় নিজেকে খুব ভাল নৃত্যশিল্পী বলে মনে করি।’
রাস্তায় উচ্ছৃঙ্খল দ্বীপবাসীরা জড়ো হয়েছে। কিছু একটা হতে পারে। স্যামের সাথে মশকরা করা বন্ধ করল রেমি। স্যাম, তাড়াতাড়ি এখান থেকে চলো। অবস্থা ভাল নয়।
ড্রাইভিং সিটে বসল স্যাম। “সিটবেল্ট ভাল করে বাঁধো। সামনে যা-ই আসুক আমি কিন্তু গাড়ি থামাব না।
২১. অ্যাক্সিলেটরে চাপ দিতে
২১.
স্যাম পা দিয়ে অ্যাক্সিলেটরে চাপ দিতেই ইঞ্জিন গর্জে উঠল। ভিড় পাকানো লোকজন সরে গেল দুপাশে। অনবরত হর্ন বাজিয়ে স্যাম তাদেরকে সর্তক করল। লোকজনের ভীড় এড়িয়ে এগোল গাড়ি।
‘সাবধানে!’ সিটের হাতল চেপে ধরে বলল রেমি। একলোকের হাতে একটা বেজবল ব্যাট ছিল। অল্পের জন্য স্যাম সেটার আঘাত থেকে বাঁচাল গাড়িকে।
‘দেখেছ? কোনো সমস্যা নেই। স্যাম মুখে বলল ঠিকই কিন্তু কণ্ঠ শুনে ঠিকই বোঝা গেল ও নার্ভাস।
‘অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি, স্যাম। মনে হচ্ছে, এখানকার সবাই আমাদেরকে এই দ্বীপ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে।
‘বাজে কথা। তবে শিপে একরাত কাটালে মন্দ হয় না। এখানকার পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি আর এরকম দৌড়াদৌড়ি করতে রাজি নই।’
‘আর যদি শান্ত না হয়?
‘তাহলে হয়তো আমাদেরকে আরও একটা শিপ যোগাড় করতে হবে।’
পুলিশের প্রথম রোডব্লক উদয় হলো। গতকালের চেয়ে আজ তাদের আয়োজন আরও ব্যাপক। অফিসারের সংখ্যা বেশি, সবার পরনে দাঙ্গার পোশাক। সার্চ শেষে স্যাম অফিসারকে জানাল ওরা পশ্চিম দিকে যাচ্ছে। শুনে অফিসার এমনভাবে মাথা নাড়ল যেন স্যাম ও রেমিকে আর কখনও দেখতে পাবে না।
পরের রোডব্লকটাও একই রকম। স্যাম খেয়াল করে দেখল, প্রত্যেকটা রোডব্লকে শুধু ওদের গাড়িটাই আছে।
‘একদম জনশূন্য হয়ে গেছে, তাই না?’ স্যামের মনের কথা বুঝতে পেরে বলল রেমি।
‘মনে হচ্ছে কারও ড্রাইভ করার মুড নেই।’
‘গৃহযুদ্ধের মাঝে কেউ পড়তে চাচ্ছে না।
হতে পারে। কিন্তু গাড়ি চালানোর জন্য আজকের সকালটা কিন্তু দারুণ। স্যাম বলল। রেমি খেয়াল করল জঙ্গলের পাশ দিয়ে এগোনোর সময় গাড়ির গতি অনেক বেড়ে গেছে।
পোর্টে পৌঁছে গাড়ি পার্ক করে রেডিওতে ডেস-এর সাথে যোগাযোগ করল স্যাম। কিছুক্ষণ পর তরতর করে পানি কেটে ডারউইন-এর স্কিফ এসে গেল। পাইলটের আসনে রয়েছে সিমস।
‘শুভ সকাল। দিনটা সুন্দর, তাই না?’ সিমস বলল।
‘চমৎকার।’ সায় দিল রেমি। স্বামীর সাহায্য নিয়ে স্কিফে চড়ল।
নতুন কোনো খবর আছে?’ স্কিফে চড়ে জানতে চাইল স্যাম।
সিমস স্কিফকে ঘুরিয়ে শিপের দিকে নিল। না। গতকালের মতোই চলছে সব। আপনাদের টিমের লিওনিড সবকিছু তদারকি করছেন।
কিছুক্ষণ পর ডারউইন-এর কাছে পৌঁছে গেল ওরা। দু’জন ক্রু শিপের ডেক থেকে হোস পাইপ নিয়ে কাজ করছে। পানির নিচে থাকা ডাইভারদের সাথে শ্বাস-প্রশ্বাসে যেন কোনো সমস্যা না হয় সেদিকটা দেখছে তারা।
শিপে ওঠার পর ডেস-এর সাথে দেখা হলো।
‘আপনাদেরকে দেখে ভাল লাগল!’ বলল ডেস। দ্বীপের উত্তেজনাময় পরিস্থিতির খবর শুনলাম রেডিওতে।
‘ঠিকই শুনেছেন। আমাদেরকে কমপক্ষে একটা রাত এই শিপে কাটাতে হবে।’ বলল স্যাম। লিওর দিকে তাকিয়ে বলল, তোমার কী অবস্থা, বন্ধু?
মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে হাত নাড়ল লিও। কাজ এগোচ্ছে, বোঝা গেল কাজ নিয়ে সে খুব একটা সন্তুষ্ট নয়। ওকে নিয়ে পাইলটহাউজের দিকে এগোল স্যাম। বিস্তারিত জানবে।
‘চলো তো দেখি…’ বলল স্যাম।
মনিটরে দেখা গেল গতকালের পর আজ আরও বেশ কয়েকটি নতুন পাথুরে ব্লক পরিষ্কার করা হয়েছে। ইমারতে শেষ অংশে কাজ করছে ডাইভাররা। বুদবুদ আর জঞ্জালের মেঘ ভাসছে পানিতে।
অনেকখানি পরিষ্কার করে ফেলেছে, রেমি বলল। ব্লকের সাইজগুলো দেখেছ? এগুলো পর্যবেক্ষণ করে পাড়ে নিতে হলে কয়েক বছর লেগে যাবে।
‘ভিত্তির কিছু অংশও পরিষ্কার করেছি। দেখে মনে হয়েছে, দ্বীপ থেকে বড় ও ছোট পাথর এনে সেগুলোর সমন্বয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এটা। আমার ধারণা, যখন এগুলোর নির্মাণ কাজ চলছিল তখন এখানে পানির গভীরতা ১৫ ফুটের বেশি ছিল না।’ বলল লিও।
‘তাহলে তো তখন ঝুঁকি ছিল না বললেই চলে। স্যাম মনিটরের দিকে তাকাল। এবার ভাব, কত বড় ভূমিকম্প হলে ইমারতগুলোকে প্রায় ৮০ ফুট নিচে নামানো সম্ভব?
ভূম্পিকম্পের প্রথম ধাক্কায় পুরো স্তর সরে গিয়েছিল। তারপর ছোট ছোট ধাক্কায় একদম সাগরের তলায় গিয়ে পৌঁছেছে। পুরোটাকে অনুসন্ধান করার জন্য আরও সময় পেলে তখন বিস্তারিত জানা যাবে।’
স্যাম দাঁত বের করে হাসল। তা তো অবশ্যই। ধৈর্যধারণ করা মহৎ গুণ, বুঝেছ? এসব ক্ষেত্রে কোনো কিছুই দ্রুত হয় না। আর তুমি সেটা বেশ ভাল করেই জানো।
মুখ হাঁড়ি করল লিও। জানি এবং জিনিসটা আমার খুবই অপছন্দ। তোমাদেরকে কি বলেছি আমার সি-সিকনেস হচ্ছে?
না, এখনও বলোনি।
