“গত মাসেও একবার তাকে মারার চেষ্টা করা হয়। তার অবশ্য কারণও আছে। পানির অবস্থা যদি কেউ আবার আগের মতো করতে পারে তো রেজা-ই পারবে। দেশের ভূতত্ত্ব আর এসব সিস্টেম সম্পর্কে ওনার চেয়ে ভালো কেউ জানেনা। উনি না থাকলে আমাদের কি হবে তা শুধু খোদাই-ই জানে।” এজেন্ট বলল।
“আমরা শুধু ওনাকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি।” গামায় বলল।
“দেখা যাবে সেটা।” এজেন্ট জবাব দিল। এখনো সন্দিহান সে।
ওর কথা শেষ হতেই অপারেশন রুম থেকে একজন সার্জন বের হয়ে ওদের দিকে তাকালো। তারপর মুখোশ খুলতে খুলতে ক্লান্ত পদক্ষেপে ওদের দিকে এগুলো। তার চোখের নিচে কালি পড়ে গিয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে টানা কাজ করেই যাচ্ছেন ডাক্তার।
“প্লিজ একটা ভালো খবর শোনান।” গামায় বলল।
“রেজার বিপদ আপাতত কেটে গিয়েছে। উনার উরুতে একটা বুলেট বিধেছিল আর একটা লিভারে আচড় কেটে বেরিয়ে গিয়েছে। ভাগ্য ভালো যে গুরুত্বপূর্ণ কোনো অঙ্গে কিছু হয়নি। সৌভাগ্য ক্রমে অথবা দুর্ভাগ্যক্রমে বলাই ভালো–আমাদের সার্জনরা এসব সামলাতে সামাতে দক্ষ হয়ে গিয়েছে। গৃহযুদ্ধে ভালো বলতে এই একটা কাজ হয়েছে।” বললেন সার্জন।
“ওনার সাথে কথা বলা যাবে কখন?” গামায় জিজ্ঞেস করল।
“মাত্রই জ্ঞান ফিরেছে। কমপক্ষে আধাঘণ্টা তো অপেক্ষা করুন।”
এজেন্ট লোকটা নিজের আইডি কার্ড বের করে বলল, “আমি এখুনি ওনার সাথে দেখা করবো।”
“ঠিক হবে না কাজটা।” ডাক্তার বললেন।
“উনার চেতনা কী পুরোপুরি আছে?
“হ্যাঁ।”
“তাহলে আমাকে নিয়ে চলুন।”
সার্জন হতাশ হয়ে একটা শ্বাস ফেলে বললেন, “ঠিক আছে আসুন। তবে তার আগে একটা গাউন পরতে হবে।”
সার্জন আর এজেন্ট চলে যেতেই গামায় এর ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে নামটা দেখেই বলল, “কার্ট ফোন করেছে। ছুটি শেষ হলেও অফিসে যাইনি কেন সেই কৈফিয়তই চাইবে মনে হয়।”
পল চারদিকে একবার তাকিয়ে ব্যালকনির দিকে হাঁটা দিল, “একটু বাতাস খেয়ে আসি চলল।”
বাইরে এসেই গামায় ফোন রিসিভ করল।
“কি খবর? ছুটি কেমন কাটচ্ছে? কাৰ্ট জিজ্ঞেস করল।
রাতের বাতাস হালকা আর উষ্ণ। ভূমধ্যমাগরের সুবাস মিশে আছে তাতে। কিন্তু হেলিকপ্টর আর দূরের গোলাগুলির শব্দই পুরো পরিবেশটা নষ্ট করে দিচ্ছে।
“যতটা ভেবেছিলাম ততোটা মজা হচ্ছে না।” গামায় বলল।
“আহারে।” তা ফ্রান্সে আরেকবার হানিমুনে যাবে নাকি? টাকা-পয়সা যা লাগে NUMA দেবে।” কার্ট বলল।
“শুনতে তো ভালোই লাগে। তবে তার সাথে একটা কিছু নিশ্চিত আছে।” “একটা কিছু তো সব সময়ই থাকে।”
পল সেটা শুনে বলল, “ওকে বলল যে আমাদের ওখানে থাকা দরকার।” গামায় মাথা ঝাঁকালো, “আচ্ছা কয়েকদিন পরে গেলে হবে না? আমরা এখানে একটা কাজে জড়িয়ে পড়েছি। এই ব্যাপারটাও আর একটু ঘেটে দেখা দরকার।”
“কোন ব্যাপার?”
