কার্ট গোলনারকে টেনে একটা টেবিলের পিছনে নিয়ে এলো। শ্বাস প্রশ্বাস ধীর হয়ে এসেছে ওর। কিন্তু কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে। কার্ট ওর মুখের কাছে কান নিয়ে গেল।
“…চামড়া… বায়ুরোধী একটা কৌটায় রাখবেন…তিনদিন পরপর তুলে আনা হয়…” এটুকু বলেই ব্যথার দমকে চেহারা কুঁচকে গেল ওর। তারপরই শরীর ঢিল হয়ে স্থির হয়ে গেল গোলনার।
“কাট অস্টিন।” গমগমে একটা গলা শোনা গেল খোলা দরজা পথে। কার্ট টেবিলের পেছনে মাটিতেই পড়ে রইল। ওকে দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু টেবিলের পাতলা কাঠ বুলেট আটকাতে পারবে না। যে কোনো মুহূর্তে গুলি খাবে এই আশংকায় পড়ে রইল ও। কিন্তু কেউ গুলি করল না। সম্ভবত লোকগুলো এই বিষাক্ত পদার্থ ভরা ল্যাবে খুব বেশি গোলাগুলি করতে চায় না।
“আপনি তো আমাকে বেকায়দায় আক্রমণ করেছেন। কার্ট চেঁচিয়ে বলল।
“আর ওখানেই আপনি থাকবেন।” কণ্ঠটা জবাব দিল।
কার্ট টেবিলের কোণার দিকে তাকাল। দরজার কাছে তিনটা আবছায়া দেখা যাচ্ছে। ওর ধারণা ঠিক মাঝখানের আবছায়াটা সাকিরের। কিন্তু পিছনের ঘরের লাল আলোয় তিনজনকেই শয়তানের প্রতিমূর্তি বলে ভ্রম হলো ওর। যেন বহুদিনের পাওনা আদায় করতে এসেছে।
৫১. মহান সাকির
৫১.
“আপনিই তাহলে মহান সাকির?” কার্ট জিজ্ঞেস করল।
“মহান? হুম। শুনতে তো ভাললাই লাগছে।” ওপাশ থেকে জবাব এলো।
কার্ট এখনো তাকে পরিষ্কার দেখতে পায়নি। শুধু বোঝা যাচ্ছে লোকটা লম্বা। একহারা আর পাশে রাইফেল হাতে দুজন দাঁড়ানো।
“আপনি উঠে দাঁড়াতে পারেন,” সাকির বললো।
“সেটা না করাই ভালো। দাঁড়ালে গুলি করা সহজ হবে।” কার্ট জবাব দিল।
কাটের কাছে একটা পিস্তল আছে কিন্তু ও এই মুহূর্তে মাটিতে শুয়ে আছে। আর ওর দিকে তাক করা দুটো রাইফেল। তাই কষ্টে-মষ্টে দু-একটা গুলি করতে পারলেও ওর পক্ষে জ্যান্ত ফেরা কখনোই সম্ভব হবে না।
“আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন। আপনি এখন যেখানে আছেন সেখানেও সহজেই গুলি করা যাবে। এখন ভালো ছেলের মতো পিস্তলটা এদিকে ছুঁড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়ান।”
কার্ট সাবধানে ভায়ালগুলো হাতের মধ্যে মুড়ে এমনভাবে পকেটে ঢোকালো যে ওর পিস্তল বের করতে পকেটে হাত দিচ্ছে। ভায়ালগুলো ওর ওয়াটার প্রুফ ব্যাগে ঢুকিয়ে পাশ থেকে পিস্তলটা বের করে আনলো। ও পিস্তলটা মেঝেতে রেখে একদিকে ঠেলে দিল। পিচ্ছিল মেঝেতে বেশ জোরেই ছুটে গেল ওটা। সাকির পা দিয়ে আটকালো ওটা।
ওটা হাতে তুলে নিয়ে আবার বলল, “উঠে দাঁড়ান।”
কার্ট আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালো। এখনো গুলি খায়নি দেখে অবাক হচ্ছে। সম্ভবত ও কীভাবে এখানে আসলো তা জানতে চায় আগে।
“আপনার বন্ধুরা কোথায়?” সাকির জিজ্ঞেস করলেন।
