জো পুরো ব্যাপারটা সংক্ষেপে একবার বলল, “তাই ভিয়েনেভের হাত থেকে বাঁচার জন্যে নেপোলিয়ন তাকে মেরে ফেললেন। ভিয়েনেজের প্রস্তাবটা ভেবেও দেখলেন না বা বিশ্বাস করলেন না। আর তার ফলে ঐ ভাষান্তর আর মিস্ট অফ ডেথ আর মিস্ট অফ লাইফের সব কিছু হারিয়ে গেল। তারপর আর এই শয়তানগুলো সেগুলো কোথাও থেকে বের করেছে।”
“সেরকমটাই ধারণা আমার।” কার্ট বলল।
পরের প্রশ্নটা করল রেনাটা, “তাহলে যদি ভিয়েনেভ নেপোলিয়নকে ভাষান্তরটা না-ই দিয়ে থাকে তাহলে ওটা গেল কোথায়?”
“সেটাই আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে।” বলল কার্ট। তারপর ইটিয়েনের দিকে ফিরলো। “কোথা থেকে খোঁজা শুরু করলে ভালো হয় বলতে পারেন?” ইটিয়েন চুপচাপ কিছুক্ষণ ভাবলেন, তারপর বললেন, “রেনেস?”
যদিও কথাটা প্রশ্নবোধক সুরে বলা, তবে কার্টের মাখাতেও এটার কথাই ঘুরছিল। তাই ও মাথা ঝাঁকালো। তারপর বলল, “আমাদের সময় ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। আমাদেরকে তাই ভাগ ভাগ করে একেক জায়গায় খুঁজতে হবে। দক্ষিণ মিসরে খুঁজতে হবে এই মিস্ট অফ লাইফের কোনো হদিস পাওয়া যায় কি-না আর ফ্রান্সে খুঁজতে হবে ভিয়েনেভ এমিল দ্য চ্যাম্পিয়নের ভাষান্তরটা কোথাও লুকিয়ে রেখেছিলেন কি-না।
“আমরা ফ্রান্সে যেতে পারি।” ইটিয়েন বললেন।
“স্যরি, আমরা আর আপনাদেরকে কোনো বিপদে জড়াতে পারবো না। রেনাটা আপনি-ই এ কাজটা ভালো পারবেন।” কার্ট বলল।
রেনাটা ঐ মুহূর্তে ওর ফোনের দিকে তাকিয়ে ছিল। মাত্র একটা মেসেজ এসেছে সেটা পড়ছে। সেখান থেকে মুখ তুলে বলল, “মোটও না। আমি জানি আপনি শুধু আমাকে ঝামেলা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে আসল ব্যাপার হলো, আমার কাছে নতুন খবর আছে : AISE আর ইন্টার পোল মিলে এ সায়ানাইড খাওয়া লোকটার পরিচয় বের করেছে। লোকটা মিসরীয় গোয়েন্দা বাহিনীর এক দল ছুট রেজিমেন্টের সদস্য। এরা হচ্ছে মোবারক সরকারের সমর্থক এবং অনেক অপরাধের জন্য সন্দেহ ভাজন।”
“তার মানে মিসর-ই হচ্ছে আসল জায়গা।” কার্ট বলল।
“আরো একটা সুখবর আছে।” রেনাটা বলল, “মাল্টায় থাকার সময় লোকগুলো যে স্যাটেলাইট ফোনে কথা বলেছিল সেটার সিগনাল ট্রাক করা গিয়েছে। কলটা করা হয়েছিল ঠিক এখান থেকে। আর দুর্গে আপনারা মারামারি করার সময় করা হয়েছিল বন্দর থেকে। ফোনটা এখন আছে কায়রো। আর আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে ফোনটা যার কাছে আছে তাকে খুঁজে বের করতে।”
“কার্টের ধারণা ফোনটা থাকে হাসানের কাছে।” ঠিক আছে। “আমি যাবো আপনার সাথে।”
“তার মানে আমাকেই যেতে হচ্ছে ফ্রান্সে। জো বলল, “ব্যাপার না। ঐ দেশে ঘুরতে যাওয়ার শখ বহুদিন ধরেই। ওখানকার ওয়াইন আর পনির খেয়ে দেখতে হবে।”
“স্যরি, প্যারিসে গ্রীষ্ম যাপন পরের বারের জন্যে তুলে রাখো। তুমিও আমাদের সাথেই যাচ্ছ।” কার্ট বলল।
“তাহলে ফ্রান্স যাবে কে?”
