“হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন। অতিরিক্ত তাপ আর আর্দ্রতার ঘাটতির সময় ব্যাঙেরা টিকে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তখন ওরা কাদার ভেতর ঢুকে পড়ে আর ওদের আরো কয়েক স্তর অতিরিক্ত চামড়া গজায়। ওটা শুকিয়ে গেলে ঠিক একটা রেশমের গুটির মতো হয়ে যায়। শরীরের সব কার্যক্রম থেমে যায়। হৃদপিণ্ডটাও বলা যায় বন্ধই হয়ে যায় শুধু ওদের নাকের ছিদ্র দুটোই ভোলা থাকে যাতে নিশ্বাস নিতে পারে।”
কার্ট অবাক হয়ে গেল শুনে, “এগুলো থেকেই ব্লাক মিস্ট বানানো হয়? ঘুমন্ত কোলা ব্যাঙ থেকে?”
“হ্যাঁ।”
“জিনিসটা কাজ করে কীভাবে?”
“শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য ব্যাঙটার শরীরের গ্রন্থিগুলো এনজাইমের একটা মিশ্রণ উৎপন্ন করে। জিনিসটা একটা জটিল রাসায়নিক দ্রবণ। এটা একেবারে প্রতিটা কোষকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। শুধু ব্রেইনের নিচের অংশটা কর্মক্ষম থাকে।” গোলনার ব্যাখ্যা করল।
“ঠিক কোমায় থাকা একটা মানুষের ব্রেইনের মতো।”
“হ্যাঁ, দুটো জিনিস প্রায় একই।”
“তো আপনার কাজ হচ্ছে ব্যাঙগুলো থেকে এই রাসায়নিক পদার্থটা বের করে মানুষের শরীরে ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করা তাই তো?”
“আমরা শুধু আরো বড় বড় প্রাণীতে ওষুধটা ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করি। তবে সমস্যা হচ্ছে এতে জিনিসটার আয়ু কমে যায়। হিমাঙ্কের নিচে আপনি এটাকে অনন্তকাল সংরক্ষণ করতে পারবেন। কিন্তু কক্ষ তাপমাত্রায় মাত্র আট ঘণ্টাতেই এটা অকার্যকর হয়ে যায়। বাতাসে ছেড়ে দিলে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টাতেই মিলিয়ে যায় আর ভেঙে সাধারণ জৈব যৌগে পরিণত হয়।”
“সেজন্যেই ল্যাম্পেডুসায় এটার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।” কার্ট বললো, গোলনার মাথা ঝাঁকালো।
“খুবই স্বল্প আয়ুর অস্ত্র।” কার্ট বললো।
“এটা শুরুতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের কথা ছিলো না। এটা ছিল একটা ওষুধ। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ।”
কার্ট কথাটা বিশ্বাস করল না কিন্তু ব্যাখ্যাটা শুনতে আগ্রহী। তাই জিজ্ঞেস করল, “কীভাবে?”
“ডাক্তররা প্রায়ই চিকিৎসা হিসেবে রোগীকে কোমায় পাঠিয়ে দেয়। অ্যাকসিডেন্ট বা পোড়া রোগী যারা বিভিন্ন ভয়াবহ আঘাত প্রাপ্ত হয় তাদেরকে এই কাজ করা হয়। এর ফলে শরীর নিজেই নিজকে সারিয়ে তোলে। কিন্তু এটার ওষুধগুলো ছিল খুবই মারাত্মক। লিভার আর কিডনী নষ্ট করে ফেলে। কিন্তু এই ওষুধটা একেবারেই প্রাকৃতিক, তাই ক্ষতির পরিমাণ একদমই কম।
গোলনারের কথা শুনে মনে হলো সে নিজেই নিজেকে কথাটা বলে বুঝ দেয়ার চেষ্টা করছে।
“কথাটা না বলে পারছি না গোলনার।”
“আমি জানি। আমার ব্যাপারটা বোঝা উচিত ছিল। ওরা শুধু এটা ডেলিভারির উপায় জানতে চাইতো। এটা কী পানিতে গোলানো যাবে কি-না? বাতাসে মিশানো যাবে কি-না? কথাগুলো জিজ্ঞেস করার কোনো ডাক্তারি কারণ নেই। শুধু জীবাণু অস্ত্রেরই এভাবে ছড়িয়ে দেয়া লাগে।”
“তাহলে কেন এটা করছেন?”
