“আর ব্লাক মিস্ট খুঁজে পেলেন কীভাবে?”
“আবুকির উপসাগরে পাওয়া শিলালিপিতেই পাই এটার সন্ধান। ওখানে পাওয়া লেখাগুলোই আমাদের ব্লাক মিস্টের রহস্যের খোঁজ এনে দেয়। ওখানে লেখা ছিল কীভাবে ওসাইরিসের পুরোহিতরা প্রতি বছর একবার ল্যান্ড অব পুনট-এ গিয়ে ঐ সিরামটা বানাতে যা যা লাগতো তা নিয়ে আসতো। আমাদেরকে অবশ্যই এটা সংস্কার করতে হয়েছে, তবে তাতে জিনিসটা আরো আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে।” সাকির ব্যাখা করলেন।
“কি উন্নতি?”
সাকির মুখ দিয়ে চুক চুক শব্দ করলেন, “ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিন, আলবার্তো, যে আমি আপনাকে ভুল করেও সেটা বলে ফেলিনি। কারণ বলে ফেললে এখন আপনাকে কুমিরের গর্তে ছেড়ে মারা ছাড়া উপায় থাকতো না।”
পিওলা এক হাত তুলে আত্মসমর্পণের ভঙ্গি করলেন, “থাক থাক! যা বলেছেন তা-ই যথেষ্ট। আর আমাদের অতিথিরাও একটু আগের ঘটনায় স্পষ্ট বুঝতে পেরেছেন যে বিরোধিতা করলে শুধু নিজের মরণ-ই ডেকে আনা হবে।”
“অবশ্যই বুঝতে পেরেছে।” আত্মবিশ্বাসের সাথে বললেন সাকির। কিন্তু প্রশ্ন হলো এরপর কী হবে? লিবিয়ার অবস্থা এখন গনগনে উনুনের মতো। সবচেয়ে ভালো হয় আপনারা যদি সরকারের পতনের পরপরই দেশে একটা প্রতিনিধিত্বমূলক তত্ত্বাবধায়ক অস্থায়ী সরকার গঠন করার ব্যাপারে সংসদে একটা আইন পাস করতে পারেন। মিসর-ইতালির যৌথ উদ্যোগে-ই পারবে দেশে আবার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে।”
“বিল পাস করতে আমাদের আরো অনেক ভোট লাগবে। আর কিছু না দিলে তো আমি ভোট পাবে না। ল্যাম্পেড়সায় যেটুকু নষ্ট হলো তার বদলে আমি আরো এক চালান ব্লাক মিস্ট চাই। আমরা যদি আর মাত্র দশজন মন্ত্রীকে বশে আনতে পারি তাহলেই ভোটের ফলাফল আমাদের পক্ষে চলে আসবে। এমনকি আমাকে প্রধানমন্ত্রী করে নতুন সরকার গঠনও সম্ভবপর হবে যাবে।”
হাসান কথা-বলল এবার, “নতুন একটা চালান তৈরি হচ্ছে। কিন্তু লিবিয়ানরা যদি আমাদের সাহায্য প্রত্যাখ্যান করে তাহলে এটা কোনো কাজেই আসবে না। অবস্থা টালমাটাল হলেও এখনো কিন্তু হাল ছাড়েনি ওরা।”
সাকির মাথা ঝাঁকালো, “অবস্থা আরো খারাপ করে দেবো।”
“পারবেন?” পিওলা জিজ্ঞেস করল। আমি বুঝেছি যে পানির প্রধান উৎসটাই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কয়েকটা ছোট ছোট স্টেশনে কিন্তু এখনো পানি ওঠছে। আর ত্রিপলির কাছেই কিন্তু একটা পানি লবণমুক্তকরণ প্রাষ্ট পূর্ণ শক্তিতেই চলছে।”
“ঐ প্লান্টটা বন্ধ করার ব্যবস্থা করছি। আর আমাদের পাম্পগুলো থেমে থেমে না চালিয়ে একটানা চালালেই ছোট স্টেশনগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে অচিরেই। চব্বিশ ঘণ্টা পর লিবিয়ানরা এক কাপ পানিও পাবে না আর।”
