“আমরা হয়তো কিছু সাহায্য করতে পারবা।” পল বলল।
এজেন্ট দূরের দিকে তাকিয়ে আছে। বিস্ফোরণ হল থেকে ধোঁয়া বেরুচ্ছে। তাদের আলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে তাতে। “আমার পরামর্শ হচ্ছে। আপনারা সময় থাকতে চলে যান। কারণ কয়েকদিন পরেই আর এদেশ থেকে কেউ বের হতে পারবে কি-না সন্দেহ। আর আমার মতো সবাই হবে না। সন্দেহ বাতিকগ্রস্ত কারো হাতে পড়লে আপনাদেরই ঝামেলা হবে। শেষে বলির পাঠা হতে হবে। আশা করি বুঝতে পারছেন?”
“আচ্ছা। তবে রেজাকে একবার বিদায় বলে যাই।” গামায় বলল।
“আর তারপর এয়ারপোর্ট পৌঁছাবার একটা ব্যবস্থা করে দেবেন প্লিজ।” পল যোগ করল সাথে।
৪১. রোম
৪১. রোম
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেমস স্যান্ডেকার ইতালিয়ান পার্লামেন্ট বিল্ডিং-এর একটা কনফারেন্স রুমে বসে আছেন। অনেক লোকজন রুমটায়। তার সাথেও বেশ কয়েকজন পরামর্শক আছেন আর টেরি কারুথার্স তত আছেই। সারা রুম জুড়েই ইউরোপের সব দেশ থেকে আসা প্রতিনিধি দল বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে।
এই মুহূর্তে নতুন একটা ব্যবসায়িক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ-ই সেটা মোড় পাল্টে লিবিয়া, তিউনিসিয়া আর আলজেরিয়ার ঘটনাগুলোর দিকে চলে গেল।
মাত্র বারো ঘন্টার ব্যবধানে তিউনিসিয়া আর আলজেরিয়ার সরকার ক্ষমতা চ্যুত হয়েছে। নতুন জোট গঠন করা হচ্ছে। ক্ষমতা সম্ভবত আবারো আরব বসন্তের আগের লোকগুলোর হাতেই ফিরে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে চলে আসা দাঙ্গা আর ক্রমবর্ধমান খরার কারণে এটা যে হবে সেটা অনুমেয়ই ছিল কিন্তু আরো কয়েকদিন হয়তো টিকতো সরকারগুলো। তবে এক সাথে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পদত্যাগ করায় সেটা আর হয়নি।
বিশেষ করে আলজেরিয়ার ঘটনায় সবাই অবাক হয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী ওখানে পদত্যাগ করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন মন্ত্রণালয় নাকি বিশ্বাস ঘাতকে ভরে গিয়েছে।
“কেউ একজন পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে” স্যান্ডেকার কারুথার্সকে বললেন।
“CIA’র উত্তর আফ্রিকা নিয়ে রিপোর্টটা কাল পড়েছি। এসব ঘটার কোনো ইঙ্গিতও ছিল না তাতে।” কারুথার্স জানালো।
স্যান্ডেকার বললেন, “এজেন্সীর লোকজন মাঝে মাঝে ভালোই কাজ দেখায় কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় দড়িকে সাপ ভেবে বসে আবার মাঝে মাঝে হাতিকে ভাবে সাকার্সের জিনিস।”
“আপনার কি মনে হয়? পরিস্থিতি কতটা খারাপ?” কারুথার্স জিজ্ঞেস করল।
“আলজেরিয়া আর তিউনিসিয়ারটা হয়তো সামলে যাবে তাড়াতাড়ি কিন্তু লিবিয়ায় অবস্থা খুবই খারাপ, একটা সুতোয় ঝুলছে এখন ওদের ভাগ্য।”
