“এদিকে।” এবার প্রথম লোকটা হলুদ জিনিসটা দেখতে পেয়েছে।
জিনিসটা এবার সোজা ওদের দিকে এগুচ্ছে। পানির ঠিক নিচে। সূর্যের আলোয় ওটার চকচকে গা দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট। দুজনেই সেদিকে বন্দুক তাক করে গুলি করা শুরু করল। আশে পাশে পানি ছিটকে ফোয়ারার মতো হয়ে গেল।
কিন্তু হলুদ জিনিসটা তাতে থামল না। কয়েক মুহূর্ত পরেই সেটা পানির ওপর উঠে এলো। গুলি বষ্টিতে ভরিয়ে দিল জিনিসটাকে, কিন্তু জিনিসটা এক মুহূর্ত না থেমে ওদের নৌকায় এসে ধাক্কা দিল।
ধাক্কায় নৌকা দুলে উঠল। লোক দুটো ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে বন্দুক দুটো ঘুরিয়ে নিতে হলো। আর জিনিসটা ওদের নৌকার পাশ কাটিয়ে দূরে সরে গেল।
এতক্ষণে ওরা বুঝলল যে ওটার ভেতর আসলে কেউ নেই।
হঠাৎ পিছনে শিসের শব্দে ধারণার সত্যতা প্রমাণ হলো। ঘুরতেই দেখে রূপালি চুলের, ডুবুরিদের পোশাক পরা এক লোক ওদের দিকে একটা APS তাক করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
ওরা যতক্ষণ হলুদ জিনিসটা নিয়ে ব্যস্ত ছিলা তখন কার্ট নৌকার পিছন দিক দিয়ে উঠে এসেছে।
“বন্দুকগুলো পানিতে ফেলে দাও।” আদেশ দিল কার্ট।
লোকদুটো আদেশ মেনে হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
“হাত পাছার পিছনে নিয়ে, মাথা নিচু করে বসে পড়ো।”
বিনা বাক্য ব্যয়ে এটাও মেনে নিলো তারা।
ওদের দিকে বন্দুক তাক করে রেখেই ও নৌকার ক্যাপ্টেনের হাত-পায়ের বাঁধন কেটে দিল। তারপর মুখের ভেতর থেকে কাপড়টা সরাতেই ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে বলে উঠল, “পানির নিচেও আমার লোক আছে।”
“চিন্তা করবেন না, ওরা ঠিক আছে।” কার্ট বলল।
ক্যাপ্টেন মাথা নাড়লল, “ঐ লোকগুলো ভোরের পর থেকে পানির নিচে। আর আমাদের ডিকমপ্রেশন ট্যাঙ্ক ঐ বজরাতে ছিল।”
“আমাদের জাহাজে একটা আছে। ওটা আনিয়ে নিচ্ছি।” বলে ও সী ড্রাগনকে রেডিওতে খবর দিল।
“দ্য চ্যাম্পিয়নদের কি হবে? ওরা এই কনসারভেন্সিটা চালায়। ক্যাপ্টেন বলল।
“ওদের কি হবে মানে?”
‘লোকগুলো ওদেরকে ধরে নিয়ে গিয়েছে।”
“আগেই বোঝা উচিত ছিল।” কার্ট বলল, তারপর পড়ে থাকা দুজনের দিকে ফিরে বলল, “রেডিও না ফোন?”
“ফোন, ব্যাকপ্যাকে আছে।” লোকটা জবাব দিল।
কার্ট লোকটাকেই আদেশ দিল ফোন বের করে নাম্বার টিপতে।
“কি খবর বলো? কাজ কতদূর এগুলো?” কর্কশ একটা কণ্ঠ শোনা গেল। কার্ট ফোনটা ওর হাত থেকে নিয়ে নিলো, “আপনারাই কি দ্য শ্যাম্পেনদের আটকে রেখেছেন?”
“কে?”
“আমার নাম অস্টিন। কার সাথে কথা বলছি জানতে পারি?”
