“আশা করি এতে কাজ হবে। এখন আর আমার মরতে একদমই ইচ্ছে করছে না।”
জো শেষ ট্যাঙ্কটা জোড়া দেয়া শেষ করতেই ওরা গোজো দ্বীপের ধারে পৌঁছে গেল।
“তোমার জিনিস রেডি। যতটা পারি করেছি। আমি নিচে যাচ্ছি।” বলল জো। কার্ট মাথা ঝাঁকিয়ে রেনাটার দিকে ফিরলো। “আপনার লুকিয়ে থাকা দরকার। ওরা এখনো আপনার কথা জানে না।”
“আপনারা আমার দেশের শত্রুর সাথে লড়বেন আর আমি পাটাতনের নিচে লুকিয়ে থাকবো?” রেনাটা প্রতিবাদ করল।
“হ্যাঁ। সেটাই করবেন। সবার পেছনের কামরাটায় একটা জানালা আছে। ওটার ছিটিকিনি খুলে যথা সময়ের জন্যে অপেক্ষা করতে থাকেন।”
“পেছনের কেবিনে কেন?”
“কারণ আমাদের খুব দ্রুত পালানোর প্রয়োজন পড়তে পারে।”
মুখ দেখে বোঝা গেল রেনাটা ব্যাপারটা মানতে পারছে না, কিন্তু কিছু বললও না। “আচ্ছা ঠিক আছে, শুধু এবার-ই।”
ওরা কানে লুকানো মাইক্রোফোন লাগাল। রেনাটা নিজেরটা পরীক্ষা করে নিয়ে নিচের ডেকে নেমে গেল। তারপর পেছনের কেবিনে চলে গেল। তারপর জানালার ছিটকিনি খুললেও জানালা না খুলে হাতে বেরেটা নিয়ে বসে থাকল।
চুনাপাথরের পাহাড়গুলোর কাছে পৌঁছাতেই কার্ট নৌকাটা এক টানে পুরো ঘুরিয়ে ফেলল। তারপর পিছন ফিরে এগুতে লাগল। পাহাড়গুলো পার হতেই ও সুড়ৎ করে অক্সিজেন ট্যাঙ্কগুলোর পিছনে ঢুকে গেল। হাতে রাইফেল। চোখ সামনের পাথরগুলোর ওপর। যে কোনো মুহূর্তে গুলির জন্য প্রস্তুত।
“আমরা এখনো বেঁচে আছি,” পাথরগুলো পেরিয়ে আসতেই বলল কার্ট।
“আপাতত, “ ক্ষুব্ধ স্বরে নীচ থেকে বলল জো।
কাৰ্ট চোখে একটা দূরবীন লাগিয়ে সামনেটা দেখতে লাগল। “ব্রিজের পাশের পাকা ঘাটলাটায় তিনজনকে দেখা যাচ্ছে। হাতে বন্দুক। রাস্তার মাথায় কয়েকটা গাড়িও দেখছি। কোনো নৌকা নেই।”
“তার মানে ওরা গাড়ি চালিয়ে এসেছে।” রেনাটা বলল, “এতে কী আমাদের কোনো সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা আছে?”
“হ্যাঁ। যদি ওরা খুব জোরে সাতরাতে না পারে, তাহলে পালানোর সময় আমাদেরকে ধরতে পারবে না।” জো বলল।
“আড়ালে থেকো সবাই। হোটেলের ছাদে সম্ভবত একজন স্নাইপার আছে। একটা প্রতিফলন দেখলাম বলে মনে হলো।” কার্ট বলল।
“একমাত্র আপনিই নৌকার ওপরে।” রেনাটা মনে করিয়ে দিল।
“আমার সামনে প্রোটেকশন আছে। কিছু হবে না। আর ওরা ওদের জিনিস পাওয়ার আগ পর্যন্ত কিছু করবে বলে মনে হয় না।”
কার্ট নৌকাটাকে আস্তে আস্তে থামিয়ে দিল। তারপর সেটা একা একাই ভাসতে ভাসতে পাকা ঘাটলাটায় গিয়ে আটকালো। সেখান থেকে একটা রাস্তা ব্রিজের সিঁড়ি পর্যন্ত চলে গিয়েছে। আরেকটা রাস্তা চলে গিয়েছে একটা ভাঙ্গা-চোরা চালা ঘরের দিকে। ওটাই সম্ভবত ব্রিজ আর ঘাটের মেরামত ঘর।
তিনজনের একজন সামনে এগিয়ে এলো, হাতে একটা দড়ি।
স্কুবা ট্যাঙ্কগুলোর পেছন থেকে চেঁচালো কার্ট। বাধতে হবে না। আমরা বেশিক্ষণ থাকবো না। তোমাদের বস কোথায়?”
