ইদো মাথা ঝাঁকালো, “আমি ওগুলো ব্যবস্থা করতে পারবো। তারপর?”
কার্ট বলা শুরু করল এরপর, “আমরা নৌকায় করে এই জায়গাটায় যাব। এটা হচ্ছে বিল্ডিংটার প্রায় আধা মাইল দক্ষিণে। আমি, রেনাটা আর জো পানিতে নেমে পশ্চিম তীর ঘেষে এগুবো। তারপর প্রণালিটায় ঢুকে, প্রথম ধাপের টারবাইনগুলো পার হয়ে, দ্বিতীয় স্তরের টারবাইনগুলোর ঠিক আগে… এখানে এসে পৌঁছুবো।”
“শুনতে তো সহজ-ই লাগছে, ইদো বলল।
“আমি নিশ্চিত ঝামেলা বাধবেই।” জো বলল।
“অবশ্যই।” বলল কার্ট। তারপর রেনাটার দিকে ফিরলল, “নশাটা আর একবার বের করুন তো।”
রেনাটা আবারও ফোনে স্পর্শ করতে পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্লুপ্রিন্টটা দেখা গেল।
“এই প্রণালিটায় ঢুকতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। কিন্তু ভেতরে ঢুকেই আমাদেরকে এই টারবাইনগুলো পার হতে হবে। যেহেতু তখন রাত। তাই ধারণা করছি যে তখন ওরা খুব বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করবে না, তবে সেটা যে কোনো মুহূর্তেই পরিবর্তন হতে পারে। আর যদিও স্টেশনটা থামানো থাকবে, টারবাইনগুলোর ঘোরা কিন্তু থামবে না।”
“ওগুলোর গায়ে লাগা চলবে না, তাই তো?” জো বলল।
“হ্যাঁ। আর সেটা করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ভেতরের দেয়ালের দিকে থাকা। প্রথম টারবাইনের আশেপাশে অনেক ফাঁক আছে। একবার ওগুলোকে পেরুতে পারলেই আমরা পরের টারবাইনগুলোর দিকে এগুবো। তারপরেই শুরু হবে আসল খেলা।”
নকশাটা দেখে জো দুটো জিনিস খেয়াল করেছে। দুই নম্বর টারবাইনটা প্রথমটার চাইতে বড়। আর ওটার কিনার বরাবর দেয়াল থেকে খানিকটা অংশ বের হয়ে আছে। দেশে অনেকটা পিনবল মেশিনের ফ্লিপারের মতো মনে হয়। ও ওগুলোর দিকে দেখালো।
“ডিফ্লেকটর গেট। এগুলো থাকলে টারবাইনের দিকে আরো বেশি পানি প্রবাহিত হয়। যখন বেশি বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় তখন এগুলো কাজে লাগে।” বলল কার্ট। যখন ভেতরে ঢোকানো থাকে তখন এগুলো দেয়ালের সাথে মিশে থাকে আর তখন খানিকটা পানি দেখা যায় টারবাইনের পাখায় না লেগেই চলে আসে। আর যখন ওগুলো ভোলা থাকে তখন ওগুলোর প্রান্ত একেবারে টারবাইনের মাঝ পর্যন্ত চলে আসে। এগুলো ছাড়া ঐ টারবাইনের কাছে যাওয়া সম্ভব না। তবে পাখার কাছে যাওয়ার আগেই আমরা পানি থেকে বের হয়ে আসবো।” তারপর নকশার একটা জায়গা দেখিয়ে বলল, “এখানে একটা মেইনটেন্যান্স সিঁড়ি আছে। গেটের একপাশে ঝালাই করে লাগানো। আমরা দেয়ালের ধার ঘেষে সাঁতরাবো তারপর এটা ধরে উঠে যাবে।”
“যতক্ষণ গেটটা বন্ধ থাকছে, ততোক্ষণতো কোনো ঝামেলা নেই কিন্তু যদি ওটা সামনে বেরিয়ে আসে তখন পানির স্রোতের কী হয়?” জো জিজ্ঞেস করল।
