ATv-টা ওদের নিচের রুমটা পার হয়ে সোনার স্ফিংসটার পাশ দিয়ে আর একটা সুড়ঙ্গে ঢুকে গেল।
“যদি না এই ব্যাটারা এখানে একটা পার্ক খুলে থাকে, আমি বলবো যে এটা একটা ওষুধের কারখানা।” কার্ট বলল।
“আমিও সেটাই ভাবছি।” রেনাটা বলল।
কার্ট লোকগুলোর পিছু নেয়ার জন্য এগোতে যাবে তখনই আবার লোকজনের কণ্ঠ শোনা যেতে লাগল। স্ফিংস এর পাশের সুড়ঙ্গটা দিয়েই কয়েকজন লোককে বের হয়ে আসতে দেখা গেল। হেঁটে হেঁটে পাথরের কফিনগুলো পার হয়ে কুমিরের গর্তটার কাছে চলে এলো তারা।
ওখানেই দাঁড়ালো সবাই। একটু পর আরও দুজন লোককে দেখা গেল আসতে।
“হাসান।” নিচু স্বরে বলল কার্ট।
“পাশের জন কে?” জিজ্ঞেস করল জো।
“আমার মনে হচ্ছে ওটা সাকির।” জবাব দিল কার্ট।
.
৪৯.
“আপনারাই পারবেন লিবিয়াকে আবার নতুন করে গড়ে তুলতে।” সাকির বলল অতিথিদেরকে।
“কি হিসেবে? আপনার প্রতিনিধি?” তিনজনের একজন বলল, “আর তারপর কী হবে? আপনার আদেশ পালন করতে হবে? ইংরেজরা যেভাবে মিসর শাসন করতো আমরাও সেভাবেই লিবিয়া চালাবো, তাই তো? আর পিওলা? আপনার লাভটা কী এখানে? নতুন করে উপনিবেশ শুরু করতে চান নাকি?”।
“আমার কথা শোনেন—” পিওলা বলা শুরু করল। কিন্তু সাকির ওকে থামিয়ে দিল।
“কেউ না কেউ আপনাদের ওপর ছড়ি ঘুরাতেই। ইউরোপ বা আমেরিকার না হয়ে সেটা এই আরবের-ই কেউ হওয়া ভালো না?”
“সেটা আমরা-ই ঠিক করবে।” লিবিয়ান লোকটা বলল।
“আর কতবার বোঝাতে হবে? পানির অভাবেই আপনারা সবাই মরবেন। একেবারে সবাই। যদি দরকার হয় আপনাদের প্রত্যেকটা লোককে মেরে মিসরীয় লোজন দিয়ে আপনাদের দেশ ভরে দেব।”
লোক তিনজন চুপ করে গেল। কিছুক্ষণ পর দুজন নিজেদের মধ্যে আলাপ শুরু করল। তারপর তারা সাকিরের প্রস্তাবই মেনে নেবে ঠিক করল।
করছেন টা কী আপনারা?” নেতা মতো লোকটা বলল।
“আমরা এদের সাথে পারবো না। আমরা ওদের কথায় রাজি না হলে, অন্য কেউ হবে। এখন হয়তো খানিকটা ক্ষমতা হারাবো কিন্তু তখন একদমই আর কোনো ক্ষমতা থাকবে না আমাদের।”
“আপনার জায়গায় আমি থাকলে ওদের কথা মেনে নিতাম। ঠিক কথাই বলছে ওরা।” সাকির বললেন।
“না। আমি আপনার প্রস্তাবে সম্মত না।” নেতা বললেন।
প্রচণ্ড আক্রোশে তিনি সাকিরের দিকে তাকালেন। কিন্তু সাকির শান্তভাবে তার দিকে একটা নল তাক করে ওপরের বোতামটা টিপে দিলেন। ছোট্ট একটা তীর বের হয়ে লিবিয়ান বিরোধী দলের নেতার বুকে আঘাত করল।
লোকটার মুখ যে বিস্ময়ে ঝুলে পড়ল তারপর সাদা হয়ে গেল। সাথে সাথেই হাঁটু ভেঙে পড়ে গেলেন উনি। সাথের দুজন তাকে ধরতে গিয়েও আবার হাত ফিরিয়ে নিয়ে মাথার ওপর তুলে দাঁড়িয়ে থাকল। তারা এই মারামারিতে অংশ নিতে চায় না।
“ভালোই। বুদ্ধির কাজ করেছেন। আমি আপনাদেরকে দেশে ফেরত পাঠাবো। সেখানেই আমার পরবর্তী আদেশের অপেক্ষা করবেন। সরকারের পতন ঘটলে আলবার্তো নতুন কাউকে ক্ষমতায় বসানোর জন্যে মনোনীত করবে। আর আপনাদের কাজ হবে তার সাথে অতীতের সমস্ত দ্বন্দ্ব ভুলে সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা করা।”
“তারপর?” একজন সাহস করে জিজ্ঞেস করেই ফেলল।
“তারপর আপনারা আপনাদের পুরস্কার পাবেন। আবারো দেশে পানি পাওয়া যাবে। আগের চাইতে আরো বেশি। আর আপনাদেরও আজকের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যে গর্ববোধ হবে।”
ওরা পরস্পর কয়েকবার মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে মাটিতে পড়ে থাকা তাদের নেতার দিকে তাকাল, “ওনার কী হবে?”
