এদিকে ট্যাঙ্কের বাড়ি খেয়ে যারা উল্টে পড়েছিল তারা উঠে দাঁড়িয়েছে। একজন রাইফেল তুলে জো যেদিকে লুকানো সেদিকে এগুলো। তবে গুলি করার আগেই রেনাটা জানালা খুলে দুবার গুলি করল। দুটোই লোকটার বুকে লাগল। আর লোকটা সোজা পানিতে গিয়ে পড়ল।
বাকিজন দিল দৌড়।
রেনাটা লোকটার পা লক্ষ্য করে গুলি করলো। গুলিটা লাগল হাঁটুর ঠিক পিছনে। সাথে সাথে মুখ থুবড়ে পড়ে গেল। মরেনি। পরে দরকার পড়বে লোকটা।
এদিকে ছাদ থেকে আবার শুরু হয়েছে গুলিবর্ষণ। আর যে গুণ্ডা দুটো। নৌকায় বাঁধা অবস্থায় ছিল তারা বোলিং পিন-এর মতো উল্টে পড়ল। কার্টের অবশ্য এক ফোঁটাও খারাপ লাগল না তাতে, এই শালারাই ডুবুরিগুলোকে তিলে তিলে মারতে গিয়েছিল।
“ধাক্কা দাও ওদের, এখনই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দাও।” হাসানের চিৎকার শোনা গেল।
ব্রিজের ওপর থেকে দ্য শ্যাম্পেনদেরকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়া হলো। তিরিশ ফুট ওপর থেকে সোজা ঝপাশ করে পানিতে পড়েই মিলিয়ে গেল নিচে।
“ওদেরকে পানিতে ফেলে দিয়েছে।” কার্ট চিৎকার করে বলল। এদিকে ওর দিকে গুলির পরিমাণ এখনো কমেনি, “আমি মাথা তুলতে পারছি না। ওদিকে যাওয়া সম্ভব না। জো, তুমি কী যেতে পারবে?”
“আমি দেখছি ব্যাপারটা। জো চিৎকার করে বলল।
জোর দায়িত্ব ছিল গাড়িগুলোর পেছন থেকে বা চালাঘরের ওদিক থেকে যদি কেউ গুলি করে তবে তাদেরকে সামলানো। ও একটা অক্সিজেনের ট্যাঙ্কের ভালভ বন্ধ করে ট্যাঙ্কের সাথে লাগানো পাইপটা কেটে দিল। তারপর ট্যাঙ্কটা হাতে করে নিয়ে কেবিনের শেষ মাথায় জানালা ভেঙে সেদিক দিয়ে পানিতে ফেলে দিল।
“জাভালা বিদায় নিচ্ছে।” চিৎকার করে বলল ও।
তারপর সামান্য দৌড়ে ভাঙ্গা জানালা গলে নিখুঁতভাবে ঝাঁপ দিল পানিতে। তবে ওর দিকে কেউ গুলি করল না।
পানিতে পড়েই জো নিচের দিকে সাঁতরে গেল অক্সিজেনের ট্যাঙ্কটা ধরতে। তারপর ভালভটা খুলে প্রথমে খানিকটা বুদবুদ বের করে দিল, তারপর পাইপটা মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল। খুব ভালো উপায় না হলেও কাজ চলে যায়।
তারপর ঘুরে ও নৌকাটার নিচে দিয়ে সাঁতরে গেল অপরপাশে। ব্রিজের গোড়ার দিকে যাচ্ছে। এখানকার পানি একেবারে পুলের পানির মতোই স্বচ্ছ। ফলে সামনেই দেখা গেল দ্য শ্যাম্পেন দম্পত্তি পানির ভেতর ছটফট করছেন। ট্যাঙ্কটা বগলের নিচে চেপে ধরে বাকি হাতে সাঁতরে এগুলো সামনে জো। তবে সব সময় ডুবুরির পোশাক পরে সাতরানোর অভ্যাস থাকায়, গতি খুবই ধীর। পনের ফুট গভীরতায় ও পায়ের নিচে বালির টের পেল। তারপর তাতে পা বাঁধিয়ে নিজেকে ঠেলে দিল সামনে। প্রায় ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছাতেই ওর দিকেই শুরু হলো গুলিবষর্ণ। লম্বা বুদবুদের সারি তুলে ছুটে আসতে লাগল বুলেট।
