“ওড়ানো যাবে এখন?”
“প্ৰায়।” রেনাটা বলল। তারপর গ্লাইডারের গিটুগুলো শক্ত হয়েছে কি-না পরীক্ষা করে ওটার নিচে বসানো ক্যামেরাটা অন করে দিল।
“রেডি।”
কার্ট জাহাজের কপিকলের হাতলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। এটা সাধারণত ফ্যাদো মিটার ওঠা-নামা করার জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে এখন ওটার স্টিলের তার সরিয়ে সেখানে সরু প্লাস্টিকের সুতা প্যাঁচানো হয়েছে। আর এক প্রান্ত জোড়া দেয়া হয়েছে গ্লাইডারটার সাথে। জো সেটা হাতে করে জাহাজের সামনের দিকে চলে গিয়েছে।
“রেডি। রেনাটা বলল।
জো গ্লাইডারটার নিচের আড়কাঠ ধরে ওটাকে মাথার ওপর তুলে ধরলো। তারপর একটু জোরে বাতাস আসতেই ওঠা ওর হাত থেকে লাফ দিয়ে আকাশে ভেসে গেল।
গ্লাইডার আকাশে উড়তেই কার্ট হাতল ঘুরিয়ে সুতা ছাড়তে লাগল আর ওটা আরো ওপরে উঠতে লাগল। উড়তে উড়তে ওটা জাহাজের পিছনে চলে যেতেই রেনাটা হাতের রিমোটের সাহায্যে ওটা নাড়াতে লাগল।
গ্লাইডারটা পাঁচশো ফুট ওঠার পরেই ও ওটার আর ওঠা বন্ধ করে দিল। “এখানেই আটকে দিন।” কার্টকে বলল ও।
কার্ট হাতল ঘুরানো বন্ধ করে দিল আর গ্লাইডারটা উচ্চতা স্থির রেখে সী ড্রাগনের পিছনে পিছনে আসতে লাগল। ওপর থেকে কেমন লাগছে দেখতে?”
রেনাটা সুইচ টিপে গ্লাইডারের ক্যামেরা চালু করল। ওর ডান দিকে থাকা একটা মনিটরে ভিডিও দেখা গেল। শুরুতে সবকিছু ঝির ঝির করতে লাগল। রেনাটা ফোকাস ঠিক করে দিতেই সী ড্রাগনকে পরিষ্কার দেখা গেল। নীল রঙা একটা মাঠ চষে এগিয়ে চলেছে।”
“ভালোই দেখা যাচ্ছে। দেখি আমাদের বন্ধুদের দেখা যায় কি-না।” বলল রেনাটা।
ও ক্যামেরাটা উত্তর দিকে ঘোরালো। একজোড়া নৌকা চোখে পড়ল। শুরুতে মনে হচ্ছিলো সমুদ্রের বুকে এক টুকরো খড়ের মতো। ঠিক যেন একটা নীল টেবিল ক্লথের ওপর দুটো ধান পাশাপাশি পড়ে আছে। তবে ও ক্যামেরার ফোকাস ঠিক করতেই নৌকা দুটো ভালো করে দেখা গেল।
“একটা ডুবুরিদের নৌকা আর একটা বজরা নৌকা। রেনাটা বলল।
“আরো জুম করা যাবে?” কার্ট জিজ্ঞেস করল।
“যাবে।”
“বজরাটা আগে জুম করেন, কার্ট বলল।
রেনাটা লেন্সটা লম্বা করে ফোকাস করতেই বজরার বিস্তারিত দেখা গেল। লাল রঙের কাঠামোয় সাদা রঙে লেখা “দ্য শ্যাম্পেন কনসারভেন্সি” একদিকে একটা ছোট ক্রেন বসানো। তাতে একটা বড় Pvc পাইপ ঝোলানো। ওটার ভেতর দিয়ে পানি আর বালি, কাদা এসব বেরুচ্ছে। পাইপের পানি পাশেই একটা ধাতুর তৈরি জালের ওপড় পড়ছে। হাতের মুঠির চেয়ে বড় যে কোনো কিছুই ওটায় আটকা পড়বে। তবে এখনো কিছু আটকায়নি। শুধু নীল সাগরের বুকে দুধ সাদা ফেনা সৃষ্টি করে বেরিয়ে যাচ্ছে পিছনে।
