“ঝামেলা হয়ে গেল। বিড়বিড় করে বলল কার্ট।
“কেন? কি হয়েছে?” রেনাটা জিজ্ঞেস করল।
‘বন্দী দুজন একসাথে বাধা আর তারপর একটা নোঙ্গরের সাথে পা বেঁধে রেখেছে।”
“নোঙ্গর?”
“ওরকম-ই তো লাগছে। অবশ্য অতবড় না। বিশ পাউন্ডের মতো ওজন হবে। তবে একজন নিরীহ মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। একজন নিরীহ মানুষ আর তার স্ত্রী।
হাসান অধৈর্য হয়ে উঠল, “দেখতেই পাচ্ছেন, ওরা বেঁচে আছে। তবে আপনি যদি জিনিসগুলো না দেন তাহলে বেশিক্ষণ থাকবে না। আমি আমার মাত্র দুজন লোককে দেখতে পাচ্ছি।”
“বাকিরা এতোক্ষণ হাঙ্গরের পেটে চলে গিয়েছে। কার্ট বলল। কথাটা অর্ধেক সত্য। দুজন আহত বন্দীকে সী ড্রাগনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ওরা বন্দরে পৌঁছলেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া হবে।
“আর শিলালিপি!” হাসান চিৎকার দিল।
“দ্য শ্যাম্পেনদের বাঁধন খুলে দিন। সতোর নিদর্শন হিসেবে।” কার্ট দাবি করল।
“সততা ধুয়ে আমি পানি খাই।”
কার্টেরও অবশ্য এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। “আচ্ছা, ঠিক আছে, দেখাচ্ছি।” বলে কার্ট একটা নাইলনের রশি ধরে টান দিল। দিতেই নৌকার পিছন দিকে থাকা একটা ক্যানভাস কাপড়ের পর্দা সরে গেল। সরতেই দেখা গেল একটা বিশাল ট্যাঙ্ক। সাধারণত ডুবুরিদের যন্ত্রপাতি রাখা হয় ওটায়।
“ওটার ভেতর আছে এগুলো।” কার্ট জানালো।
হাসানকে দেখে মনে হলো কথাটা বিশ্বাস করছে না।
“আমি ওগুলো আপনার কাছে এগিয়ে দেবো না।” কার্ট আবার বলল। হাসানের কণ্ঠে নিখাদ সন্দেহ। “আপনার তরবারিওয়ালা বন্ধুটা কোথায়?” কার্ট প্রায় হেসে-ই দিয়েছিল।
“এই যে আমি, কেবিনের জানালা খুলে জো চিৎকার করে জবাব দিল।” কার্টের মতো জো’র সামনেও একটা ছোট স্কুবা ট্যাঙ্কের দেয়াল। তবে জোর সামনের দুটো ট্যাঙ্ক খনও ভরা আর একটা পাইপ দিয়ে ওপরের ট্যাঙ্কের সাথে লাগানো।
“খুব ভালো।” হাসান বলল, তারপর তার দুজন লোককে হাত নেড়ে ইশারা করল। ওরা রাইফেল হাতেই লাফ দিয়ে নৌকায় নামলো, তারপর ট্যাঙ্কটার দিকে এগুলো।
“যদি এটা কোনো চালাকি হয়” হাসান বলা শুরু করল।
কিন্তু কার্ট কথা কেড়ে নিয়ে বলল, “জানি, জানি। আপনি আমাদের দুজনকেই মেরে ফেলবেন তারপর দ্য শ্যাম্পেনদেরও ডুবিয়ে দেবেন। আগেও শুনেছি এই বক্তৃতা।”
বন্দুকধারী দুজন এমনভাবে ট্যাঙ্কটার দিকে এগোতে লাগল, যেন এটা একটা হিংস্র জন্তু, আর যে কোনো সময় ওটা গর্জন করে ওদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। কার্ট এমনভাবে মুখ টিপে হাসতে লাগল খুব মজা পাচ্ছে ব্যাপারটায় আর অলস ভঙ্গিতে লোকগুলোর দিক থেকে রাইফেলটা ঘুরিয়ে নিলো।
