“প্রতিষেধক কিসের প্রতিষেধক? মরার কোনো প্রতিষেধক নেই।” ইটিয়েন বললেন।
“এক ধরনের মরার আছে।” কার্ট বলল।
“বুঝলাম না।” ইটিয়েন বললেন।
কার্ট ওনাকে ল্যাম্পেডুসার সব ঘটনা খুলে বলল। কীভাবে ওখানকার সব অধিবাসী সবাই কোমায় চলে গেছে ও মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আর কীভাবে ওরা একজনের মোকাবেলা করে যায় এতে কিছুই হয়নি।
“তার মানে ওরা এই প্রতিষেধকটা চায়?” নিকোল জিজ্ঞেস করলেন।
“না।” কার্ট বলল, “ওদের কাছে এটা আছে। ওরা চায় যাতে এটা আর কারো হাতে না ক। কারণ এতে ওদের অস্ত্র অকার্যকর হয়ে পড়বে। আর তাই এই কাজটাই আমাদেরকে করতে হবে।”
কার্ট চারদিকের ক্ষয়ক্ষতির দিকে আরেকবার তাকাল, “আপনারা যদি আমার চেয়ে বহুগুণ বেশি সাহসী না হন–আর অবশ্যই ভালো পোকার খেলোয়াড় না হন—তাহলে আমার ধারণা পুরাকীর্তিগুলো এখানে নেই।”
“জাহাজ থেকে যা পাওয়া গিয়েছিল তার কিছুই নেই”, ইটিয়েন বললেন। “আমরা উদ্ধারকৃত জিনিসের বেশিরভাগই জাদুঘরকে দিয়ে দিয়েছি। বাকি যা ছিল তা ঐ লোকগুলো নিয়ে গিয়েছে। ওরা এমিলের ডায়রিটাও নিয়ে গিয়েছে; মানে মিসরের নাম-গন্ধ পেলেই ওরা সেটা নিয়ে নিয়েছে, ছবি, নোট সব।”
“তার মানে তো সোফি সি-তে কিছুই ছিল না।” জো বলল।
“একদম ঠিক। আমি সেকথাও ওদেরকে বলেছি।” ইটিয়েন বললেন। “জাহাজটা আবিষ্কারের পর এ-মাথা থেকে ও-মাথা খুব ভালো করেই খোঁজা হয়েছে। মূল্যবান যা কিছু ছিল সবই উদ্ধার হয়ে গিয়েছে।”
“এমন কি হতে পারে যে সব পুরাকীর্তি আসলে জাহাজে ছিল না। আপনিই তো বললেন যে আসল কথা কেউ জানে না। এটার মানে কি?” কার্ট জিজ্ঞেস করল।
“রেকর্ড-পত্র থেকে জানা যায় যে সোফি সি, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মালপত্র বহন করছিল।” ইটিয়েন ব্যাখ্যা করলেন।
“কেন?”
“আসলে সেটা ছাড়া উপায়ও ছিল না। ভিয়েনেভ এখানে এসে পৌঁছতেই আবুকির এর দুর্যোগের কথা চারদিকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল। প্রতিটা ফরাসি তখন নিজেকে আর নিজের সম্পদ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠল। ফলে সবার একটাই ইচ্ছা এখান থেকে ফ্রান্সে ফিরে যাবে। সেটা সম্ভব না হলেও অন্তত তাদের অস্থাবর সম্পত্তিগুলো আগে পাঠিয়ে দেবে। আশা করি বুঝতে পারছেন অবস্থাটা কেমন ছিল। ফ্রান্সের দখলে থাকার সময়েই মাল্টার বেশির ভাগ সম্পদই ফরাসিদের কুক্ষিগত হয়ে পড়ে। ফলে সব জাহাজ-ই কানায় কানায় ভরে যায় মালপত্রে। একেবারে জাহাজ ছাড়ার আগ মুহূর্তেও মাল ভরা চলতো জাহাজে। কখনো কখনো জায়গা না পাওয়ায় ঘাটেই পড়ে থাকতে মাল বা অন্য কোনো জাহাজে তুলে দেয়া হতো। এসব ঝামেলার জন্যেই ধারণা করা হয়। হয়তো পুরাকীর্তিগুলো সোফি সি.