“তাহলে তো কাজ হয়েই যাবে।” পিওলা সম্মত হলো।
হাসানও সময় দিল ব্যাপারটার, আর তাতে আমরাও নাক গলানোর একটা অজুহাত পেয়ে যাবো। সবচেয়ে ভালো হয় আমাদের সৈন্যরা যদি বন্দুকের বদলে ঘরে ঘরে পানির বোতল পৌঁছে দেয়।”
সাকির মাথা ঝাঁকালেন। আরো কয়েক হাজার মানুষ হয়তো মারা যাবে। হয়তো দশ হাজার। কিন্তু ফলাফল একই থাকবে। মিসরই লিবিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করবে। মিসরের প্রতিনিধিরাই আরজেরিয়া, তিউনিসিয়া শাসন করবে। আর সাকির নিয়ন্ত্রণ করবে এদের সবাইকে।
“ঠিক আছে, এই কথাই রইল। আমি তাহলে যত তাড়াতাড়ি পারি ইতালি ফিরে যাই।” পিওলা বলল।
কেউ কিছু বলার আগেই একটা ফোন বেজে উঠল। হাসান ধরলো সেটা। দুয়েকটা হু-হুঁ করেই রেখে দিল। মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছে।
“পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পের সিকিউরিটি থেকে ফোন করেছিল। কেউ সম্ভবত ভেতরে অবৈধভাবে ঢুকে পড়েছে। ওরা লোকটাকে খুঁজছে কিন্তু এখনো পায়নি। আর একটা ট্রামকারও নাকি পাওয়া যাচ্ছিল না। সেটা নাকি আনুবিসের মূর্তির একশো ফুট দূরে পাওয়া গিয়েছে।”
সাকির ঠোঁট গোল করে শিস দিয়ে বললেন, “তার মানে অনুপ্রবেশকারী ওদের ওখানে নেই, আমাদের এখানে।”।
হীট ল্যাম্পগুলোর তাপের প্রবাহ উপেক্ষা করে কার্ট মঙ্গল সদৃশ্য জায়গাটা দিয়ে এগুলো।”
“এটা আমাদের ইনকিউবেটর।” গোলনার বলল।
“কাজ কী এটার?” চারপাশে দেখতে দেখতে জিজ্ঞেস করল কার্ট।
চারদিকে শুধু শুকনো মাটির স্তূপ। আর ওটা থেকে নির্দিষ্ট নকশা করে করে অনেক মাটির ঢিবি মতো উঁচু হয়ে আছে। “কিছু চাষ করছেন নাকি এখানে?”
“চাষ হচ্ছে না কিছুই। ঘুমাচ্ছে। শীত নিদ্রা যাপন করছে।”
“দেখান দেখি।”
গোনার কার্টকে রুমের এক কোণায় নিয়ে গেল। তারপর একটা ঢিবির পাশে হাঁটু মুড়ে বসে পড়ল। তারপর একটা ছোট নিড়ানি দিয়ে আলগা মাটি সরিয়ে একটা সফট বলের সাইজের মাটির দলা তুলে আনলো। গোলনার তারপর ঘষে ঘষে ওটার ওপরের মাটি সরাতে লাগল।
কার্ট একবার ভেবেছিল কিলবিলে কোনো এলিয়েন হয়তো দেখতে পাবে। কিন্তু বাইরের আবরণটা সরাতেই দেখা গেল একটা চিমসানো। আধা মমি করা ব্যাঙ।
“এটা হচ্ছে একটা আফ্রিকান কোলা ব্যাঙ।” গোলানার বলল।
“এরকমই কয়েকশো তো ঐ সমাধিগুলোয় দেখলাম।”
“এটা জীবিত, তবে ঘুমাচ্ছে। শীত নিদ্রা।”
কার্ট ব্যাপারটা ভেবে দেখলো। শীতপ্রধান এলাকায় প্রাণীরা সাধারণত শীতকালে শীত নিদ্রায় যায়। তবে আফ্রিকায় এটা খরা থেকে বাঁচার একটা উপায়। তার পর বলল, “এটা এখন শীত নিদ্রার কারণ আপনি এটাকে মাটিতে পুঁতে তারপর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাই না?”
