“আর ওরা উল্টোদিকের ঐ সুড়ঙ্গ দিয়ে গিয়েছে।” জো বলল।
কার্ট ইতোমধ্যে রওনা দিয়ে ফেলেছে। “দেখা যাক ধরা না খেয়েই ওদেরকে খুঁজে বের করতে পারি কি-না।”
.
৫০.
ওসাইরিস পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পের সিকিউরিটি সুপারভাইজার তখনো কন্ট্রোল রুমেই বসে আছেন। কিছুক্ষণ পরপর ঘড়ি দেখছেন। সামনে রাখা টিভি স্ক্রীনগুলো কেঁপে উঠল। ক্যামেরাগুলো আবার ঘুরতে শুরু করেছে। সেই একঘেয়ে বিরক্তিকর ছবিই আবার দেখা যাবে। চোখ খুলে রাখতে রীতিমত যুদ্ধ করতে হচ্ছে তার। মেইন বিল্ডিং। তার পাশের বিল্ডিং, উত্তর দিক, দক্ষিণ দিক, তারপর দালানের ভেতরের ক্যামেরা–সবটাতেই কিছুক্ষণ পর পরই হুবহু একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। সম্ভবত এই সিকিউরিটি ভিডিও দেখার চেয়ে একঘেয়ে চাকরি আর নেই। সব সময়ই একই জিনিস।
হঠাৎ এই চিন্তাটা মাথায় আসতেই সুপার ভাইজারের ঘুম কিছুটা চটে গেল। কোত্থেকে যেন ক্ষীণ একটা সন্দেহ উঁকি দিল মাথায়।
“সব সময়-ই এক।”
আসলেই তো, সবসময়ই এক হয় কীভাবে? তা তো হওয়ার কথা না। মাত্রই টেকনিশিয়ানটা প্রণালির ক্যাটওয়াকের ক্যামেরা ঠিক করতে গেল। তাকে তত কমপক্ষে তিনটা ক্যামেরায় দেখা যাওয়ার কথা।
রেডিওটা হাতে নিয়ে সুইচ টিপে বললেন, “কায, কন্ট্রোল রুম থেকে বলছি। কোথায় তুমি?”
একটু বিরতি দিয়েই কাযের কণ্ঠ শোনা গেল। “আমিতো ক্যাটওয়াকে। ক্যামেরা ঠিক করছি।”
“কোন দিক দিয়ে গিয়েছে ওখানে?”
“মানে?”
“যা শুনতে চেয়েছি বলো।”
“বারান্দা দিয়ে বেরিয়ে পূর্বদিকের সিঁড়ি দিয়ে নেমেছি। রাস্তা তো একটাই।” কায জবাব দিল।
কিন্তু একবারের জন্যেও ওকে ক্যামেরায় দেখা যায়নি।
“আবারো সিঁড়িতে আসো তো৷ এখুনি।” সুপারভাইজার আদেশ দিল।
“কেন?”
“আসতে বলেছি আসো।”
সুপারভাইজার টেবিলে আঙুল দিয়ে টোকা দিতে শুরু করলেন। ঘুম পুরোপুরি চটে গিয়েছে তার। রক্তে ভরে গিয়েছে অ্যাড্রেনালিন।
“আচ্ছা। আমি এখন সিঁড়িতে। কি হয়েছে?”
সুপারভাইজার ক্যামেরাগুলো ঘুরিয়ে আবার পূর্বদিকের সিঁড়িতে তাক করল। সাথে সাথে দশ্যটা চার ভাগে ভাগ হয়ে গেল। প্রতিটা ক্যামেরা প্রতিটা তলার সিঁড়ি দেখাচ্ছে। কোনো পরিবর্তন নেই। “তুমি কয় তলায়?”
“তিন তলায়। আমিতো দাঁড়িয়েই আছি। দেখতে পাচ্ছেন না?”
সুপারভাইজার ওকে দেখতে পাচ্ছে না। ওনার কেন যেন মনে হচ্ছে বিশাল কোনো ঘাপলা আছে ব্যাপারটায়। সাধারণ কোনো কারিগরি ত্রুটি এটা না।
“না, তোমাকে দেখা যাচ্ছে না। ওখানকার ক্যামেরাটা নষ্ট না তো?”
