জো লোকদের কাছ থেকে নেয়া বন্দুক আর ওগুলোর গোলাবারুদ দেখে টেখে বলল, “দুটো একে-৪৭ আর একটা APS রাইফেল। গুলি আছে তিনটা বন্দুক মিলায়ে নব্বই রাউন্ডের মতো। এক্সট্রা কোনো ম্যাগজিন নেই।”
“আমার একটা গুলি ভরা বেরেটা নাইন মিলিমিটার আছে। মোট আঠারোটা গুলি আছে ওটায়।” রেনাটা বলল।
“আমার কাছে খানিক C-4 আছে।” কার্ট বলল।
“অস্ত্রপাতির ব্যবস্থা তো হলো, ঘাবড়ানোর ব্যবস্থা কী হবে?”
রেনাটা ওর ফোনে এলাকাটার একটা ছবি ডাউনলোড করে বলল, “এখানে আমাদেরকে দেখা করতে বলেছে।”
জায়গাটা উপসাগরের ভেতর। অশ্রুর মতো আকৃতি আর চারপাশে চুনাপাথরের ছোট ছোট পাহাড়ে ভরা। সাগরটার মুখেই এক চিলতে বেলাভূমি। বৈকালিক সূর্যের আলোয় সামনের পরিষ্কার পানি ফিরোজা রঙে ঝলমল করছে। “এটা কী?” ছবিটার একটা কোণা দেখিয়ে কার্ট জিজ্ঞেস করল।
রেনাটা ছবিটা আরো বড় করে বলল, “দালানকোঠা।” চুনাপাথরের পাহাড়গুলোর ওপরে ওগুলো বানানো। কয়েক তলা উঁচু, বারান্দাও আছে। উপসাগরের প্রান্তে ছোট্ট একটা ব্রিজও আছে।
“পরিত্যক্ত হোটেল।” রেনাটা বলল। তারপর বিল্ডিংটা সম্পর্কে কিছু তথ্য। বের করে জানালো, “এটা হলো মূল ভবন। আর এই ব্রিজটা বানানো হয়েছিল হোটেল থেকে সরাসরি সমুদ্র তটে যাওয়ার জন্য।”
“বালি’র (ইন্দ্রোনেশিয়ার দ্বীপ) রিসোর্টগুলোর মতো? পানির ওপর ব্রিজ?” জো জিজ্ঞেস করল।
“সেরকম মনে হচ্ছে না। এগুলো অনেক উঁচু। নিচু দিয়ে নৌকা যেতে পারবে। এখানকার দেয়া তথ্যমতে জিনিসটা বানানো হয়েছিল ‘অ্যাজউর উইন্ডো’-এর মতো করে। আশেপাশেই নাকি এরকম দেখতে প্রাকৃতিক একটা ব্রিজ আছে।” রেনাটা জবাব দিল।
কয়েক বছর আগে কার্ট অ্যাজিউর উইন্ডোটা দেখেছে। দুর্দান্ত সুন্দর জিনিসটা। প্রায় একশো ষাট ফুট উঁচু হয়ে সমুদ্র থেকে বেরিয়ে এসেছে। ও যাদের সাথে ঘুরতে গিয়েছিল ওরা তো ওখান থেকে লাফ দিয়ে সমুদ্রে পড়বে বলে ঠিক করে ফেলল। কার্ট আগাম ওদের চল্লিশার দাওয়াত চেয়ে বসায় শেষমেশ ওরা নিবৃত হয়।
“ব্রিজটা ঝামেলা করবে। সাগরের পাশের ঐ পাহাড়গুলোও সমস্যা। কার্ট বলল। “স্নাইপারদের লুকানোর জন্য আদর্শ জায়গা ওগুলো। আর এর মধ্যেই ওরা একবার তাকে ব্যবহারও করেছে।”
“আমরা ওদের পিছন দিক দিয়ে আসতে পারি। আমি বলি কি এবার আর নিচে না গিয়ে মাটির আরো উঁচু দিয়েই যাওয়া যাক।” জো বলল।
রেনাটা ছবিটা ছোট করে আশেপাশের জায়গাগুলো দেখতে লাগল। হোটেলটার আশেপাশে কিছু নেই। সবচে কাছের লোকালয়টাও অনেক দূর। একটা মাটির রাস্তা চলে গিয়েছে ওখান থেকে হোটেল পর্যন্ত। আর সমুদ্র থেকে ঐ রাস্তায় পৌঁছার রাস্তা একটাই। সেটা হলো হোটেল থেকে রাস্তা পর্যন্ত একটা আঁকাবাঁকা সিঁড়ি।
“আমরা ওই ব্যাটাদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।” ঠাণ্ডা স্বরে বলল রেনাটা। “করতে পারলে খুশি-ই হতাম। কিন্তু এই লোকগুলো নিজেদের লোকদেরকেও মারতে আটকায় না। এই কাজ করলে বরং ওরা খুশি-ই হবে।”
“তাহলে তো হয় দ্বীপে নামামাত্রই গুলি খেয়ে মরতে হবে আর ভাগ্য আরো খারাপ হলে RPG দিয়ে নামা জাহাজটাই উড়িয়ে দেবে। আমরা কিছুই করবো না?”
