“আমি সরাসরি পানির ওপরে ওদের মুখোমুখি হতে বলছি না।” কার্ট বলল।
“তার মানে আমাদেরকে গভীরে যেতে হবে।” জো বলল।
“সারপ্রাইজটা দেবো হচ্ছে আমরা। আর এক্ষেত্রে কয়েকজন সাহায্যকারীও পাওয়া যাবে।”
“কোত্থেকে?”
“যদি এদের নিজস্ব ডুবুরি থাকতো তাহলে নিশ্চয়ই বন্দুকের ভয় দেখানো লাগতো না। যদি যেসব ডুবুরি পানির নিচে কাজ করছে, তারা ঐ নৌকার বন্দীদের বন্ধু হয়, আর শুধু ওদেরকে বাঁচানোর জন্যেই কাজ করতে থাকে তাহলে আমার বিশ্বাস সুযোগ পেলেই ওরা ওদের বিরুদ্ধে কাজ করবে।”
“তার মানে আমরা গিয়ে তাদের সাথে দোস্তি পাতাবো, তারপর বিদ্রোহ করা শুরু করবো।” জো বলল।
“বিদ্রোহ সব সময় এভাবেই হয়।” কার্ট বলল।
বিশ মিনিট পর কার্ট আর জোকে দেখা গেল ডাইভ স্যুট পরে সমুদ্রে নামার জন্যে প্রস্তুত। সাথে নিচ্ছে একটা Rov (Romotely operated underwater Vehicle) নাম টার্টল। ওরা এখন ধ্বংসাবশেষ থেকে তিন মাইল দূরে আছে। এতদূর থেকে ওদের সন্দেহ হওয়ার কথা না। তারপরও সতকর্তাস্বরূপ ক্যাপ্টেন রেনল্ডস সী ড্রাগনকে আরো পিছিয়ে নিয়ে আসলেন। লোকগুলো যদি বাইনোকুলার বা রাডার দিয়ে ওদের দিকে লক্ষ রাখে তাহলে দেখবে যে ওরা ধীরে সুস্থে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
কার্ট আর জো একটা প্লটফর্মে কসা। সেটা আস্তে আস্তে নিচের দিকে নামছে। পানির ওপর পৌঁছতেই কার্ট, জোর আর টার্টল পানিতে নেমে গেল। ওরা একবার স্যুটের জিনিসপত্র ঠিক আছে কি-না নেড়েচেড়ে দেখে পানির নিচে অদৃশ্য হয়ে গেল। ধীরে ধীরে নিচে নামছে ওরা, Rov’র বিশাল নাকটার দুপাশে দুজন ধরে রেখেছে। পঞ্চাশ ফুটের মতো নামতেই ওরা Rov-টায় চড়ে বসলো। তারপর কার্ট থাম্বস আপ’ দেখাতেই জো ওটা চালু করে দিল।
এমনিতে সাধারণত টার্টল পানির ওপরে জাহাজ থেকেই পরিচালনা করা হয়। তবে যেহেতু এটা পানির নিচে ডুবুরিদের কাজের উপযোগী করে বানানো হয়েছে, তাই এটা ডাইভ স্যুটের সাথে লাগানো একটা ডিভাইস দিয়েও করা যায়। জো এখন সে কাজটাই করছে।
“আরো নিচে নামো। মাটির কাছে চলে যাও।” কার্ট বলল।
“রজার দ্যাট। জো বলল।
মাল্টার পূর্বে সমুদ্র বেশি গভীর না। জায়গাটাকে ডাকা হয় “মাল্টা মালভূমি” নামে। এখান থেকে শুরু করে দক্ষিণ সিসিলি পর্যন্ত বিস্তৃত। সোফি সেলিন প্রায় নব্বই ফুট নিচে ডুবে আছে। মোটামুটি ভালোই গভীর। তবে পেশাদার ডুবুরির জন্য কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। ঝামেলা হলো এতো নিচে সূর্যের আলো পৌঁছায় না।
“তলায় পৌঁছে গিয়েছি।” জো বলল।