ট্যাঙ্কের কাছে পৌঁছে একজন হাটু গেড়ে বসে পড়ল ওটা খুলতে। বাকিজন পাহারা দিতে পাশেই রইল দাঁড়িয়ে।
এদিকে কেবিনের ভেতর জো অক্সিজেন ট্যাঙ্কের ভালভে হাত দিল, ওটা অবশ্য আগে থেকেই সামান্য ভোলা ছিল আর একটু একটু করে ট্যাঙ্কটাতে চাপ বাড়াচ্ছিলো। তবে একজন লোক ট্যাঙ্কের দিকে ঝুঁকতেই ও ভালভ দুটো পুরো খুলে দিল।
সাথে সাথে ট্যাঙ্কের ঢাকনা দড়াম করে খুলে গিয়ে বসা লোকটার মুখে বাড়ি দিল। জো আগে থেকেই ট্যাঙ্কের ভেতর খানিকটা গ্যাসোলিন আর ট্যাঙ্কের কবজার সাথে সিগারেটের লাইটারের আগুন জ্বালানোর চকমকি পাথরটা টেপ দিয়ে আটকে রেখেছিল। অক্সিজেনের ধাক্কায় ট্যাঙ্কটা খুলতেই গ্যাসেলিনটা বাতাসে বেরিয়ে এলো আর চকমকি পাথরটাতেও ঘষা লেগে তাতে আগুন ধরে গেল। হলিউডের সিনেমাগুলোতে এরকম কৌশল ব্যবহার হয়। আগুনটা বিশাল তবে তেমন ক্ষতি করে না কোনো। এখানেও কাজ হলো, লোকটা ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেল আর সবার দৃষ্টিও এদিকে ফিরে গেল। কমলা রঙের আগুনটা কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে পরিণত হয়ে উড়ে চলে গেল।
কার্ট সাথে সাথে তার রাইফেল আগের পজিশনে নিয়ে এসে ঘাটে দাঁড়ানো বাকি দুই গুণ্ডার দিক গুলি করল। দুটো গুলিই অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ করল। ফিরতি কোনো গুলি করার আগেই তোক দুটো ঢলে পড়ল মাটিতে।
কার্ট বন্দুক ডানে ঘুরিয়ে হাসানকে লক্ষ্য করে তৃতীয় গুলিটা ছুড়লো, কিন্তু সে ততোক্ষণে একদিকে ঝাঁপ দিয়ে চালা-ঘরটার দিকে দৌড় লাগিয়েছে।
কার্ট এবার বামে ঘুরলো, ব্রিজের ওপরের গুণ্ডাগুলোকে গুলি করবে। কিন্তু গুলি করার আগেই ওর চারপাশে গুলিবর্ষণ শুরু হলো। ফলে ও মাথা নিচু করে আত্মরক্ষা করতে বাধ্য হলো।
অক্সিজেনের ট্যাঙ্কতগুলোয় শব্দ করে করে বুলেট এসে বিধতে লাগল। ট্যাঙ্কগুলোতে বিশাল বিশাল টোল পড়তে লাগল। নরম ধাতুতে হাতুড়ির উল্টো পাশ দিয়ে বাড়ি দিলে যেরকম হয় সেরকম। কার্ট গড়ান দিয়ে একপাশে সরে গেল। আর ঠিক সেই মুহূর্তে উপর্যপুরি গুলির আঘাত সইতে না পেরে এর সবচে কাছের ট্যাঙ্কটা ভেঙে চুরমার হয়ে ছড়িয়ে পড়ল চারপাশে।
“জো, আমি মাথা তুলতে পারছি না।”
“গুলি হচ্ছে হোটেলের ছাদ থেকে।” জো জবাব দিল। তারপর দালানটার ছাদের দিকে এক পশরা গুলি ছুড়লো।
ছাদ থেকে গুলি থামল কয়েক মুহূর্তের জন্য, সেই সুযোগে কার্ট দেখলো স্নাইপারটা ছাদের নিচু দেয়ালের আড়ালে শুয়ে শুয়ে গুলি করছে। হাতে সাধারণ একটা রাইফেল, কোনো বীক্ষণ যন্ত্র নেই তাতে।”
“শালার নিশানা তো মারাত্মক।” আরেকদিকে হামাগুড়ি দিতে দিতে বলল কার্ট। তারপরও ও সেদিকে গুলি ছুড়লো কয়েকটা।
