কার্টরা ততোক্ষণে প্রথম দরজাটার কাছে পৌঁছে গিয়েছে, “মর্জিমতো কাজ? মানে কী ল্যাম্পেডুসার মতো পাঁচ হাজার লোককে একসাথে মেরে ফেলা? নাকি হাজার হাজার নিরীহ লিবিয়ানকে পানির অভাবে বা গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে মেরে ফেলা?”
“ল্যাম্পেডুসার পুরো ব্যাপারটাই একটা দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা। দুর্ভাগ্যজনক আপনার জন্য কারণ ওটাই আপনাকে আমার কাছে টেনে এনেছে। আর লিবিয়ার গণহত্যা একটা তাড়না হিসেবে কাজ করবে। যতবেশি মানুষ মরবে তত দ্রুত এটা শেষ হবে। আর ইতিহাস গড়তে হলে কিছু রক্তপাত হয়ই। উন্নতির চাকায় সেটা গ্রিজের মতো কাজ করে।” সন্তুষ্টির সুরে বললেন সাকির।
শেষ দরজাটা দিয়ে বের হতেই দেখা গেল আরো কয়েকজন কালো পোশাক ধারী গার্ড দাঁড়িয়ে আছে বাইরে। একজন সামনে এগিয়ে এসে কার্টকে কবজিতে ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে একটা ATV-এর পিছনে আছড়ে ফেলল। সামনের সিটে দুজন গার্ড বসা।
“ওদেরকে
সাকিরের কথা শেষ হওয়ার আগেই ইঞ্জিন গর্জে উঠল তাই বাকিটা আর শোনা গেল না। এদিকে ড্রাইভারের সিটে বসা গার্ডটা গাড়ি চালু করেই গ্যাস পোেল চেপে ধরেছে।
বাই বাই করে ATv-টা উল্টোদিকে ঘুরে গেল। কার্ট ওটা থেকে ছিটকে পড়তে পড়তে সামলালো। মুহূর্ত পরেই সবাইকে হতভম্ব অবস্থায় রেখে সুড়ঙ্গ দিয়ে ওটা হারিয়ে গেল।
“আটকাও ওদের।” কেউ একজন চিৎকার দিল।
সুড়ঙ্গের ভেতর গুলির আওয়াজ ভেসে এলো সাথে বুলেটগুলো এখানে সেখানে লেগে ফুলকি ছুটাতে লাগল। তবে ওদের গায়ে লাগলো না। কার্ট যতদূর সম্ভব নিজেকে ATv-র মেঝের সাথে মিশিয়ে রাখলো। খানিকক্ষণ পরে একটা মোড় পার হওয়ার পর গুলির শব্দ থামলে তারপর ও মাথা উঠালো।
সামনের সিটে জো আর রেনাটা সাকিরের গার্ডদের পোশাক পরে বসে আছে। রেনাটা ওর চুল একটা ক্যাপের নিচে ঢেকে রেখেছে।
“কেমন বাঁচা বাঁচলাম?” জো চিৎকার করে বলল।
“ শুরু হিসেবে ভালোই,” কার্ট জবাব দিল।
ব্যাপারটা আসলেই শুরু ছিল কারণ কয়েক সেকেন্ড পরেই দেখা গেল ও রকমই এক জোড়া ATV ওদের পিছু নিয়েছে।
“একটু অপেক্ষা করো বাছারা। এখুনি ব্যাটাদের দেখাবো কীভাবে আমরা ইতালির পাহাড়গুলোতে গাড়ি চালাই।” রেনাটা বলল।
ওর হাত আর পা দুটোই গাড়ি চালানোয় দারুণ দক্ষ। ও প্রথমে ATv টাকে একেবারে এক কোণায় নিয়ে গেল। এক চুলের জন্য লাগালো না দেয়ালে তারপর ঘুরে অন্য কোণার দিকে গিয়ে একটা সোজা সুড়ঙ্গের ভেতর ঢুকে গেল।