“দেখেতো মনে হচ্ছে ওরা সাগর পরিষ্কার করছে।” জো মন্তব্য করল।
“হুম! পুরো সাগরের তলাটাই দেখি পানির ওপর উঠিয়ে ফেলছে।” কার্ট বলল।
ক্যামেরা আরেকটু নড়তেই দেখা গেল দুজন লোক নানান উদ্ধার করা জিনিস পরীক্ষা করছে। এক নজর দেখেই ওরা ওগুলো আবার পানিতে ফেলে দিল।
“পাথর আর ঝিনুকের খোল, কার্ট অনুমান করল।
“ওরা নিশ্চয়ই আরো বড় কিছু খুঁজছে! জাদুঘরে যেমন দেখেছিলাম ওরকম শিলালিপি বোধ হয়। এসব ছোটখাট গুপ্তধনে ওদের কিছু হবে না।” জো বলল।
“ওরা যদি সত্যি সত্যিই কনসারভেন্সির লোক হতো তাহলে এগুলোকেও ওরা দাম দিতো। তবে আমার ধারণা ওরা সেটা না।” কার্ট বলল।
তারপর রেনাটার দিকে ফিরে বলল, “অন্য নৌকাটার দিকে জুম করুন তো।”
রেনাটা ক্যামেরা ঘুরিয়ে ষাটফুটি ডুবুরি নৌকার দিকে তাক করল। ডুব দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নানান জিনিসে ডেকটা ঠাসা। নৌকাটার সামনের দিকে বেশ কিছু লোককে দেখা গেল। পায়ের ওপর পা তুলে রোদের মধ্যে বসে আছে।
“এরা হয় ইয়োগা করছে নয়তো…”
লোকগুলোর ঠিক পেছনেই আরেকটা লোক দাঁড়ানো। তার হাতে একটা লম্বা নলের রাইফেল।
রেনাটা আরো বেশি জুম করার চেষ্টা করল কিন্তু লোকটার চেহারা স্পষ্ট হলো না। “লোকটার চেহারা ভালো বোঝা যাচ্ছে না।” বললও।
“দরকার নেই। ওরা কারা তা আমরা জানি।” কার্ট বলল রেনাটাকে।
“মাল্টার কোস্ট গার্ডকে খবর দিলে কেমন হয়? ওরা তাহলে কি হয়েছে। দেখতে আসবে, পুরো গ্যাঙটাই ধরা পড়বে তখন।” রেনাটা প্রস্তাব দিল।
“বুদ্ধিটা ভালই। তবে সেটা করতে গেলে ঐ নির্দোষ ডুবুরিগুলো মারা পড়বে। এ লোকগুলোর কোনো বিবেকবোধ নেই। এর মধ্যেই ওরা নিজেদের লোককেও মেরে ফেলতে দ্বিধা করেননি ভুলে গিয়েছেন? ওরা কেনসিংটন, হ্যাগেন আর জাদুঘরের অর্ধেক সিকিউরিটি গার্ডকেই খুন করেছে। এমনকি বোমা মেরে গোডাউনটাও উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। মাল্টার কোস্ট গার্ডকে খবর দেয়া মাত্র ওরা ডুবুরিগুলোকে খুন করে লেজ তুলে পালাবে। আর যদি ধরাও পড়ে বা ওদেরকে ঘিরেও ফেলা হয়। তাহলে হয় কোস্ট গার্ডকে মেরে পালাবে, না হয় নিজেরাই মরবে। তাও ধরা দেবে না। তাহলে সেক্ষেত্রে লাভের গুড় পিপড়াই খাবে। খালি লাশের সংখ্যা আরো কিছু বাড়বে।”
রেনাটা বুঝলো ব্যাপারটা। মুখ কালো করে শব্দ করে একটা শ্বাস ফেলে বলল, “আমার কথাই ঠিক। কিন্তু আমরা একারা তো ওদের সাথে পারবো না।”
“হ্যাঁ, তবে সারপ্রাইজ কিন্তু দিতে পারবো।”
“হায় হায় আগে বলব না? আমি তো আমার অদৃশ্য হওয়ার জামাটা ওয়াশিংটন রেখে এসেছি।” জো বলল।