চালাঘরটা থেকে একজন গাট্টাগোট্টা ছোটোখাটো গড়নের মানুষ বের হয়ে এলো। চোখে সানগ্লাস, মাথায় মিলিটারি ছাট চুল।
“এই যে আমি।” বলল লোকটা।
“আপনি নিশ্চয়ই হাসান।” কার্ট বলল।
লোকটাকে কেমন বিরক্ত দেখালো।
“আপনার লোকগুলোকে পিটিয়ে এটুকু বের করা গিয়েছে। টুকটাক আরও কিছু জানা গিয়েছে।” কার্ট বলল।
“তাতে আখেরে কোনো লাভ হবে না। তবে আপনি চাইলে আমাকে এই নামে ডাকতে পারেন। লোকটা বলল।
“জায়গাটা অনেক সুন্দর।” বলল কার্ট। এখনো স্কুবা ট্যাঙ্কগুলোর পিছনেই ঘাপটি মেরে আছে। “তবে ভিলেনদের আস্তানা হিসেবে মানাচ্ছে না।”
“আপনার এসব সস্তা রসিকতায় মোটেও হাসি পাচ্ছে না। সাহস থাকলে উঠে দাঁড়িয়ে মুখোমুখি কথা বলুন।” লোকটা বলল।
“অবশ্যই। তবে তার আগে আপনার স্নাইপারকে বলুন রাইফেলটা সাগরে ফেলে দিতে।”
“কোন স্নাইপার?”
“হোটেলের ছাদে যে আছে।”
ট্যাঙ্কগুলোর ফাঁকের সরু ফাঁক দিয়েও কার্ট লোকটার চেহারা কালো হয়ে যাওয়া দেখতে পেল।
“নাও অর নেভার।” বলতে বলতে কার্ট আবার ইঞ্জিন চালু করল। চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
লোকটা ঠোঁটের সামনে রেডিও তুলে ফিসফিস করে কিছু একটা বলল। সম্ভবত ওপাশে না-বোধক উত্তর পাওয়ায় আবার জোর দিয়ে কথাটা বলল। এবার কাজ হলো। ছাদের ওপর স্নাইপারটা উঠে দাঁড়ালো তারপর ভারী রাইফেলটা তুলে নিয়ে নিচে ছুঁড়ে মারলো। পাক খেতে খেতে সেটা সাগরের পানিতে আছড়ে পড়ল।
“খুশি?” হাসান বলল।
“ব্যাটার কাছে আরো একটা রাইফেল আছে কি-না কে জানে? বা আরেকজন স্নাইপারও থাকতে পারে।” জো বলল নিচু স্বরে।
“সাহস দেয়ার জন্যে ধন্যবাদ।” চিবিয়ে চিবিয়ে বলল কার্ট। তারপর উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল। “দেখা যাক ভাগ্যে কি আছে।”
কার্ট APS রাইফেলটা হাতে উঠে দাঁড়ালো। তিনটা একই অস্ত্র ওর দিকেও তাক করে ধরা। হাসানের কাছেও একটা পিস্তল আছে। তবে সেটা হাতে নেই। শোল্ডার হোলস্টারে।
“দ্য শ্যাম্পেনরা কোথায়?” কার্ট জিজ্ঞেস করল।
“আগে শিলালিপিগুলো দেখান।” হাসান দাবি করল।
কার্ট মাথা নাড়লো, “উঁহু! সত্যি কথা হলো, ওগুলো যে কোথায় রেখেছি মনে পড়ছে না।”
বিরক্তি ভাবটা আবার ফিরে এলো হাসানের চেহারায়। হাসান শিস দিতেই ব্রিজের ওপরে নাড়াচাড়া দেখা গেল। এক জোড়া মানুষকে ধাক্কিয়ে ব্রিজের কিনারের দিকে নিয়ে আসা হয়েছে। দ্য শ্যাম্পেন দম্পতি। মোটামুটি বৃদ্ধই বলা চলে তাদেরকে। দুইজনই একসাথে বাঁধা। ব্রিজের ঠিক যেখানে রেলিং নেই সেখানে এনে দাঁড় করানো হলো তাদের। আর এক পা এগুলেই সোজা নিচে। দ্য চ্যাম্পিয়নের হাতে একটা গোলমতো জিনিস। একটা দড়ি দিয়ে ওটা তার পায়ের সাথে বাধা।