কিন্তু পিছনের গাড়ি দুটো মোড়টা এতো দ্রুত ঘুরতে পারলো না। ফলে কার্টরা এগিয়ে গেল অনেক দূর। পিছনের ওরা তাই গুলি ছোঁড়া শুরু করল। কার্ট মাথা নিচু করে ফেলল। তবে রাস্তা এতো উঁচু-নিচু যে ওদের দিকে তাক করে লাগানো প্রায় অসম্ভব। ভাগ্য খুব খারাপ না হলে ওদের চিন্তা নেই। এই জিনিস যোগাড় করলে কীভাবে? আমিতো ভেবেছি তোমরা চলে গিয়েছে।” কার্ট বলল।
“আমাদের কাপড় বদলানো শেষ হতেই বাইরে শব্দ শুনতে পাই। উঁকি দিয়ে দেখি সাকির কালো পোশাক পরা ওদেরকে কি সব আদেশ দিচ্ছে। আমরাও চুপি চুপি দলটার পিছনে গিয়ে দাঁড়াই।” জো বলল।
“জিনিয়াস। আরো একবার ঋণী করলে তুমি।” বলল কার্ট।
সামনে সুড়ঙ্গটা সরু হয়ে এসেছে। চারপাশের দেয়াল এখন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়। হঠাৎই কিছু একটা লেগে ঝাঁকি খেয়ে ATV একেবারে শূন্যে উঠে গেল। ওরাও যার যার সিট ছেড়ে উঠে গেল ওপরে।
ঝাঁকি খেয়ে মাটিতে নামতেই দেখা গেল সামনে রাস্তা নেই।
“সাবধান।”
রেনাটা সর্বশক্তি দিয়ে ব্রেক চেপে ধরলো আর ATv-টা মাটি ঘষে খানিকটা সামনে গিয়ে থামল। ও রিভার্স গিয়ার দিয়ে যেদিক দিয়ে এসেছে সেদিকে এগুলো আবার তারপর পাশের একটা সুড়ঙ্গ দিয়ে ঢুকে পড়ল। আসার সময় দেখেছিল এটা। ঢুকে প্রথমে একবার থামল, তারপর আবার গ্যাস পেডালে চাপ দিল। সুড়ঙ্গটা ক্রমেই নিচের দিকে নামছে। রাস্তা ভরা অসংখ্য নুড়ি পাথর।
সুড়ঙ্গটা আসলে বিশাল বড় একটা গুহা। সম্ভবত দীর্ঘদিন খোঁড়াখুড়ি করা হয়েছে এটায়। এটারও বের হওয়ার কোনো রাস্তা নেই।
“আমাদেরকে আবারো ওপরে উঠতে হবে।” সামনের এবড়োখেবড়ো দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বলল রেনাটা।
ও গাড়ির মুখ ঘোরাতেই দেখা গেল সুড়ঙ্গের মুখটা দিয়ে ওদের পিছনের গাড়ি দুটোর হেড লাইট দেখা যাচ্ছে। আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে।
“সম্ভব হবে না।” জো বলল।
রেনাটা গাড়িটা একপাশে নিয়ে হেডলাইট অফ করে দিল। প্রথম ATv-টা পাথর ভরা রাস্তাটা দিয়ে নেমে এলো। কিন্তু ওটার লাইট সোজা তাক করা থাকায় রেনাটা, জো বা কার্টকে দেখতে পেল না।
দ্বিতীয় গাড়িটাও নেমে এলো। গাড়িটা সুড়ঙ্গ মুখ থেকে নিচে নেমে আসতেই রেনাটা গ্যাস পেডাল চেপে ধরে গাড়ি সুড়ঙ্গ মুখের দিকে ছোটালো। অর্ধেক রাস্তা পেরোতে ও আবার লাইট জ্বেলে দিল।
বার বার দিক বদল করায় মাটিতে টায়ার ঘষার অদ্ভুত শব্দ হতে লাগল তবে শেষমেশ ওরা আবারো আগের সুড়ঙ্গটায় ফিরে এলো। আবার আগের দিকেই ফিরছে।
পিছনের গাড়ি দুটোও হাল ছেড়ে দিল না। ওরাও পিছু নিলো দ্রুতই।
“জো, আমার হাত খুলে দাও।” কার্ট চেঁচালো।
জো পিছনে ফিরে কার্টের হাত টেনে ধরলো। তারপর প্লাস্টিকের হাতকড়াটার নিচে ছুরি বাঁধিয়ে দিল টান। প্লাস্টিক কেটে কার্টের হাত মুক্ত হয়ে গেল।
