“মনে হয় না।” রেনাটা জবাব দিল।
দরজাটা বন্ধ করে এবার ওরা হামাগুঁড়ি দিয়ে সামনে এগুলো।
রুমের শেষ মাথায় এলিভেটরের দরজাটা খুলে গেল। একদল শোক নামলো ওটা থেকে। তিনজনের পরনে কালো ইউনিফর্ম। বাকি তিনজনের পরনে আলাদা ধরনের পোশাক। দেখতে অনেকটা আরবদের পোশাকের মতো। আর সর্বশেষ লোকটার পরনে শার্ট আর বিজনেস স্যুট। অবশ্য টাই নেই সাথে।
লোকগুলো হেঁটে একটা জেনারেটরের শেষ মাথায় গিয়ে থামল। একই সময়ে গমগমে শব্দটাও কমতে শুরু করল।
“কেউ একজন উৎপাদন বন্ধ করছে।” জো বলল।
“আর পাঁচটা মিনিট আগে করলেই তো আমাদের এতো ভয় পাওয়া লাগতো না।” কার্ট বলল।
জেনারেটরের গুঞ্জন কমতে কমতে একসময় থেমে গেল। ডায়নামোগুলোর ওপর জ্বলতে থাকা সবুজ বাতিগুলো প্রথমে হলুদ, তারপর লাল হয়ে গেল। আর লোকগুলো একেবারে শেষ মাথায় দেয়ালের কাছে গিয়ে থামল। ওখানে একটা কম্পিউটার প্যানেল বসানো।
“আমরা কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করি তা তো দেখলেই।” একজন লোক বলল। শব্দহীন খালি রুমে এতোদূর চলে আসছে কথাগুলো। আর এখন আপনি দেখবেন। কেন আমাদের দাবিগুলো মেনে নেয়া ছাড়া আপনার কোনো উপায় নেই।”
“এসব বন্ধ করুন।” আরবদের একজন বলল, “আমরা এসেছি সাকিরের সাথে দেখা করার জন্যে।” অদ্ভুত টানে ইংরেজি বলছে সে। মাথা নাড়া আর হাত নাড়া থেকে বোঝা যাচ্ছে বাকি দুজনও ওর সাথেরই।
“দেখা তো করবেনই।” স্যুট পরা লোকটা বলল। “উনিও আপনাদের সাথে আলাপ করার জন্যেই অপেক্ষা করছেন।” এই লোকটার টানে মনে হলো ইউরোপিয়ান।
হয় ইতালিয়ান না হয় স্প্যানিশ। তবে এরা সবাই ইংরেজি জানে তাই এই ভাষাতেই কথা বলছে।
“আলোচনা? আমাদেরকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। আপনি কী চালাকি করার চেষ্টা করছেন নাকি পিওলা?” আরব লোকটা বলল। কার্ট টের পেল নামটা শুনেই রেনাটা কেমন আড়ষ্ট হয়ে গেল।
“আরে কিসের চালাকি! তবে তার আগে আপনাদের আসল অবস্থানটা আপনাদের বোঝা দরকার। না হয় কোনো বোকামি করে বসবেন।” পাশেই ইউনিফর্ম পরা একটা লোক একটা সুইচ টিপ দিল। সাথে সাথে পাশের দেওয়ালটা ওপরে উঠে গেল, ঠিক একটা গ্যারেজের দরজার মতো। পিছনেই একটা অন্ধকার সুড়ঙ্গ দেখা গেল। এতদূর থেকে কার্ট শুধু একজোড়া রেল লাইন আর একটা বিশাল ব্যাসের পাইপের বাক খাওয়া প্রান্ত দেখতে পেল। ওটা দেখে কার্টের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে দেখা চালকবিহীন স্কাই ট্রেন এর কথা মনে পড়ল।
“দেখে তো মনে হচ্ছে এই পাইপটা দিয়ে বের হওয়া পানিই আমাদেরকে ভাসিয়ে দিতে চেয়েছিল।” জো বলল।
রেনাটাও এদিক সেদিক তাকিয়ে চারপাশটা দেখছিল। আমি কোনো জল বিদ্যুৎ ইঞ্জিনিয়ার না। কিন্তু নদীর স্রোতের সাথে নব্বই ডিগ্রি বরাবর একটা পাইপাস টানেল থাকার কোনো দরকার আমি বুঝতে পারছি না।”
“না। আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার। আমি বলছি ঐ পানি নদী না অন্য কোথাও থেকে আসছে।” জো বলল।
“এদিকে লোকগুলোর মধ্যে আবার তর্ক লেগে গিয়েছে। কিন্তু এবার ওরা কথা বলছে অনেক নিচু স্বরে আর দ্রুত। ফলে ওরা ধরতে পারলো না কি নিয়ে লেগেছে ঝগড়া।
“সম্ভবত ট্রামে উঠবে কি উঠবে না তা নিয়ে তর্ক করছে। আমি হলে উঠতাম না।” জো বলল।
“কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সেটাই আমাদেরকে করতে হবে।” বলতে বলতে কার্ট উঠে দাঁড়িয়ে ওর ব্যাগটা খুলে একটা নাইন মিমি বেরেটা বের করে সিঁড়ি দিয়ে নামা শুরু করে বললো। “চলে যাওয়া যাক।”
.