“উত্তর আফ্রিকার খরা।”
কার্ট এক মুহূর্ত চুপ থাকল, “সাহারাতে তো খরা-ই থাকার কথা।” “না। এটা সেটা না। বৃষ্টি হচ্ছে না বলে যে খরা হয় এটা সেরকম না। মাটির নিচের পানি শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে ধরা। এদিককার সব লেক কাদা ভরা ভোবায় পরিণত হয়েছে। যুগ যুগ ধরে যেসব পাম্প চলছিল যেসব হঠাৎ করে পানি পাচ্ছে না আর।”
“এরকম তো কখনো শুনিনি।” কার্ট বলল।
“এটার জন্যে দেশে এর মধ্যে মারামারি শুরু হয়ে গিয়েছে। সামনে আরো কি হবে কে জানে। গামায় বলল।
“শুনে খারাপ লাগছে। তবে অন্য কাউকে পাঠাতে হবে ওখানে। ফ্রান্সে তোমাদেরকে দরকার। বেনগাজী থেকে রেনে পর্যন্ত একটা ফ্লাইট চাটার্ড করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব চলে আসো।”
“এত তাড়া কেন জানতে পারি?”
“বিমানে ওঠা মাত্র সব জানিয়ে দেয়া হবে।” কার্ট বলল।
ফোন হাত দিয়ে ঢেকে গামায় পলকে বলল, “বড় কোনো ঝামেলা বেঁধেছে বোধ হয়। কার্ট তো কখনো এতো জোরাজুরি করে না।”
পল ওদের জেরা হওয়ার জায়গাটার দিকে একবার তাকাল, “এখন আমাদেরকে শহর ছাড়ার অনুমতি দিলে হয়।”
গামায়ও সেটাই ভাবছিল। আবার ফোন কানে লাগালো, “এখানে সরাসরি লোকজনের সাথে একটু ঝামেলা হচ্ছে। লম্বা কাহিনী। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা চলে আসছি।”
“কি হয় জানিও। কারণ তোমরা আসতে না পারলে অন্য কাউকে পাঠাতে হবে।” কার্ট বলল।
কার্ট ফোন কেটে দিতে গামায় ফোনটা পকেটে রাখতে রাখতে বলল, “ঝামেলা শুরু হলে তো দেখি থামতেই চায় না। একটার পর একটা লাগতেই থাকে।”
কিছুক্ষণ পরেই গোয়েন্দা লোকটা অপারেশন রুম থেকে বেরিয়ে এলো। ওদেরকে দেখতে পেয়ে বেলকনিতেই এগিয়ে এলো সে।
“আমি ক্ষমা চাইতে এসেছি। রেজা সব বলেছেন আমাকে। উনার জীবন বাঁচানোর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।” লোকটা বলল।
“শুনে ভালো লাগল।” পল বলল।
হঠাৎ শহরের দূরের কোথাও বিশাল এক অগ্নিকুণ্ড ঝলসে উঠল কয়েক সেকেন্ড পরেই ভেসে এলো শব্দ। বোমা-টোমা ফেটেছে কোথাও।
“হ্যাঁ আপনাদের প্রতি আর কোনো অভিযোগ নেই। রেজা বেঁচে আছেন তবে ক্ষতি যা হওয়ার হয়েই গিয়েছে। আরো দুটো পাম্পিং স্টেশনে হামলা হয়েছে। আর বাকিগুলোও দরকারের তুলনায় সামান্য পানিই তুলতে পারছে। রেজাকে আরো কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হবে। আর সুস্থ হতেও লাগবে আরো কয়েক সপ্তাহ। আর ততোদিনে দেশটা আবার খণ্ড খণ্ড হয়ে যাবে। গত পাঁচ বছরে এ নিয়ে তিনবার হবে।
