কার্ট আরো একটু কাছে গেল। তারপর জাহাজের ছাতাপড়া কাঠ চেপে ধরে কাছ থেকে দেখতে লাগল। বোমার ডিজিটাল ঘড়িতে সময় দেখাচ্ছে ২.৫১। সেকেন্ড সেকেন্ড করে কমছে সময়টা।
কার্ট চেষ্টা করল ভাঙ্গাচোরা জিনিসগুলোর ভেতর দিয়ে বোমাটা টেনে আনতে, কিন্তু ওর হাত অতদূর গেল না। ওর হাত থেকে আরো দুয়েক ফুট দূরে বোমাটা।
“জো! একটু সাহায্য দরকার।” কার্ট বলল।
জো আর টার্টল আসতে আসতে ঘড়ির কাটা ২.০০-তে পৌঁছে গেল। Roy- টায় একটা ভাজকরা লাঠি ছিল। জো সেটা দিয়ে চেষ্টা করল। কিন্তু কাজ হলো না। এটাও ছোটো।
“আমাদের এখান থেকে চলে যাওয়া দরকার। আমি এই লোকগুলোকে নিয়ে যেতে পারবো।” জো বলল।
দেরি হয়ে গিয়েছে। এখন গেলেও বেশিদূর যেতে পারবে না। আর যে পরিমাণ C-4 ব্যবহার করা হয়েছে তাতে শক ওয়েভেই চ্যাপ্টা হয়ে মরবো। অন্য বুদ্ধি বের করতে হবে।”
হঠাৎই ওর গায়ে সামান্য ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়ায় পাশ ফিরে দেখে ডুবুরি লোকটার হাতে ভ্যাকুয়াম পাইপটা ধরা।
“দারুণ বুদ্ধি!” বলল কার্ট।
ভ্যাকুয়ামটা তখনো চালু। কার্ট সেটাকে ভাঙ্গা জাহাজের কাঠের দিকে তাক করে ভালভ খুলে দিল।
প্রথমবারেই ওটা অনেকখানি বিস্ফোরক তুলে আনলো। কিন্তু ওটা নজেলের কাছে আটকে গেল। ও ভ্যাকুয়ামটা আবার উঠিয়ে নিয়ে আসলো আর জো ওটাকে ওখান থেকে খুলে নিলো। তারপর তারগুলো খুলে ফেলতেই বোমাটা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেল। তারপরও সাবধানতাস্বরূপ জো টাইমারটাও খুলে দিল।
“চল্লিশ সেকেন্ড আছে আর। তাড়াতাড়ি। বাকিটাও উঠিয়ে আনো।” থেমে যাওয়া টাইমারটা দেখে বলল জো।
কার্ট ইতোমধ্যে ভ্যাকুয়ামটা আবার আগের জায়গায় বসিয়ে দিয়েছে প্রায়। দ্বিতীয় বোমাটার দিকে তাক করতেই বোমাটা উঠে এলো। কিন্তু প্রথমটার মতো আটকে যাওয়ার বদলে বেসবলের মতো বড় বোমাটা ভ্যাকুয়ামের পাইপ বেয়ে ওপরে চলে গেল।
কার্ট আর জো দুজনেই ওপরে তাকাল। পানির ওপরে টিউবের মাথাটা দেখার চেষ্টা করছে।
“জিনিসটা কোথায় গিয়ে থামবে বলে মনে হয়?” জো জিজ্ঞেস করল। কার্ট জবাব দিল না, কারণ উত্তরটা দুজনেরই জানা। তবে কথা হচ্ছে বোমাটা কি চল্লিশ সেকেন্ডে পুরো পাইপ পার করতে পারবে নাকি কোথাও আটকে যাবে? কার্ট ভ্যাকুয়াম পূর্ণ গতিতেই চালাতে লাগল। আশা করছে বোমাটা শেষ পর্যন্তই পৌঁছতে পারবে।
.