“আপনি যদি আমার নাম না জানেন, তাহলে সেটা না জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।” লোকটা বলল।
“সমস্যা নেই। আপনার লোকদের একটু কড়কে দিলেই সব জানা যাবে।” লোকটা জবাব না দিয়ে হাসতে লাগল। “লোকগুলো আমার ব্যাপারে বিন্দু বিসর্গও জানেনা। যা খুশি করুন ওদেরকে নিয়ে। আপনি যা জানেন এর বেশি একটা তথ্যও ওদের কাছে নেই।”
এই মুহূর্তে কার্ট পিছিয়ে আছে। তবে বেশিক্ষণ থাকা যাবে না।
“হতে পারে। তবে ওরা যে পুরাকীর্তিগুলো উদ্ধার করেছে সেগুলো থেকে অনেক কিছুই জানা যাবে আশা করি। মিসরীয় ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করা দারুণ একটা শখ। বিশাল সবুজ দানবটার রহস্যটা কি তা আমার জানার খুব আগ্রহ। সম্ভবত লোকটার মানুষকে শূন্যে ভাসাবার ক্ষমতা ছিল।
আন্দাজের ওপর বাজি ধরেছিল কার্ট কিন্তু লেগে গেলো সেটা। হাসির বদলে ওপাশে এবার নীরবতা নামলো। “যাক এবার কাজ হয়েছে।” ভাবলো কার্ট। “খোঁচাটা জায়গা মতোই লেগেছে।”
“আপনার কাছে শিলালিপিটা আছে?”
“সত্যি কথা হলো আমি তিনটা শিলালিপি পেয়েছি।” মিথ্যে বলল কার্ট। “আমি আপনাকে একটা প্রস্তাব দিতে চাই।” লোকটা বলল ফোনের অপর প্রান্ত থেকে।
“শুনছি আমি।”
“ট্যাবলেটগুলো আমাকে ফেরত দিন বদলে দ্য শ্যাম্পেনদের জীবিত ছেড়ে দেবো।”
“হুম! আচ্ছা ঠিক আছে। কোথায় আসতে হবে বলুন।”
.
৩৪.
“এই লোকগুলোকে নিয়ে আসা কি বুদ্ধির কাজ হয়েছে?” বেঁধে রাখা লোকগুলোকে দেখিয়ে বলল রেনাটা। ওরা এখন পূর্ণ গতিতে ফোনের লোকগুলোর বলে দেয়া জায়গাগুলোর দিকে ছুটছে।
“ওদের সাথে আমাদের একটা ব্যবসা করার কথা। অন্তত আমাদের মালগুলো তো দেখাবো।” কার্ট বলল।
“যখন ওরা দেখবে আপনি শিলালিপির বদলে তিনটা গুণ্ডা নিয়ে এসেছেন তখন কি হবে বলে মনে হয়?” জো জিজ্ঞেস করল।
“গোলাগুলি, বিস্ফোরণ আর লোকজনের চেঁচামেছি।” কার্ট জবাব দিল।
“তার মানে…সেই আগের মতোই।” জো হতাশ হলো।
“যা করি সবসময় তা-ই।” কার্ট বলল। শুনে রেনাটা আর জো দুজনেই হাসলো তবে রেনাটার হাসিটা বিষণ্ণ দেখালো।
“আসল সমস্যা অন্য জায়গায়,” বলল রেনাটা। “আমাদের কাছে যদি শিলালিপিগুলো আসলেও থাকতো তাহলেও ওরা দ্য শ্যাম্পেনদের ছাড়তে বলে মনে হয় না। তার ওপর এরা জানে যে এই লোকগুলো কি খুঁজছে। জাদুঘরের ঐ জিনিসগুলোও দ্য ‘চ্যাম্পিয়নদের কালেকশন থেকেই আসা। কয়েক বছর আগে ওরা সোফি সি.তে উদ্দার কাজ চালায়। এর মানে হচ্ছে দ্য শ্যাম্পেনরা পুরাকীর্তিগুলোর চেয়ে কম বিপদে নেই।” কার্ট তাকিয়ে আছে সমুদ্রের দিকে। সূর্যের আলো চোখে পড়ায় চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে। যততই মজা করুক যে কাজটা করতে যাচ্ছে সেটা দারুণ কঠিন। “আমাদেরকে প্রথম সুযোগেই ওদেরকে ভড়কে দিতে হবে। অস্ত্রপাতি আর লোকজন কেমন আছে আমাদের?”
