কারুথার্স আবার মাথা ঝাঁকালো। তারপর ও এমন একটা কাজ করলেন যেটায় স্যান্ডেকার খুশি হয়ে গেলেন, “আমি CIA-র সাথে যোগাযোগ করছি। দেখি ওরা এই হাতিটা সম্পর্কে আর কি জানে।”
স্যান্ডেকারের দাঁত বের হয়ে গেল, “দারুণ বুদ্ধি!”
.
৪২.
কায়রো
কার্ট একটা ভাড়া করা কালো গাড়ি চালাচ্ছে। পিছনে বসে আছে জো। পাশেই রেনাটা। হাতে একটা শটগান আর কোলের ওপর একটা আইপ্যাড। স্যাটেলাইট থেকে বিভিন্ন তথ্য আসছে ওটায়।
“ও সোজা সামনে এগুচ্ছে।” বলল রেনাটা।
“অথবা ওর ফোন এগুচ্ছে”, কার্ট জবাব দিল। একে তো রাস্তায় প্রচুর গাড়ি। সেগুলো আবার ঠিকমতো এগোয়ও না। আবার এদিকটায় রাস্তা ভরা খানাখন্দ। পুরোটাই চন্দ্র পৃষ্ঠের মতো অবস্থা।
মাল্টা থেকে যে স্যাটেলাইট ফোনটার হদিস ওরা পেয়েছিল সেটাই অনুসরণ করছে ওরা। ওদের ধারণা ওঠা হাসানের। কিন্তু চোখে দেখার আগ পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারছে না।
“আচ্ছা আমরা ওর ফোনটার সিগন্যাল ধরছি কীভাবে? আমিতো ভাবতাম স্যাটেলাইট যোগাযোগ বেশ নিরাপদ।” জো বলল।
রেনাটা ব্যাখ্যা করল, “আমরা যে স্যাটেলাইটটা অনুসরণ করছি ওটা আসলে সৌদি আর মিসরের যৌথ প্রকল্প। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থাই এটা ব্যবহার করে। আর এটা মহাকাশে পাঠায় ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সী। উৎক্ষেপণের আগে স্যাটেলাইটটা একটা বিশেষ জায়গায় রাখা ছিল। সেখানে ওটাকে একটা রকেটের সাথে জুড়ে দেয়া হয়। আর তারও আগে ইউরোপের কোনো এক দেশের এক এজেন্ট বিনা অনুমতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থাটায় সামান্য কারিগরি ফলায়।”
“এজন্যেই নিজেদের স্যালেটাইট নিজেদেরই উৎক্ষেপণ করা উচিত।” জো বলল।
“সবচেয়ে ভালো হয় সেই আগের মতো টিনের কৌটা আর তার ব্যবহার করলে, কার্ট বললো।
“এত হ্যাপা না করে ওকে ফোন করে থামতে বললেই তো হয়।” জো বলল।
“তাহলে লোকটা কোথায় যাচ্ছে কোনোদিন জানা হবে না। রেনাটা বলল।
“তা অবশ্য ঠিক।”
“বামে যান। ওটার গতি কমে আসছে।” রেনাটা বলল।
“কার্ট ঘুরতেই কারণটা বুঝতে পারলো। রাস্তার দুধারে লাইন ধরে দোকান আর রেস্তোরাঁ। পথচারীরা ফুটপাতে জায়গা না পেয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। গাড়ি-ঘোড়া তাই এখন শামুকের গতিতে এগুচ্ছে।
ওরাও সেভাবেই ধীরে এগুলো। ফুটপাত জুড়ে নানান রকম বিজ্ঞাপন, ফলের দোকান, গয়না, ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে বালিশ, কাথা কম্বলের দোকান পর্যন্ত আছে। রাস্তাটা পেরুতেই ওরা নীল নদের পূর্ব তীরের একটা ঘাটে এসে পৌঁছুলো।
