“হতে পারে যে ওরা হয়তো পানির গতি বাড়ানোর কোনো উপায় বের করেছে”, জো বলল।
“হতে পারে। যাই হোক সেটা আমাদের সমস্যা না।” বলে কার্ট রেনাটার দিকে ফিরলো। “আমাদের বন্ধু এখন কোথায়?”
“আমার মনে হচ্ছে এটাই আমাদের সমস্যা। ও ঠিক নির্মাণাধীন ভবনটার পাশেই নেমেছে। সম্ভবত মেইন বিল্ডিংটায় ঢুকবে।” রেনাটা ডিসপ্লের দিকে তাকিয়ে বলল।
কার্ট একটা ছোট্ট বাইনোকুলার চোখে তুললো। এতো দূর থেকেও বোঝা যাচ্ছে যে, এলাকাটার সিকিউরিটি খুব কড়া। কুকুর হাতে গার্ডরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। গেট দিয়ে ঢোকার সময় প্রতিটা গাড়ি তল্লাসী করা হচ্ছে। দেখে তো মনে হচ্ছে আর্মি ক্যাম্প।”
“হুম, যেন, একটা দুর্গ। আর আমাদের বন্ধু হাসান ওতেই আশ্রয় নিয়েছে।” জো বলল।
“এখন?” রেনাটা জিজ্ঞেস করল।
“ওসাইরিস ইন্টারন্যাশনাল সম্পর্কে যতটা সম্ভব জানতে হবে। আর হাসান যদি শীঘ্রই ফিরে না আসে তাহলে আমাদেরকেই ভেতরে ঢোকা লাগতে পারে। কার্ট বলল।
“এটা কিন্তু মাল্টার জাদুঘরে ঢোকার মতো অতো সহজে হবে না।” সাবধান করল রেনাটা।”
“আমাদের ওখানে ঢোকার জন্যে শুধু একটা অফিসিয়াল অজুহাত দরকার। সরকারি কোনো কিছু হলে ভালো হয়। আপনার AISE-এর বন্ধুরা একটা ব্যবস্থা করে দিতে পারবে নাকি?” কার্ট বলল।
রেনাটা মাথা নাড়লো। “আপনাদের দেশের ইরানে যেটুকু প্রভাব আছে আমাদেরও এখানে সেরকম-ই। হবে না।”
“তাহলে আর কি। বরাবরের মতো আমরা আমরাই।”
“সম্ভবত না।” জো দাঁত বের করে বলল, “আমার পরিচিত একজন বোধহয় সাহায্য করতে পারবে। মিসরের সরকারি আমলা একজন। একবার তার বড় উপকার করেছিলাম।”
“আশা করি, বড় কিছুই করেছিলেন।” রেনাটা বলল।
“শুধু বড় না, সবচেয়ে বড়।” জো বলল।
রেনাটা কিছুই বুঝলো না কিন্তু কার্ট ধরতে পেরেছে জো-এর কথা। ও ভুলেই গিয়েছিল যে জো মিসরের একজন জাতীয় বীর। অর্ডার অফ নাইল খেতাব প্রাপ্ত গুটি কয়েক বিদেশিদের একজন। ও সম্ভবত যা চাবে তা-ই পাবে। “মেজর ইদো।” কার্ট বলল। এই লোকটাকেই জো সাহায্য করেছিল।
“ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে প্রমোশন হয়েছে তার। আমার জন্যেই।” জো বলল।
“এজন্যই কী উনি আপনাকে সাহায্য করবেন?” রেনাটা জিজ্ঞেস করল।
জবাব দিল কার্ট। “আরে উনি তো উনি। আপনি এখন যার দিকে তাকিয়ে আছেন সে আস্বান বাধকে রক্ষা করে পুরো মিসরকে ডুবে মরার হাত থেকে বাঁচিয়েছিল।”
“ওমা! ওটা আপনি?” রেনাটা হতবাক। ঘটনাটা তখন সারা বিশ্বেই আলোড়ন তুলেছিল।
“একা একা তো আর পারিনি। কিছুটা সাহায্য তো লেগেছিলই। জো বলল।
রেনাটা হাসল, “কিন্তু আপনিই ছিলেন আসল।”
জো মাখা ঝাঁকালো।
“আমি আসলেই কি বলবো বুঝতে পারছি না। আশা করি এ যাত্রায় আমরা আপনার কিছুটা সাহায্য’ হতে পারবো।” রেনাটা বলল।
কার্টও সেটাই ভাবছিল। তারপর নৌকার মাথায় মাঝির কাছে গিয়ে বলল, “আমাদের ঘোরা শেষ। ফিরে চলেন।”
নৌকা ঘুরে গেল। এখন হাসান বিল্ডিংটা থেকে বের হওয়ার আগেই ওদেরকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইদোকে খুঁজে বের করতে হবে।
.
