কার্ট পাক খেয়ে সরে গেল একদিকে। ঘুরে তাকিয়ে দেখে জো টার্টলের নাকে লোকটাকে বাধিয়ে ঠিক একটা উন্মত্ত ষাড়ের মতো ছুটে যাচ্ছে।
লোকটাকে সমদ্র তলে আছড়ে ফেলে তারপর জো থামল। তারপর টার্টল দিয়ে চাপা দিয়ে বালির ভেতর অর্ধেক গেঁথে দিল।
কার্ট নিচু হয়ে রাইফেলটা তুলে নিয়ে জোর অপেক্ষা করতে লাগল। কিছুক্ষণ পরেই টার্টল কার্টের পাশে এসে থামল। হেলমেটের ভেতর দিয়েই জো’র হাসিমুখ দেখা যাচ্ছে। “আচ্ছা টাৰ্টলের গায়ে একটা কঙ্কালের মাথা একে দিলে কেমন হয়?”
আমি থাকতে সেটা হবে না, এতোক্ষণ লাগলো কেন তোমার?” কার্ট বলল। জো দাঁত বের করে হাসলো, “ওখানে বসে আসলে বোঝা যাচ্ছিলো না যে তুমি আসলেই বিপদে পড়েছ নাকি মজা নিচ্ছ। তবে যখন রাইফেলের শব্দ পেলাম তখন বুঝলাম কুছ তো গাড়বাড় হ্যায়।”
মজার ব্যাপার হলো, পানির নিচে গুলি বা রেডিও তরঙ্গের চেয়ে শব্দ অনেক দ্রুত যায়।
কৃতিত্ব পুরোটাই রাশিয়ানদের। ওরা বেশ মজার মজার অস্ত্র বানায়।” কার্ট জবাব দিল।
“হুম! তোমার কালেকশনের জন্যে দারুণ হবে এটা।” জো বলল।
কার্ট বন্দুক সগ্রহ করতে পছন্দ করে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওগুলো যোগাড় করে। ওর কাছে ভুয়েলিং পিস্তল আছে, দুপ্রাপ্য কয়েকটা অটোম্যাটিক বোয়েন রিভলভার আছে। সম্প্রতি পশ্চিম থেকে একটা সিক্স শুটার জোগাড় করেছে। সাথে একটা কোল্ট পয়েন্ট ফোর ফাইভ। এটা দিয়েই ও ওর সর্বশেষ ভিলেনকে মেরেছে।
“তা তো অবশ্যই। তবে আমার মনে হচ্ছে। শো-কেসে জায়গা পাওয়ার আগে এটার আরো কিছু কাজ বাকি আছে।”
“আমরা যে কাজটা উল্টো দিক থেকে করছি সেটা কী বুঝতে পারছো? আমরা মাটির নিচে সব সাফ করে ফেলেছি। কিন্তু ওপরে কিন্তু রয়েই গিয়েছে। যুদ্ধের কৌশল কিন্তু এরকমটা হয় না।”
“তবে ভাগ্য কিছুটা ভালো। ওরা এখনো আমাদের কথা জানে না।” কার্ট প্রপালসন ইউনিট চালু করে আবার ধ্বংসস্তৃপের দিকে এগিয়ে গেল। কর্মরত সাধারণ ডুবুরিদের দেখা গেল আরো কয়েকটা অক্সিজেন ট্যাঙ্ক বের করছে। ওদেরকে দেখেই কেমন কুকড়ে গেল ওরা।
“সাবটাইটেল দেয়া শুরু করে দাও।” জো বলল।
ডিসপ্লেটা চালু করে কার্ট লিখলো, “সব ঠিক আছে। গার্ডরা মারা গিয়েছে, আমরা আপনাদেরকে এখান থেকে নিয়ে যাবো।”
একজন আঙুল দিয়ে ওপরে দেখিয়ে হাতের বোর্ডে খুব কষ্টে কিছু আঁকিবুকি কাটলো। এমন কাকের ঠ্যাং বগের ঠ্যাং লেখা কার্ট জীবনেও দেখেনি।
“আপনারা কতক্ষণ ধরে পানির নিচে?” কার্ট জিজ্ঞেস করল। চার আঙুল দেখালো একজন।
“নব্বই ফুট পানির নিচে চার ঘণ্টা।” জো বলল।