৪৬.
ওসাইরিস পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পের সিকিউরিটি সেন্টারে একটা কাজ না করা ক্যামেরা ধরা পড়েছে। দায়িত্বে থাকা একজন সিকিউরিটি গার্ড অনেক চেষ্টা করল ক্যামেরাটা আবার চালু করার। ক্যামেরায় কন্ট্রাস্ট পরিবর্তন করা থেকে শুরু করে ব্রাইটনেস সেটিংস পরিবর্তন করা বা ক্যামেরা জুম করা, কয়েকবার এদিক ওদিক ঘুরিয়েও দেখেছে কিন্তু কাজ হয়নি। তারপর সে তার সুপারভাইজারকে ফোন দিয়ে সব জানায়।
“কি হয়েছে বলে মনে হয়?”
“সম্ভবত সেন্সর স্কুলে গিয়েছে। আমরা কোণার দিকে খানিকটা জায়গা দেখতে পাচ্ছি কিন্তু মাঝখানটা ফকফকা। ওটা সরিয়ে আরেকটা লাগাতে পারবে?” সুপারভাইজার বলল।
“আরেকটা সেন্সর থাকলে পিরবো না কেন।” বলল টেকনিশিয়ান লোকটা। তারপর সাপ্লাই কেবিনেটে গেল জিনিসটা খুঁজতে। কয়েকটা বক্স খোঁজার পর পেল জিনিসটা। “পেয়েছি।”
“কতক্ষণ লাগবে সারাতে?”
“মিনিট বিশেকের বেশি লাগার কথা না।”
“তাড়াতাড়ি করো তাহলে।” সুপারভাইজার বলল। তারপর কম্পিউটারের সামনে চেয়ার টেনে নিয়ে বসতে বসতে বলল, “আমি এখানেই আছি। কাজ শেষ করে জানাও। টেস্ট করে দেখবো।”
টেকনিশিয়ানটা যন্ত্রপাতি হাতে বাইরে বের হতেই ক্যামেরাটা আবার ঠিক হয়ে গেল।
“অদ্ভুত তো!” সুপারভাইজার বলল। সাথে সাথে সে আগের ভিডিওগুলো চালিয়ে দেখলো। সবকিছুই ঠিক আছে। কিন্তু কতক্ষণ ধরে?
“যাই হোক পাল্টেই দাও। যদি সেন্সরটা খারাপ হয়। তাহলে আবারো নষ্ট হয়ে যেতে পারে।” সুপারভাইজার বলল আবার।
টেকনিশিয়ান মাথা ঝাঁকিয়ে বেরিয়ে গেল। সুপারভাইজার দেয়ালে ঝোলানো ঘড়িটার দিকে চাইলো। তার শিফট শেষ হতে ঘণ্টাখানেকের ওপর বাকি।
ওসাইরিস ভবনের মাইলখানেক দূরে ইদো আবার সবকিছু ব্যাগে ভরছেন। ট্রাইপড়টা ভাজ করে লেসারের ওপরে ক্যাপ লাগালেন তারপর সেটাকে একটা বক্সের ভেতরে ভরলেন। তারপর সেটা পাশের সিটেই রেখে দিলেন। যাতে কেউ তাকে থামালেই ওটা বাইরে ফেলে দিতে পারেন।