“উনি মারা যাননি। আমার সবচেয়ে নতুন অস্ত্রটার যন্ত্রণা উপভোগ করছেন। এটা হচ্ছে ব্লাক মিস্ট-এর নতুন সংস্করণ। এটা মানুষকে প্যারালাইজড করে দেয়। আগের চাইতে কম শক্তি এটার। এর ফলে মানুষ কোমায় যায় ঠিক। তবে চেতনা পুরোপুরি থেকে যায়। ডাক্তারি ভাষায় বলে “লকড-ইন সিনড্রোম।” একজন সাধারণ মানুষের মতোই উনি সব দেখবেন, শুনবেন বা বুঝবেন কিন্তু কিছু বলতে বা করতে পারবেন না। এমনকি কাঁদতেও পারবেন না।”
সাকির নিচে ঝুঁকে পড়ে থাকা লিবিয়ান নেতার কপালে তর্জনী ঠেকিয়ে। ধাক্কা দিয়ে বললেন, “কি? ঠিক বলেছি না?”
“এটা কখনো ভালো হবে না?”
“হবে। তবে ততোক্ষণে দেরি হয়ে যাবে।”
সাকির আঙুলে ইশারা করতেই গার্ডরা ছুটে এলো তারপর বিন্দুমাত্র ইতস্তত করে লোকটাকে তুলে নিয়ে কুমিরের গর্তে ফেলে দিল।
কুমিরগুলো এবার সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া দেখালো। মুহূর্তেই ঝাঁপিয়ে পড়ল অবশ শরীরটার ওপর। একটা হাত ছিঁড়ে নিলো, একটা পা ছিঁড়ে নিলো। তৃতীয় একটা এসে ধড়ের একপাশ ধরে গর্তটার ভেতরের দিকে টেনে নিয়ে গেল।
“কুমিরগুলোকে আমরা খুব একটা খেতে দেই না।” দাঁত বের করে বলল হাসান।
বাকি লিবিয়ানরা আতঙ্কিত চোখে দৃশ্যটা দেখতে লাগল।
“কুমিররা দয়া-মায়ার ধার ধারে না। আমিও না। এখন আমার সাথে আসুন।” সাকির বলল হাঁটতে হাঁটতে।
পুরো দলটাও তার পিছু পিছু কাছের সুড়ঙ্গটায় ঢুকে গেল।
কার্ট, জো আর রেনাটা পুরো ঘটনাটাই ওপর থেকে দেখেছে। ওরা যে একটা উন্মাদ আর বিকারগ্রস্ত একটা লোকের সাথে লেগেছে সে ব্যাপারে ওরা নিশ্চিত।
“এই লোকটার মতো ভাগ্য না হলেই হয়। জো বলল। “হুম, কুমিরের খাবার হওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই।” কার্টও সম্মত হলো।
“যাই হোক, ATV-তে করে যারা আসলো, তাদেরকে দেখে ডাক্তার বা ওরকম মনে হলো। তার মানে এখানে অবশ্যই একটা ল্যাবরেটরি আছে। ওটা খুঁজে বের করতে হবে।”