ওরা নিশ্চয়ই শুধু অক্সিজেনের বদলে নাইট্রক্স বা টাইমিক্স ব্যবহার করছে। তার পরও এতোক্ষণ পানির নিচে থাকার কারণে ওপরে ওঠার জন্যে ওদেরকে কমপক্ষে কয়েক ঘন্টা ডিকমপ্রেস করতে হবে। দ্রুত একবার চোখ বুলিয়ে বুঝলো যে পর্যাপ্ত ট্যাঙ্ক নেই। পর্যাপ্ত কি নেই-ই বলা চলে। তার মানে অন্য কোনো উপায় বের করতে না পারলে এরা সবাই মারা পড়বে।
কার্ট সবার সামনের ডুবুরির কাঁধে হাত রেখে মাথা নাড়লো, “আপনারা ওপরে যেতে পারবেন না।”
ডুবুরিটাও মাথা নেড়ে আবার ওপরের দিকে দেখালো।
“আপনারা তাহলে মারা পড়বেন।”
লোকটা লেখাগুলো পড়ে আবার ওপর দিকে ইঙ্গিত করল। তারপরই হাত দিয়ে অদ্ভুত একটা ভঙ্গি করল।
“আপনারা কী বলতে চাইছেন তা বুঝতে পারছি না।” কার্ট লিখলো।
ডুবুরিটাকে হতবুদ্ধি দেখালো। কার্ট ওকে শান্ত করার চেষ্টা করল। তারপর ডুবুরিটার বোর্ড দেখিয়ে বলল, “আস্তে আস্তে লেখেন।” লোকটা বোর্ডটা নিয়ে আগের সব লেখা মুছে ফেললো। তারপর এবার আরো ভালো করে লেখার চেষ্টা করতে লাগল। ঠিক যেন একটা বাচ্চা ছেলে ধৈর্য ধরে তার হাতের লেখা সুন্দর করার চেষ্টা করছে।
শেষ করে বোর্ডটা ঘুরিয়ে ধরলো সে। এবার পড়া যাচ্ছে একটা মাত্র শব্দ লেখা তাতে।
বোমা!
.
৩৩.
ডুবুরিটা আতঙ্কের সাথে অর্ধেক উদ্ধার করা ধ্বংসাবশেষটা দেখালো। তারপর আবার কিছু লিখলো বোর্ডে।
“আপনারা যখন আক্রমণ করেন–তখন ওরা বোমা পেতেছে।”
কার্ট হঠাৎ ব্যাপারটা বুঝতে পারলো। লোকগুলো এই ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করতে চেয়েছিল। কিন্তু যদি ওরা নিজেরা না পায় তাহলে ওরা ওটা কাউকেই পেতে দেবে না। “দেখান তো কোথায়?”
লোকটা ইতস্তত করতে লাগল।
দেখান!”
নিতান্ত অনীহায় লোকটা সাতরানো শুরু করল সেদিকে। খুবই ধীরে এগুচ্ছে। কাছে পৌঁছাতেই লোকটা নিজের লাইট ফেলে বোমাটা দেখালো। ওরা ভ্যাকুয়ামটা দিয়ে টনকে টন বালি সরিয়েছে। তারপর জিনিসপত্র যেগুলো পেয়েছে তার মধ্যে যেগুলো মিসরীয় মনে হয়নি সেগুলো সব ফেলে দিয়েছে। তরবারি, শেওলাপড়া কামানের নল, জুতা হাবিজাবি চারপাশে ডাস্টবিনের মতো করে পড়ে আছে।
জাহাজটা দেখতে এখন কঙ্কালের মতো লাগছে। বাইরের কাঠ-তক্তা সবই খুলে ফেলা হয়েছে। শুধু তুলনামূলক সরু কাঠের তৈরি ভেতরের কাঠামোটা রয়ে গিয়েছে। ওটার ওপর ভেসে গেল কার্ট। তারপর ডুবুরির আলো ফেলার জায়গাটা দেখতে লাগল। বোমা একটা না, দুটো। কয়েক তাল C-4-কে দেখা গেল টাইমারের সাথে লাগানো। ঠিক গোডাউনটায় যে রকমটা ব্যবহার করতে চেয়েছিল সেরকম। সমস্যা হলো বোমাটা এমনভাবে জাহাজের খোলে পড়ে আছে ঠিক যেন বাঘের খাঁচার মধ্যে মাংস দেয়া হয়েছে।