“কিছুই করার নেই। সত্যি কথাই বলল কার্ট। “তার ওপর এই কাল্পনিক পুরাকীর্তিগুলো থাকা না থাকায় ওদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। ওদের লক্ষ্য শুধু ওগুলো যাতে কারো হাতে না পড়ে। তবে আমার মনে হচ্ছে ওরা অন্তত একবার হলেও জিনিসগুলো দেখতে চাইবে। কারণ দেখার আগেই আমাদের ডুবিয়ে দিলে ওরা নিশ্চিত হতে পারবে না যে আসলেই ওগুলো আমাদের কাছে ছিল কি-না। আমাদের শুধু রেডি থাকতে হবে যখন ওরা ব্যাপারটা টের পাবে সেই সময়টার জন্য।”
“কোনো বুদ্ধি পেয়েছ?” জো জিজ্ঞেস করল।
“তুমি হচ্ছো মেকানিক্যাল জিনিয়াস। এসব দিয়ে তুমি কী করতে পারবে বলো?” কার্ট বলল।
জো ডেকের ওপর নজর বুলালো। সেখানে স্কুবা ট্যাঙ্ক, পাইপ, নৌকার আংটা আর কিছু দড়ি পড়ে আছে। “যা আছে তা দিয়ে খুব বেশি কিছু হয়তো করা যাবে না। তবে একটা কিছুতো বের করে ফেলবই।” জবাব দিল জো।
.
৩৫.
ডুবুরির নৌকাটা নিয়েই যাচ্ছে ওরা। চালাচ্ছে কার্ট। সমুদ্রের নীল-সবুজ পানিতে লম্বা একটা সাদা দাগ পড়ে যাচ্ছে তাতে। এদিকে জো বসে বসে খালি স্কুবা ট্যাঙ্কগুলো জোড়া দিয়ে একটা বাংকার বানাচ্ছে।
“এগুলোর গায়ে গুলি লাগলে ফুটে যায় না?” রেনাটা জিজ্ঞেস করল।
“সিনেমাতে ফোটে। তবে সাবধানের মার নেই বলে আগেই ফুটো করে নিয়েছি গায়ে। এখন এগুলো পুরু দুই স্তরবিশিষ্ট স্টীলের প্রতিরক্ষা ঢাল হিসেবে কাজ করবে। আড়ালে লুকানোর জন্যে চমৎকার কাজে দেবে।” জো জবাব দিল।
“আপনি খুব সাহসী। আপনারা দুজন-ই” রেনাটা বলল।
“এই কথাটা দয়া করে আপনার সব বান্ধবীকে বলবেন যে কীভাবে আমরা মানবতার স্বার্থে জীবন বাজি রেখে পৃথিবীকে রক্ষা করেছি।”
রেনাটা হেসে দিল।
“আমার বান্ধবী আছেই মাত্র কয়েক জন। তবে ওরা আপনার সাথে পরিচিত হতে পারলে খুশিই হবে।”
“মাত্র কয়েকজন?”
“তিন চারজন আর কি। ওরাই আপনার জন্যে মারামারি লাগিয়ে দেবে।” রেনাটা জবাব দিল।”
“ইশ। ভালোই মজা হতো তাহলে, কিন্তু বেঁচে ফিরতে পারবো কি-না কে জানে।” করুণ একটা হাসি হেসে বলল জো। তারপর কার্টের দিকে ফিরে বলল।