-তে তোলা হয়েছিল ঠিকই কিন্তু রেকর্ড করা হয়নি, আবার এটাও সম্ভব যে ওগুলো আসলে জাহাজে ভোলা-ই হয়নি। অথবা অন্য কোনো জাহাজেও তুলে দেয়া হতে পারে। রেকর্ড-পত্র অনুযায়ী ঐদিনই আরো দুটো জাহাজ বন্দর ছেড়ে যায়। একটা সোফি সি. সাথেই ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। আরেকটা ব্রিটিশরা দখল করে নেয়।”
জো বলল, “ব্রিটিশরা পুরাকীর্তিগুলো পেলে এটা এতোদিনে রোজেটা স্টোন বা এলজিন মার্বেলগুলোর পাশে কোনো না কোনো জাদুঘরে শোভা পেতো।”
“আর যদি এগুলো জাহাজেই না ভোলা হতো বা মাল্টাতে লুকানো থাকতো, তাহলে এতোদিনে ওগুলো উদ্ধার হয়ে যেতো। আমার মনে হয় এই সম্ভাবনা দুটোকে বাদ দেয়া যায়। আমার মনে হয় সবচেয়ে বেশি যেটা হওয়ার সম্ভাবনা সেটা হলে ঐ পুরাকীর্তিগুলো ঐ ডুবে যাওয়া জাহাজ দুটোর কোনো একটাতেই ছিল। কিন্তু আপনি তো বললেনই যে সোফি সি.-তে আর কিছুই নেই।”
“আমরা অন্য জাহাজটায় খুঁজে দেখতে পারি।” রেনাটা প্রস্তাব দিল।
ইটিয়েন মাথা নাড়লেন, “আমি বহু বছর ধরে ওঠা খুঁজছি।”
“যে কোনো ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া সহজ, কিন্তু নির্দিষ্ট একটা জাহাজের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া সহজ না।” জো ব্যাখ্যা করল। “ভূমধ্যসাগরের তলদেশ ডোবা জাহাজ দিয়ে ভরা। সাত হাজার বছর ধরে এই সাগরটায় মানুষ চলাচল করছে। ঐ রোমান জাহাজটা খুঁজে পাওয়ার মাসখানেক আগে আমরা যখন সম্ভাব্য অবস্থান খুঁজছিলাম তখন প্রায় চল্লিশটা জায়গা পেয়েছিলাম যেগুলোকে সম্ভাব্য বলে অভিহিত করা হয়েছিল।”
“আমাদের হাতে অতসময় নেই।” রেনাটা বলল।
কার্ট ওদের কথা মন দিয়ে শুনছিল না, ওর দৃষ্টি ছবিটার দিকে। কি যেন একটা ওর কাছে অসামঞ্জস্যশীল লাগছে। ধরি ধরি করেও ধরতে পারছে না। “আবুকির-এর যুদ্ধটা হয় ১৭৯৯ সালে।” কার্ট বলল।
“ঠিক!” ইটিয়েন বললেন।
“সতেরোশো নিরানব্বই…হঠাৎ-ই ও ব্যাপারটা ধরতে পারলো। “আপনি বললেন এমিলের লেখায় আপনি এই ব্লাক মিস্টের ব্যাপারটা পেয়েছেন। কিন্তু রোজেটা স্টোন (যে পাথর থেকে প্রথম মিসরীয় লিপির পাঠোদ্ধার করা হয়) আর ঈজিলিয়ান হায়ারোগ্লিফের অর্থ আবিষ্কার তত আরো প্রায় পনের বছর পরে হয়।”
ইটিয়েন থেমে গেলেন। দেখে মনে হলো চিন্তাটা তাকে দারুণ দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে, “কি বলতে চাচ্ছেন আপনি?–এমিলের অনুবাদের ব্যাপারটা ভুয়া?”
“খোদা করুন, সেটা যেন না হয়। কিন্তু রোজেটা স্টোন আবিষ্কারের এতো দিন আগেই যদি পুরাকীর্তিগুলো ডুবে যায়, তাহলে ওতে কি লেখা ছিল সেটা জানা সম্ভব কি করে?” কার্ট বলল।