জো ওর হেলমেটের ভেতরের ডিসপ্লেতে সমুদ্রের গভীরতা, কোনদিকে যাচ্ছে বা ওদের গতি সবই দেখতে পাচ্ছে।
কিছুক্ষণ পরই সমুদ্র তল চোখে পড়ল। Rov’র সামনের লাইটে আলোকিত হয়ে আছে। জো মাটিতে নামিয়ে ওদের দিক ঠিক করল। তারপর আবার চালানো শুরু করল।
“লাইট বন্ধ করে দিচ্ছি, যাতে কারো চোখে না পড়ে।” জো বলল।
“হুম! তবে কোনো কিছুতে বেধে আবার উল্টে পোড়ো না।” সাবধান করল কার্ট। লাইট বন্ধ হতেই মনে হলো ওরা একটা অন্ধকার গুহার ভেতর দিয়ে চলছে। কিছুক্ষণ পর চোখে অন্ধকার সয়ে আসতে জো বলল, “ভালোই তো দেখতে পাচ্ছি।
“সমুদ্র এখন শান্ত। তাই পানিতে বেশি কাদা বা বালি নেই।” কার্ট বলল।
“খালি চোখে সম্ভবত পঞ্চাশ ফুটের মতো দেখা যাচ্ছে।”
“তার মানে ধ্বংসাবশেষ থেকে কমপক্ষে একশো দশ ফুট আগেই থামবে।”
Rov হিসাবে টার্টল অত্যন্ত দ্রুত গতির। আর স্রোতের অনুকূলে থাকায় গতি এখন প্রায় সাত নট। তারপরও ধ্বংসাবশেষটার কাছে পৌঁছতে বিশ মিনিট মতো লেগে লেগো। দরেই দেখা যাচ্ছে হালকা আলো জ্বলছে।
“কমপক্ষে তিন বা চারটা লাইট ওখানে।” জো বলল।
কার্টও দেখছে। একটু পরই দেখা গেল আরো দুটো লাইট। বালির একটা টিবির পেছন থেকে এগিয়ে আসছে।
আলো লাইটগুলো থেকে বেরিয়ে এমনভাবে ওপরে যাচ্ছে যেন আশ পাশে প্রচুর ধুলো উড়ছে। কার্ট ইতোমধ্যে পানির নিচের ভ্যাকুয়াম ক্লীনারের অদ্ভুত ধপধপ আওয়াজটা টের পাচ্ছে।
“আরেকটু কাছে গিয়ে আমাকে নামিয়ে দাও। সবচে কাছের ডুবুরিটার সাথেই আগে কথা বলি।” কার্ট বলল।
কার্ট হাতে লাগানো একটা প্যানেল খুলতেই ওয়াটার প্রুপ স্ক্রীন দেখা গেল। এখানে ও যা-বলবে তার লিখিত রূপ দেখা যাবে। এটা দিয়ে কথা না বলে সহজেই ডুবুরিটার সাথে যোগাযোগ করা যাবে।
“আর যদি ও শয়তানদের দলের হয়?” জো জিজ্ঞেস করল।
“তার জন্যে এটা।” বলে কার্ট বক্স থেকে একটা পিকাসো টুইন-রেইল স্পিয়ার গান তুলে নিলো। পাশাপাশি দুটো বর্শা বসানো ওটায়। সামনা সামনি দুটো ট্রিগার। এই মুহূর্তে সেফটি অন করা।
“তোমার জন্যেও একটা এনেছি।” কার্ট বলল, “তবে আপাতত দূর থেকেই খেয়াল রাখো। যদি ঝামেলায় পড়ি তাহলে তো জানো-ই যে কি করতে হবে।”
ওরা এই মুহূর্তে ডুবুরিগুলো থেকে একশো ফুট দূরে। এতোদূর থেকে ওকে দেখতে পাওয়ার কথা না। ও তারপরও কোনো ঝুঁকি নিতে চাইলো না।
“এখানেই নামবো আমি।” বলে কার্ট টার্টলের পাশের দরজা খুলে নেমে গেল। তারপর নিজের প্রপালশন ইউনিট চালু করে কোণাকুণি এগুতে লাগলো। শেষবারের মতো ফিরে তাকিয়ে দেখে নির্দেশ মতো জো ওখানেই বসে আছে।
৩১. কার্ট সামনে এগুলো
৩১.