নৌকার ওপর থেকে কার্টও খেয়াল করেছে ব্যাপারটা। ঝকঝকে কাঁচের মতো স্থির পানিতে জোকে দেখতে মোটেও সমস্যা হচ্ছে না ওপরের লোকগুলোর। এখন তা-ও একটু দূরে আছে, কিন্তু দ্য শ্যাম্পেনদের কাছে পৌঁছলেই একেবারে সরাসরি বন্দুকের নিচে চলে আসবে।
দ্য শ্যাম্পেনরা ডুবে মরুক এটাও চায় না কার্ট আবার বন্ধুও গুলি খেয়ে মোরাব্বা হোক সেটাও ওর কাম্য নয়। তাই এমন পরিস্থিতিতে ওর কাছে একমাত্র যুক্তিযুক্ত মনে হলো যে কাজটা সেটাই করল ও। ও আক্রমণ চালালো।
এক টুকরো c-4 তুলে নিয়ে টাইমার ৫ সেকেন্ডে ঠিক করে ENTER টিপে দিল। তারপর সেটা চালাঘরটার দিকে ছুঁড়ে দিল। ঘরের কাছাকাছিই পড়ল বোমাটা। চালের অর্ধেকটা উড়ে গেল সাথে সাথে আর ধাক্কায় বাকিটুকুও দেয়ালসুদ্ধ তাসের ঘরের মতোই লুটিয়ে পড়ল। হাসান ভেতরে ছিল না। সে তখন গাড়িগুলোর দিকে দৌড়াচ্ছে।
বিস্ফোরণের কারণে গোলাগুলিতে কিছুক্ষণের জন্যে ছেদ পড়ল। সেই সুযোগে কার্ট দ্রুত নৌকাটার ইঞ্জিন চালু করে মুখটা ব্রিজের দিকে ঘুরিয়ে দিল।
.
বিশ ফুট নিচে জো উল্টো হয়ে সাঁতার কাটছে অক্সিজেনের ট্যাঙ্কটা এখনও বুলেটগুলোর বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
ও মুখ থেকে পাইপটা খুলে পানিতে ধরলো, যাতে বুদবুদ বের হয়ে ওর আসল অবস্থান কিছুটা ঢেকে যায়। কিন্তু তাতেও বুলেট বৃষ্টি থামলো না। একটা বুলেট ওর বাহুতে ঘষা দিয়ে চলে গেল। সাথে সাথে রক্তাক্ত হয়ে গেল জায়গাটা। আরেকটা লাগল ট্যাঙ্কের গোড়ায় তবে ভাগ্য ভালো যে ট্যাঙ্কটা ফুটো হলো না।
সাতরে দ্য শ্যাম্পেনদের কাছে পৌঁছে গেল জো, তারপর পাইপটা দিয়ে তাদেরকেও অক্সিজেন নেয়ার সুযোগ করে দিল।
এদিকে ব্রিজের ওপরের বন্দুকধারী কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। হাসান আর বাকিরা চলে যাচ্ছে। “যাওয়ার আগে ওদেরকে শেষ করে আসবে।” হাসান আদেশ করে গিয়েছে ওকে।
সে পিছু হটে খালি ম্যাগাজিনটা খুলে নতুন একটা লাগালো। তারপর ফুল অটো টিপে ব্রিজের পাটাতনের একটা ছিদ্র দিয়ে রাইফেলটা তাক করল। বুদবুদের কারণে ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না, তবে যখনই ওর শিকার শ্বাস নেয়ার জন্যে পানির পাইপটা মুখে নিচ্ছে তখনই মোটামুটি দেখা যাচ্ছে ওদের। ও শান্তভাবে তাক করে বুদবুদ আবার পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রইল।
হঠাই একটা লাল আর ধূসর অবয়ব ঝলসে উঠে ব্রিজের খুটির গায়ে আছড়ে পড়ল। ক্যাচকোচ শব্দ করে পুরনো ব্রিজটা কেঁপে উঠল মারাত্মকভাবে।