“পল আর গামায়। ওদের ছুটি আরো দুদিন আগে শেষ হয়েছে। কাজে যোগদানের সময় এখন।”
.
৪০
বেনগাজী, লিবিয়া
সারা শহর জুড়েই চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। এদিকে পানিও কমে এসেছে। মারাত্মকভাবে। আরেকটা গৃহযুদ্ধ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ওরা যখন পৌঁছুলো তখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তিল ধারণের জায়গা নেই। কেউ ছুরি খেয়েছে কেউ খেয়েছে পিটুনি। আর গুলি খাওয়ারা তো আছেই।
পল আর গামায় বহুকষ্টে এক কোণে একটু জায়গা বের করে অপেক্ষা করতে লাগল। কিছুক্ষণ পরই লিবিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার এক লোক ওদের সাথে যোগ দিল। পরের এক ঘন্টা ওদের জেরা করা হলো। ওরা সবিস্তারে ব্যাখ্যা করল যে ওরা ওখানে কি করছিল আর ওদের লক্ষ্য ছিল জলাধারের পানির কি হচ্ছে সেই রহস্য উদ্ধারে রেজাকে সাহায্য করা। শেষমেশ কেন ওরা পালিয়েছে সেই ঘটনাও বলল।
তবে লোকটা ওদের কথা বিশ্বাস করছে বলে মনে হলো না। সে শুধু মাথা ঝাঁকিয়ে আর হুম হুম করে নোট নিয়েই গেল। যদিও স্টেশনের বাকি কর্মচারীরাও ওদের কথার সমর্থনই দিয়ে গেল। লোকটার মূল আগ্রহ ছিল বিদ্রোহীদের আক্রমণের ধরন আর ওদের পালানো নিয়ে।
চারপাশে অস্বস্তিকর নীরবতা। মাঝে মাঝে শুধু আরেকদল আহত লোককে যখন রাস্তা থেকে তুলে আনা হয় তখন-ই একটু হট্টগোল হচ্ছে। সরকারি লোকটা ওদের দিকে শুরু থেকেই কেমন সাবধানী চোখে তাকিয়ে আছে।
“এই সব শুরু হলো কখন?” গামায় জিজ্ঞেস করল। হাসপাতালের এই ভরপুর দশা দেখে অবাক হয়েছে খুব। হাসপাতালের এই ভরপুর দশা দেখে অবাক হয়েছে খুব।
“সরকার শহরের কয়েকটা জায়গায় পানির সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়েছে। তারপর থেকেই শুরু হয় আন্দোলন। শুরুতে শান্তভাবে হলেও আজ বিকেলে এরা ভাঙচুর শুরু করে। ভাগ করে করে পানি বিতরণ শুরু হয় কিন্তু তাতে কি আর হয়। মানুষও তখন বেপরোয়া। আর একজন আছে যে এই সব কিছু উস্কে দিচ্ছে।”
“একজন?” পল জিজ্ঞেস করল।
“লিবিয়া এখন বাইরের লোক দিয়ে রা। আমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ আছে যে আমাদের দেশে এখন মিসরীয় গুপ্তচর দিয়ে গিজগিজ করছে। কিন্তু কেন? তার উত্তর আমাদের জানা নেই। দিনকে দিন এটা বাড়ছেই।” এজেন্টটা জানালো।
“আচ্ছা, এজন্যই আপনি আমাদেরকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। আপনার ধারণা আমরাই রেজাকে কিছু করেছি?” গামায় বলল।