“এজন্যেই কি ইতালিয়ানরা লিবিয়ায় পরিবর্তন আনার জন্য এতো চেঁচামেচি করছে।” প্রশ্নটা চমৎকার। লিবিয়া এখন একটা গৃহযুদ্ধের দ্বার প্রান্তে। আর হঠাৎ-ই ইতালিয়ান একজন আইন প্রণেতা আলবার্তো পিওলা এক অদ্ভুত প্রস্ত বি দিয়েছেন। ইতালির বর্তমান সরকারের এক প্রভাবশালী নেতা উনি। আজকের সম্মেলনেরও সভাপতি উনি। কিন্তু ব্যবসায়িক আলাপ-চারিতা বাদ দিয়ে উনি লিবিয়ায় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সকলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
“আমার মনে হয়, পতনের আগেই আমাদের উচিত লিবিয়ার সরকারকে পদত্যাগের জন্যে অনুরোধ করা।” পিওলা বললেন।
“তাতে লাভ কী?” কানাডিয়ান রাষ্ট্রদূত জিজ্ঞেস করলেন।
“আমরা তাহলে নতুন একটা শাসন ব্যবস্থা সমর্থন করতে পারবো যেটা জনগণের সমর্থনেই ক্ষমতায় আসবে।” পিওলা বললেন।
“কিন্তু তাতে পানির সমস্যা সমাধান হবে কীভাবে?” প্রশ্নটা জার্মান ভাইস চ্যান্সেলরের।
“এতে অন্তত হানাহানি তত বন্ধ হবে।” পিওলা বললেন।
“আর আলজেরিয়ায় কী হবে?” ফ্রেঞ্চ প্রতিনিধি জিজ্ঞেস করলেন।
“আলজেরিয়ায় নতুন করে নির্বাচন হবে। তিউনিসিয়াতেও। নতুন সরকারই ঠিক করবে তাদের কি করতে হবে আর তারা পানির সমস্যা কীভাবে সামলাবে। কিন্তু লিবিয়া একেবারে পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে।”
স্যান্ডেকার মোটামুটি চুপচাপই ছিলেন পুরোটা সময়। পিওলার এই অপ্রাসঙ্গিক লিবিয়া-প্রীতি তাকে অবাক করেছে। বিশেষ করে ইতালি যখন এখনো ল্যাম্পেডুসার ব্যাপারটা সামলে উঠতে পারেনি। NUMA আর বর্তমানের দায়িত্ব তাকে শিখিয়েছে যে, একবারের জন্য একটা সংকটই বেশি, দুটো ঝামেলা ঘাড়ে নেয়ার তো কথাই আসে না।
কারুথার্স ঝুঁকে তার কানে কানে বলল, “উনি যা বলছেন সেটা তো সম্ভব না। এখানকার সবাই রাজি হয়েও তো লাভ নেই। আমাদেরকে আগে আমাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আমাদের নেতাদেরকে রাজি করাতে হবে।”
স্যাভেকার আনমনে মাথা ঝাঁকালেন, “আলবার্তো সেটা ভালোই জানে।”
“তাহলে খামাখা এসব বলে সময় নষ্ট করছেন কেন?”
স্যান্ডেকারও বসে বসে পিওলার ব্যাপারটাই ভাবছেন। তার কাছে সবচে যুক্তিসঙ্গত যা মনে হয়েছে সেটাই বললেন, “যা কখনো হবে না সেটা নিয়ে ভোট চাওয়ার মতো বোকা পিওলা না। সে আসলে ইতোমধ্যে হয়ে গিয়েছে এমন ঘটনাকে সবার সামনে তুলে এনে সেটাকে গ্রহণযোগ্য বানানোর মঞ্চ সাজাচ্ছে।
কারুথার্স পিছনে সরে এসে অবাক চোখে ভাইস প্রেসিডেন্টের দিকে তাকাল। কিছুক্ষণ লাগল ওর ব্যাপারটা বুঝতে, “তার মানে…”।
“লিবিয়ান সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর ও যেভাবে আচরণ করছে তাতে বোঝাই যাচ্ছে যে সে এটাই আশা করছে।” স্যান্ডেকার বললেন।