৪৩.
জো বসে আছে এক গদি-আটা নরম চেয়ারে। শহরতলীতেই একটা অফিসে এসেছে ও। আধুনিক সাজসজ্জা। ঝলমলে আলো আর হাল্কা সংগীত থেকেই বোঝা যায় অফিসের মালিক সফল একজন মানুষ। ওর মেজর ইদোর সাথে প্রথম সাক্ষাতের কথা মনে পড়ল। সেটা ছিল বেশ কয়েক বছর আগে, এক ইন্টারোগেশন রুমে। আর ভাগ্যটাও সেদিন ওর পক্ষে ছিল না।
“হুম, দেখে মনে হচ্ছে আপনি আর সেনাবাহিনীতে নেই।” জো বলল।
ইদোর চুল এখন আগের চেয়ে লম্বা। সামরিক পোশাক ছেড়ে কেতাদুরস্ত জামাকাপড় পরায় ওর ক্লার্ক গ্যাবেল-এর মতো চেহারাটা আরো খোলতাই হয়েছে।
“বিজ্ঞাপন। এখন আমি এই জগতের লোক। এটাই আরো বেশি মজার। আর আমার সৃজনশীলতা প্রকাশের এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ করে দিচ্ছে।” শিল্পীর তুলি চালানোর ভঙ্গিতে হাত নেড়ে বলল ইদো।
“সৃজনশীলতা?”–জো জিজ্ঞেস করল।
“অবাক হওয়ারই কথা। মিলিটারি লোকজনের মধ্যে এই জিনিসটা থাকে বললেই চলে।”
জো দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “যাই হোক। যা করছেন তাতেই আমি খুশি। শুধু অবাক হলাম এই যা। কিন্তু হয়েছিল কী? আপনি জেনারেল হয়েছিলেন শুনেছিলাম?”
ইটো চেয়ারে হেলান দিয়ে কাঁধ ঝাঁকালো, “পরিবর্তন, বড় সড় কয়েকটা পরিবর্তন হয়ে গেল। প্রথমে হলে আন্দোলন। তারপর মারামারি, তারপর বিপ্লব। আমাদের সরকার পতন হলো। নতুন সরকার আসলো। তারপর আবার বিক্ষোভ শুরু হলো আর এই সরকারের পতন হলো। তারপরে মিলিটারিতে শুদ্ধি অভিযান চালানো হলো। আমাকে পেনশন ছাড়াই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।”
“আর আপনি তখন বিজ্ঞাপন ব্যবসা শুরু করেছেন?”
“আমার দুলাভাই এই ব্যবসা করে ভালোই কামিয়েছেন। অবস্থা এমন সবাই-ই কিছু না কিছু বিক্রি করতে চায়।”
জো ভাবছে ইদো কি এখনও ওদেরকে সাহায্য করতে পারবে কি-না।
“আমি আরো ভাবছিলাম আপনি আমার সাথে ওসাইরিস কন্সট্রাকশনের হোমরা-চোমরা কারো সাথে দেখা করিয়ে দিতে পারবেন।”
ইদো সামনে ঝুঁকে এলো। চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়ে গিয়েছে, “ওসাইরিস?” খুব সাবধানতার সাথে উচ্চারণ করল শব্দটা। “নতুন কী ঝামেলায় জড়িয়েছেন আপনি?”
“আসলে বলাটা মুশকিল।” জো বলল।
ইদো ড্রয়ার খুলে এক প্যাকেট সিগারেট বের করলো। তারপর সেটা ধরিয়ে হাতে রেখেই এদিক সেদিক নাড়তে লাগল কিন্তু টান দিল না। আগেও এই অভ্যাসটা ছিল তার।