“কয়েকজন এর আগে এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তারপর থেকেই তারা উধাও হয়ে গিয়েছে। গোলনার বলল।
কার্ট বুঝলো ব্যাপারটা, “কথা না শুনলে সাকির কি করে তা আমি দেখেছি। আমি ওর এসব কাজকর্ম থামাতে চাই।”
“অত সহজ না কাজটা।” বিমর্ষ মুখে বলল গোলনার। “খুব শীঘ্রই পুরো প্রক্রিয়াটাই স্বয়ংক্রিয় করে ফেলা হবে। তখন এমন কি আমাকেও লাগবে না।” তারপর ব্যাঙটা আবার ওর গর্তে রেখে বলল, “আমার সাথে আসুন।”
ওরা আরো একটা দরজা পেরিয়ে সাধারণ একটা ল্যাবরেটরীতে এসে ঢুকলো। পরিষ্কার, শান্ত আর অন্ধকার। চারপাশে রেফ্রিজারেটর আর টেবিল। ওগুলোর ওপর ছোট ছোট কিছু সেন্ট্রিফিউজ ধীরে ধীরে ঘুরছে।
ব্রাড গোলনার প্রথমটা চেক করল, তারপর দ্বিতীয়টা, “নতুন চালানটা এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।”
তারপর ও একটা স্টীলের রেফ্রিজারেটরের দিকে এগুলো। তারপর ওটা খুলে ভেতর থেকে কয়েকটা ভায়াল বের করে আনলো। তারপর সেটাকে একটা ফোমের বাক্সে রেখে একটা কোল্ড বক্সে ঢুকিয়ে দিল।
“জিনিসটা গরম হওয়ার আগেই মানে আট ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করতে হবে। এরপর আর কাজ হবে না।”
“এটা ব্যবহার করব কীভাবে?” কার্ট বলল।
‘ব্যবহার করবেন মানে?”
“ল্যাম্পেডুসার লোকগুলোকে আবার সুস্থ করতে। সাকির যাদেরকে কোমায় পাঠিয়ে দিয়েছে।”
গোলনার মাথা নাড়লো, “না না! এটা অ্যান্টিভোট না। এটা ব্লাক মিস্ট।”
“আমার অ্যান্টিভোট দরকার। আমি লোকজনকে ঘুম থেকে জাগানোর চেষ্টা করছি। ঘুম পাড়ানোর না। কার্ট বলল।
“অ্যান্টিভোট তো এখানে বানানো হয় না। ওরাই বানাতে দেয় না, কারণ তাহলে আমরা আর ওদের ভয় পেতাম না। কথাও শুনতাম না।”
এটা নিজের লোকদের বশে রাখতে সাকিরের আরেকটা চাল। ভাবলো কার্ট। মুখে বলল, “কিন্তু জিনিসটা কী তাতো জানেন।”
গোলনার আবারো মাথা নাড়লো।
“না জানতে পারেন তবে অনুমান তো করতে পারবেন, নাকি?”
“এটাকে অবশ্যই কোনো ধরনের—
জীববিজ্ঞানী আর কিছু বলার আগেই পিছনের দরজা খুলে গেল। ইনকিউবেশন রুমের লালা আভা ছড়িয়ে পড়লো এই রুমেও। কার্ট জানে এটা জো বা রেনাটা না। সাথে সাথে ও গোলনারকে ধরে একপাশে ঝাঁপ দিল।
সেকেন্ডের ভগ্নাংশ দেরি হয়ে গেল কার্টের। বেশ কয়েকটা বন্দুক একসাথে গর্জে উঠল। একটা বুলেট কার্টের বাহুতে আচড় কেটে বেরিয়ে গেল। দুটো আঘাত করল জীববিজ্ঞানীর বুকে।