“পুরোটা খোলা থাকলে পানির স্রোত দ্বিগুণ হয়ে যায় আর আর মোট শক্তির পরিমাণ নির্ভর করে নদীতে পানির পরিমাণের ওপর। বছরের এই সময়টায় সাধারণত এটা দুই নটের মতো হয়।”
“দুই নটে সমস্যা হবে না, তবে চার নটে হবে।” জো বলল।
কার্ট মাথা ঝাঁকালো। এটুকু ঝুঁকি নিতেই হবে।
জো ব্যাপারগুলো আবার চিন্তা করল। মাঝরাতে কোনো স্টেশনে পূর্ণ শক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোনো কারণই নেই। সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা লাগে বিকেল বেলায়।
টারবাইনে কাটা পড়ে ভর্তা না হয়ে যদি পানির ওপরে উঠতে পারি, তাহলে শুরু হবে আসল সমস্যা।” কার্ট বলল।
“চারপাশে অবশ্যই ক্যামেরা থাকবে।” ইদো মনে করিয়ে দিল। রেনাটা জবাব দিল এবার, “হ্যাঁ আছে। এখানে আর ওখানে। কিন্তু এই ক্যামেরা দুটোর মুখ আরেক দিকে ঘুরানো। কেউ বিল্ডিংটার দিকে আসছে কি-না সেটা দেখার জন্য। একবার প্রথম টারবাইনগুলো পার হতে পারলেই মাত্র একটা ক্যামেরা নিয়েই চিন্তা থাকবে। এটা এখানে লাগানো।” আরেকটা জায়গা দেখালো রেনাটা। এটায় দেওয়ালের পাশের পুরো ফুটপাতটাই দেখা যায়। আর এই ফুটপাতটাই আমাদেরকে ব্যবহার করতে হবে।”
“আর এজন্যেই লেজারটা দরকার।” ইদো বললেন।
“হ্যাঁ। একটা লেসারই পারে সেন্সরগুলোকে ওভারলোড করতে। আর এটা হবে আপনার দায়িত্ব। নদীর ওপাড়েই সামান্য উজানে একটা বালিয়াড়ি আছে। ওখান থেকেই সবচে ভালো পারবেন। একবার ঠিকমতো লেজারটা তাক করতে পারলেই সেন্সরগুলো ঠিকমত সংকেত দিতে পারবে না। আর ওরা একটা খালি স্ক্রিন বাদে আর কিছু দেখবে না।” ওর কথার খেই ধরলো কার্ট। “আর একবার ক্যামেরা কাজ করা বন্ধ হলেই আমরা পানি ছেড়ে উঠে যেতে পারবো। তারপর এই ফুটপাত ধরে এই দরজা দিয়ে ঢুকবো।”
“লেজারটা কতক্ষণ ধরে রাখতে হবে?”
“দুই মিনিটেই কাজ হয়ে যাবে।” রেনাটা জবাব দিল।
“আর ভেতরের সিকিউরিটি ক্যামেরা বা অ্যালার্মের কী হবে?” ইদো জিজ্ঞেস করলেন।
“ভেতরে ঢুকলে আমি ওগুলোর ব্যবস্থা করতে পারবো।” রেনাটা বলল। “ক্যামেরা আর অ্যালার্ম দুটোই হালিফ্যাক্স নামের একটা সফটওয়্যার দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আমাদের টেকনিক্যাল সেকশনের লোকজন আমাকে ওটা হ্যাঁক করা শিখিয়ে দিয়েছে।”
রেনাটা এবার ভেতরের বিল্ডিংয়ের নকশাটা বের করল, “হাসান এই দরজাটা দিয়ে ভেতরে ঢুকেছে। এই করিডোরে আসার আগ পর্যন্ত ভালোই সিগনাল পাচ্ছিলাম, তারপর সম্ভবত এই এলিভেটরে ওঠে। তারপরই সিগনাল দুর্বল হতে হতে একসময় আর পাওয়া যায়নি। এ থেকে ধারণা করছি যে সে নিচের দিকে নামে, ওপরে না। তার মানে সম্ভবত ও এখন এই পাওয়ার জেনারেশনের কন্ট্রোল রুমে আছে।”