এদিকে পানির ওপরে ভ্যাকুয়ামের কমপ্রেসরটা এতোক্ষণ অলস ভঙ্গিতে আস্তে আস্তে চলছিল। হঠাৎ সেটা পূর্ণ শক্তিতে গর্জন করা শুরু করল। ফারুক নামে একটা লোক এটার দায়িত্বে ছিল। হঠাৎ এই পরিবর্তনে খুশি হলো সে। কারণ সে ভাবছিল নিচে বোধহয় কাজ করা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি। যা পেয়েছে সবই ফালতু জিনিস। এদিকে টেনশন হচ্ছে খুব। প্রতিবারই আশপাশে কোনো জাহাজ দেখা গেলেই ওর বুকটা কেঁপে উঠছে। এই বুঝি NATO বা মাল্টার কোস্ট গার্ডের পেট্রোল বোট ধেয়ে এলো। ও আবার সেই ধাতুর জালটার দিকে এগিয়ে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যেই পানির ক্ষীণ ধারাটা উনাত্ত স্রোতে রূপ নিলো। অবশ্য ওটায় পানি-ই বেশি। বালি বা অন্য জিনিস খুব একটা নেই। তবে সেটা যে কোনো মুহূর্তে পাল্টে যাবে। শেষমেশ একদলা বালি নলের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো। তারপরই ওঠে এলো শক্ত একটা জিনিস। জিনিসটা জালের ওপর পড়তেই একজন ওটা কি দেখার জন্যে এগুলো।
“না।” ফারুক চিৎকার করে উঠল।
তবে ওর চিৎকার ঢাকা পড়ে গেল বিস্ফোরণের শব্দে। অন্য লোকটা আর ফারুক দুজনেই ছাতু হয়ে গেল মুহূর্তেই। জাল, কমপ্রেসর আর বজরাটার বেশির ভাগ অংশও উড়ে গেল সাথে সাথে। যেটুকু বাকি ছিল সেটুকুও টুপ করে ডুবে গেল পানিতে।
বজরা থেকে একজন মাত্র লোক বেঁচে ফিরতে পারলো। একেবারে নৌকার শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে ছিলো সে। বিস্ফোরণের পরে নৌকাটা ভোবা আরম্ভ করতেই সে লাফ দিয়ে অন্য নৌকটার দিকে সাঁতার দিলো। অন্য কারো খোঁজ নেয়ার কথা মাথাতেই নেই।
লোকটা অন্য নৌকাটার সিঁড়িতে পৌঁছাতেই একজন এসে তাকে উঠতে সাহায্য করলো কিন্তু সিঁড়িতে পা দেয়ার আগেই তীক্ষ্ণ কিছু একটা তার পা ভেদ করে ঢুকে গেলো। তারপর তাকে টেনে আবার পানিতে এনে ফেললো।
প্রথমে লোকটা ভেবেছিল হাঙ্গর বোধহয়। কিন্তু ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে পানিতে অস্পষ্ট হলুদ কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। পানিতে ডুবন্ত কিছু একটা। উল্টোদিকে যাচ্ছে এখন। সাথে তাকেও টেনে নিয়ে যাচ্ছে পানির নিচে।
যে মুহূর্তে মনে হলো যে লোকটা জ্ঞান হারাবে তখনই তার পায়ের বাঁধন খুলে গেল আর সে মুক্ত হয়ে গেল। হাড়ে পাঁচড়ে পানির ওপর উঠে দেখে ডুবুরি নৌকাটা থেকে প্রায় একশো গজ দূরে সরে এসেছে। এদিকে পানির ওপরে উঠামাত্র শুরু হলো কাশি। কোনোমতে সেটা সামলে আশেপাশে তাকিয়ে দেখে হলুদ জিনিসটা আর নেই।
ডুবুরি নৌকায় থাকা দুজন এদিকেই অস্ত্র তাক করে দাঁড়িয়ে আছে। আশে পাশের পানিতে গুলি করার মতো কিছু খুঁজছে ওরা যে আক্রমণের শিকার এতক্ষণে তা টের পেয়েছে।
“কিছু দেখা যায়?” একজন চিৎকার করে জানতে চাইলো।
“না”
“আরেক দিকে দেখো।”
“ঐ তো ঐ যে!” নৌকায় থাকা দ্বিতীয় জন চেঁচালো।
লোকটা ভেবেছিল জিনিসটা একটা ডুবো জাহাজ। ওর বুলেটগুলো পানি ছিটকাতে ছিটকাতে চিরে দিল সমুদ্রের বুক। কিন্তু জিনিসটা উধাও হয়ে গেল আবার।