“না, ঠিকইতো আছে দেখা যাচ্ছে।” কায জবাব দিল।
সুপারভাইজার পুরো ব্যাপারটা মিলানোর চেষ্টা করতে লাগল। প্রণালির একটা ক্যামেরা হঠাৎ নষ্ট হয়ে গেল, সেই সাথে ভেতরের ক্যামেরাগুলোর সব দৃশ্যও একই দৃশ্যে আটকে দেয়া হয়েছে। তার মানে তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ ঢুকে পড়েছে এখানে।
সুপারভাইজার সাথে সাথে সাইলেন্ট অ্যালার্ম টিপে দিল। এটায় শুধু গার্ডেরা সতর্ক হবে। তারপর রেডিও হাতে নিয়ে সবদিকে নির্দেশ পাঠালো, “পুরো বিল্ডিং লক করে দাও। কেউ যেন ঢুকতে বা বের হতে না পারে। এখনি সার্চ করতে বের হও সবাই। বিল্ডিংয়ের প্রতি ইঞ্চি তল্লাসী করতে হবে। সম্ভবত কেউ বিল্ডিংয়ের ভেতরে অবৈধভাবে ঢুকে পড়েছে। একের বেশিও হতে পারে। ক্যামেরা বা অন্য কোনো কিছুর ওপর ভরসা করা যাবে না। সশরীরে প্রত্যেকটা অংশ চেক করবে সবাই।”
.
সিকিউরিটি সেন্টার থেকে বহু দূরে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এখন সেই দুই সিটের ATV গাড়ির সামনে বসা কালো পোশাক পরা দুজনকে নিয়ে ব্যস্ত। হঠাৎ ওদেরকে মাটি খুঁড়ে উদয় হতে দেখে আক্ষরিক অর্থেই চোয়াল ঝুলে পড়েছিল লোক দুটোর। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ধাতস্ত হওয়ার আগেই জো আর কার্টের ঘুসিতে জ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়েছে একপাশে। তারপর একপাশে টেনে সরাতেই দেখে ল্যাবরেটরির দরজা।
ল্যাবরেটরির দরজা কাঁচের তৈরি। চারপাশে রাবার দিয়ে মোড়া। কার্ট ধাক্কা দিয়ে দেখে দরজা খোলা। ঢুকে পড়ল ভেতরে। জো আর রেনাটাও ঢুকলো পিছু পিছু। ভেতরে দুজন কাজ করছে। এদের দুজনেরও ওদেরকে দেখে চোয়াল স্কুলে গেল।
পিস্তল তুললো জো। “নো নড়ন-চরন।”
পুরুষ লোকটা হাত তুলে দাঁড়িয়ে থাকল কিন্তু মহিলাটা অ্যালার্ম বা ইন্টারকমের সুইচ টিপ দেয়ার জন্য এগুলো। রেনাটা মাঝপথেই তাকে ঘাড়ের নিচে একটা মেরে ঠাণ্ডা করে দিল।
লোকজনের যে কি হলো। নড়তে না করলাম আর তাতেই কি-না লাফ ঝাঁপ শুরু করল।” জো বলল।
কার্ট রেনাটার দিকে ফিরে বলল, “পরের বার বারে মারামারির সময় আপনি আমার সাথে থাকবেন।”
পুরুষ লোকটা তখন হাত উঁচিয়েই দাঁড়িয়ে আছে। কোনো ধরনের প্রতিরোধের কোনো ইচ্ছেই তার নেই।
“আপনি একজন বিজ্ঞানী?” কার্ট জিজ্ঞেস করল।
“বায়োলজিস্ট।” লোকটা বলল।
“আমেরিকান নাম কি আপনার?”
“ব্রাড গোলনার।”
“আপনি ওসাইরিসের হয়ে কাজ করেন। সবাই যেটাকে ওসাইরিসের ফার্মাসিউটিক্যাল ডিভিশন হিসেবে জানে।” কার্ট বলল।
“আমাকে কায়রোর একটা ল্যাবে কাজ করার কথা বলে চাকরি দেয়া হয়। আলেকজান্দ্রিয়াতেও একটা ল্যাব আছে। জিয়া আমার সাথে কাজ করে।” অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকা মহিলাকে ইঙ্গিত করল ব্রাড।
“কিন্তু এই ল্যাবে কিছু বিশেষ জিনিস বানানো হয়, তাই না?” কার্ট বলল।
