হোটেলের লবিতে বিদেশি লোকজনে গিজগিজ করছে। দ্বীপ ছেড়ে চলে যাচ্ছে সবাই। ভিড় ঠেলে রেস্টুরেন্টের দিকে গেল ওরা।
‘এত জলদি সবাই চলে যাচ্ছে, রেমি খাবারের অর্ডার দিয়ে তারপর বলল।
‘আমি পর্যটকদেরকে দোষ দেব না। আমরা এখানে বিশেষ কারণে থাকছি। তাছাড়া শুধু হাওয়া খাওয়ার জন্য কে এই গৃহযুদ্ধের মধ্যে থাকতে চাইবে?’
‘আমাদের বিগত ছুটির দিনগুলো ভাল ছিল।’
“আরে, গোলাগুলি আর ট্রাকের ধাক্কা খাওয়া বাদ দিলে এই ছুটিটাও কিন্তু ভাল।
‘ও, তাই? কুমীরের কথা ইতিমধ্যে ভুলে গেছ?”
‘আসলে কুমীর তো আমাদেরকে আক্রমণ করেনি। তাই ওটাকে ধরিনি।’
পার্কিং লটে সবসময় একজন গার্ড থাকে। কিন্তু আজকে তিনজন দেখা যাচ্ছে। সবার হাতে লাঠি। হম্বিতম্বি ভাব ধরার চেষ্টা করছে গার্ডরা। চারপাশ মোটামুটি শান্ত। রাস্তায় অল্পকিছু গাড়ি চলছে।
‘শহরে যাওয়ার সময় হাসপাতালে নামব।’ বলল রেমি। ডা. ভ্যানার সাথে কথা বলতে হবে। গতকাল রাতে আমি তার প্রেজেন্টশন পড়েছি। বেশ ভাল। আমাদের দানের লিস্টে তাকেও যোগ করা যেতে পারে।’
‘যা ভাল বোঝো করো। ডা. ভ্যানা তাহলে রাতারাতি খবরের শিরোনাম হয়ে যাবে।’
‘তিনি যা করছেন আমি সেটাকে সমর্থন করি। নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছেন। অথচ চাইলে অন্য কোথাও চলে গিয়ে ডাক্তারি করে এরচেয়ে অনেক বেশি উপার্জন করতে পারতেন।
‘ঠিক বলেছ। আমি যতটুকু বুঝেছি, তিনি পরিবর্তন আনতে চান। অর্থ উপার্জন তার কাছে মুখ্য নয়।’
‘আর সেজন্যই আমাদের উচিত তার ক্লিনিককে সহযোগিতা করা।
‘আমার কোনো আপত্তি নেই।
নাস্তা শেষ করে হাসপাতালের দিকে রওনা হলো ফারগো দম্পতি। রাস্তার পাশে একদল দ্বীপবাসী দাঁড়িয়ে রয়েছে। কয়েকজনের হাতে ম্যাচেটি। তাদের পাশ দিয়ে চলা গাড়িগুলোর দিকে হিংস্রদৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। স্যাম বুঝতে পারল রেমি ঘাবড়ে যাচ্ছে তাই গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিল। রেমি, সরাসরি সৈকতের ওদিকে গেলেই ভাল হতো না? ডাক্তারের সাথে তো আমরা পরেও দেখা করতে পারতাম!’ বলল স্যাম।
‘এসেই পড়েছি। সন্ধ্যায় দেখা করার চেয়ে সকালে দিনের আলোতে দেখা করাটা আমার কাছে বেশি নিরাপদ বলে মনে হয়।’
হাসপাতালের পার্কিং লটে অল্পকিছু গাড়ি রয়েছে। তারমধ্যে একটা এসইউভি ডার ভ্যানার। ওদেরকে ঢুকতে দেখে নার্ভাসভঙ্গিতে এক গার্ড মাথা নাড়ল।
পাতালের ভেতরে ঢুকল ওরা। রিসিপশন কাউন্টারের পেছনে ল্যাব কোট পরিহিত একজন লোক দাঁড়িয়ে রয়েছে। বেশ লম্বা দেখতে, স্থানীয়।
‘আপনাদেরকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?’ সে জানতে চাইল।
‘আমরা ডাক্তার ভ্যানার সাথে দেখা করতে চাই,’ বলল রেমি।
‘আমি ডা. বেরি। কী সমস্যা?