ঘাটের একপাশে ক্রেন দিয়ে বজরা নৌকা থেকে ধান-চালের বস্তা খালাস করা হচ্ছে। পাশেই ফেরিতে গাড়ি আর লোজন উঠছে আরেকটু পরেই বেশ কয়েকটা মাছ ধরার নৌকা আর একটা প্রমোদ তরী দেখা গেল।
“নীল নদকে স্বাগতম!” কার্ট বলল, “কিন্তু ঐ ব্যাটা গেল কই?” রেনাটা আইপ্যাডের ডিসপ্লেতে স্পর্শ করে জুম করল। চলন্ত সংকেতটা তখনও ওই এলাকার মধ্যেই আছে। “দেখে তো মনে হচ্ছে নদীর দিকে যাচ্ছে।” বলল রেনাটা। তারপর নদীর দিকে নেমে যাওয়া একটা সিঁড়ির দিকে দেখালো। ওরাও নামলে সাথে সাথে। রেনাটা আইপ্যাডটা নিতে ভোলেনি। দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নামলো ওরা। কার্ট ঘাটলাটার এদিক ওদিক তাকিয়ে একদিকে দেখিয়ে বলল, “ঐ তো, ওটা নিশ্চিত হাসান।”
হাসান একটা গাঢ় ধূসর রঙের স্পিড বোটে চড়ে বসলো। দেখে মনে হচ্ছে দুনিয়ায় কোনো কিছুকেই সে আর পরোয়া করে না। ও বসতেই বোটটা চালু হয়ে ঘাট থেকে সরে গেল।
“আমাদেরও একটা নৌকা লাগবে।” রেনাটা বলল।
ওরাও একটা রঙচঙা পর্যটকদের নৌকার দিকে এগুলো। একপাশে লেখা “ওয়াটার ট্যাক্সি”। মাঝখানে থেকে শুরু করে পেছনের দিকটা পর্যন্ত একটা ক্যানভাস কাপড়ে ঢাকা। বোটের পাইলট পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছে।
জো-ই এগুলো কথা বলার জন্যে। লোকটা ইংরেজি জানে।
“আমাদের একটা নৌকা দরকার।” বলল জো।
পাইলট ঘড়ি দেখে বলল, “সময় শেষ। বাড়ি যাবো এখন।”
কার্ট একতাড়া টাকা হাতে সামনে এগুলো, “আজ না হয় ওভার টাইম করেন।” লোকটা সাবধানে টাকাটার দিকে তাকাল। সম্ভবত ওখানে কতটাকা আছে গোনার চেষ্টা করছে। তারপর এক মুহূর্ত ভেবে সিগারেটটা পানিতে ছুঁড়ে দিয়ে বলল, “আচ্ছা, ঠিক আছে আসুন।”
ওরাও নৌকায় ওঠে ক্যানভাসের ছাউনির নিচে বসলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই ইঞ্জিন চালু হয়ে গেল।
“উজানে চালান।” কার্ট বলল।
ড্রাইভার মাথা ঝাঁকালো তারপর নৌকার মুখ ঘুরিয়ে গতি বাড়িয়ে দিল। নৌকার গতি দ্রুতই বেড়ে গেল। যদিও স্রোতের প্রতিকূলে চলছে। কার্ট, জো আর রেনাটা পুরোদস্তুর পর্যটকের অভিনয় করছে। ছবি তুলছে, নদীর দুই তীরের বিভিন্ন জিনিস একজন আরেকজনকে দেখাচ্ছে। কার্টতো একটা বাইনোকুলার পর্যন্ত চোখে লাগালো। তবে এর ফাঁকে ফাঁকেও আইপ্যাডে নজর ঠিকই রাখছে। সিগনালটাও ধীরে ধীরে নদীর উজানেই চলছে।
“কতদূর যাবেন আপনারা? লুক্সর?” মাঝি জিজ্ঞেস করল।
“যেতে থাকেন। কতদূর যাবো জানিনা। যখন মন চাবে তখন থামবো।” কার্ট জবাব দিল।
মাঝি আর কিছু বলল না। আশে পাশে প্রচুর বজরা নৌকা। একটা ফেরি দেখা গেল। বিনা কারণে হর্ণ বাজিয়েই যাচ্ছে।
নদীর দুধারে প্রাণের চিহ্ন মাত্র নেই। খালি সারি সারি দালান-কোঠা। অ্যাপার্টমেন্ট, হোটেল, অফিস দিয়ে ভরা।