“বন্ধু? আমার কোনো বন্ধু নেই। খুব করুণ কাহিনী বুঝলেন? সেই ছোট্টবেলার কথা- “কার্ট বলতে গেলো কিন্তু সাকির থামিয়ে দিলেন,
“আমরা জানি আপনার সাথে আরো দুজন এখানে ঢুকেছে। ঐ দুজনকেই সবসময় আপনার সাথে দেখা গিয়েছে।”
সত্যিকথা হচ্ছে কার্টের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই জো আর রেনাটা কোথায়। সাকিরও ওদের খুঁজে পায়নি দেখে মনে মনে দারুণ খুশি হলো। ওরা সম্ভবত বিপদ টের পেয়ে কোথাও লুকিয়েছে। আবার হয়তো ওরা নির্দেশ মোতাবেক নিরাপদ জায়গায় সরে যাচ্ছে। তবে সে সম্ভাবনা কম। কার্ট সাকিরকে ওদের থেকে মনোযোগ সরাতে চাইলো, “শেষবার যখন দেখলাম তখন ওরা বাথরুম খুঁজছিল। বেশি বেশি কফি খাওয়ার ফল। জানেন-ই তো কি অবস্থা হয়।”
সাকির তার বাম দিকের লোকটার দিকে ঘুরে বলল, “পাশগুলো চেক করো হাসান। ওগুলোর কাজে সমস্যা হোক এমন কিছু যেন না হয়।”
“ও, হ্যাঁ।” কার্ট বলল। আপনি আর আপনার পাম্প। বুদ্ধিটা কিন্তু দারুণ। নকল পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প বানিয়ে তার আড়ালে যা ইচ্ছে তা করছেন। যদিও খুব বেশি দিন বুদ্ধিটা খাটবে না। মাথার ঘিলওয়ালা যে কোনো ইঞ্জিনিয়ারই আপনার ঐ প্রণালিটা দেখলে বুঝতে পারবে যে যতটানা পানি ঢুকছে তার চাইতে অনেক বেশি পানি বের হচ্ছে।”
“কিন্তু এখনও কেউ এ ব্যাপারে প্রশ্ন তোলেনি। সবই আপনার অনুমান।”
কার্ট কাঁধ ঝাঁকালো, “বললাম-ই তো যে মাথায় ঘিলু থাকতে হবে। আমার চেয়ে হাজার গুণ বেশি বুদ্ধিমান লোক পৃথিবীতে আছে।”
সাকির কার্টকে সামনে এগুতে ইঙ্গিত করল, “তাতে কিছুই যায় আসে না। আর বেশিদিন এটা করা লাগবে না। তখন পানি উঠানোও বন্ধ হয়ে যাবে। তখন পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো তার আসল কাজটাই করবে। কেউ জানতেও পারবে না যে এটা আর কোনো কাজে ব্যবহৃত হতো। আর ততোদিন আপনিও মরে ভূত হয়ে যাবেন। আর আফ্রিকার বাকি অংশগুলোর মতো লিবিয়াও আমার অধীনে চলে আসবে।”
অনিচ্ছা সত্ত্বেও কার্ট সামনে বাড়লো।
“হাত”
কার্ট হাত নামিয়ে দুই কবজি এক করে ধরলো। সাকির ইঙ্গিত করতেই হাসান এসে ওর হাতে একটা চেনওয়ালা প্লাস্টিকের হাতকড়া পরিয়ে দিল।
“এত কিছু কেন করছেন?” ইনকিউবেশন রুমটা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞেস করল কার্ট।
“ক্ষমতা। বহুদিন ধরেই জিনিসটা ব্যবহার করে অভ্যাস আমি তাই খুব ভালো মতোই জানি ক্ষমতাহীনতা কতটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। সে জন্যেই আমি আর আমার মতো কয়েকজন মিলে আবারো পুরো জিনিসটা শৃঙ্খলায় আনতে চাচ্ছি। আপনার তো কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত যে, কয়েকটা জংলী কুকুরের বদলে আমার সাথে এরপর থেকে আপনার দেশের লোকেরা সব কিছু করবে। আপনাদের মর্জি মতো কাজ করাও তখন অনেক সহজ হয়ে যাবে।”