না, তেমন কিছু নয়, স্যাম জানাল। ওনার সাথে অন্য ব্যাপারে কথা বলতে এসেছি। সামাজিক বিষয়ে আরকী।
‘ও আচ্ছা। উনি অফিসে আছেন। এক সেকেও।
ডা, বেরি ডেকে পাঠাল ডা. ভ্যানাকে। একটু পর ভ্যানা হাজির, হাতে একটা ফোল্ডার। স্যাম ও রেমিকে দেখে হাসল ভ্যানা।
‘আপনাদেরকে দেখে সারপ্রাইজড় হয়েছি। কী ব্যাপার? সবঠিক আছে তো?’ ভ্যানা জানতে চাইল।
‘হ্যাঁ, সবঠিক আছে। আমরা দেখতে এলাম, বেনজি কেমন আছে। আর আপনার প্রজেক্টের ব্যাপারেও একটু কথা বলার ছিল।
এইমাত্র তাকে দেখে এলাম। ঘুমুচ্ছে। গতরাতে খুব ভুগেছে, বেচারা। জ্বর এসেছিল। অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছি যেন ইনফেকশন না হয়।’
‘আচ্ছা। আপনার প্রেজেন্টেশন দেখেছি। দারুণ হয়েছে। আমরা দুজনে মিলে ঠিক করেছি আপনার কাজে আমরা সাহায্য করব। আপনার প্রজেক্টের যাবতীয় অর্থ সহযোগিতা দেব আমরা।
ভ্যানার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। সত্যি? দারুণ খবর! ধন্যবাদ। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাদের…’।
হাসল স্যাম। প্রজেক্টটা ভাল। এই দ্বীপের জন্য কাজে আসবে বলে আশা করছি। এখানারকার যা অবস্থা…’
ভ্যানা’র মুখ কালো হয়ে গেল। হ্যাঁ। বর্তমান ঘটনাগুলো আমার দাতাদের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। গোলমালের বিন্দুমাত্র গন্ধ মেলে ওষুধের বড় কোম্পানীগুলো পিঠ টান দেবে। এখানে আসলে আমার কিছু করার নেই। আমি শুধু ভাল”-এর আশা করতে পারি।’
‘আপনার কি সত্যিই মনে হয় তারা সরে যাবে?’ রেমি জানতে চাইল।
‘নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। যদি দাঙ্গা বাধে, দ্বীপের লোকজন যদি নিজেরাই দিজেদের ঘর-বাড়ি পোড়ায় তাহলে কেউই এই দ্বীপের জন্য অর্থ সাহায্য দিতে চাইবে না।’
‘গুটি কয়েক লোকের বাজে কাজের জন্য পুরো দ্বীপের বাসিন্দাদেরকে বঞ্চিত করার বিষয়টা তারা বুঝবে না?
“ আসলে আমরা হলাম ছোট আলুর মতো। কোনো দাম নেই আমাদের। অধিকাংশ কোম্পানী আমাদেরকে ধর্তব্যের মধ্যেই রাখে না। এরআগেও দেখেছি, ওরা কিছু দিলে সেটা খুব অল্প পরিমাণে দেয় এবং অনেক দেরিতে দেয়। ভ্যানা মাথা নাড়ল। তার উপর এখন দ্বীপের যে পরিবেশ-পরিস্থিতি।
হুম। যাক, আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’ বলল রেমি।
‘বিগত কয়েক মাসে এরচেয়ে ভাল খবর আর পাইনি।’ একটু ইতস্তত করল ভ্যানা। আপনাদের প্রজেক্টের কী খবর?
‘চলছে। স্যাম ছোট্ট করে জবাব দিল।
‘ডুবে যাওয়া ভবনের কথা বলেছিলেন। ওগুলোর কোনো পরিচয় পেলেন?
‘এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। স্যাম আবার সংক্ষিপ্ত জবাব দিল। সাবধানে খেলছে।
ভ্যানা ইতস্তত করছে এখনও। আচ্ছা, আপনাদের কাজে আমার কোনো সাহায্য প্রয়োজন হলে জানাবেন।
