“সোফি সি, মানে হলো সোফি সিলিন।”
“কাছাকাছি হয়েছিল আমারটা।” জো বলল।
কার্ট কিছু বলল না জবাবে। রেনাটাকে বলল, “কে এই মহিলা?”
“সোফি সিলিন ছিল পিয়েরে আনডিন-এর দূর সম্পর্কের মামাতো বোন আর গোপন প্রেমিকা। পিয়েরে আনডিন ছিলেন ফরাসি বিপ্লবের পর গঠিত ফ্রেঞ্চ লেজিশ্লেটিভ এসেম্বলীর সম্মানিত সদস্য। নিজেরা অন্যদের সাথে বিবাহিত হওয়ায় তাদের পক্ষে হয়তো এক হওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু ভালোবাসাও তাতে আটকে থাকেনি। আর তারই ফসল হিসেবে একটা সন্তানও জন্ম নেয়।”
“এতো দেখি কেলেঙ্কারির ব্যাপার স্যাপার।” কার্ট বলল।
“হ্যাঁ। কেলেঙ্কারি হোক আর যা-ই হোক সন্তানটার জন্ম ছিল আনডিন-এর জন্য বিশেষ কিছু। তাই ও খুশি হয়ে নিজের প্রভাব খাঁটিয়ে ফ্রেঞ্চ নৌ-বাহিনীর একটা জাহাজের নাম বাচ্চার মায়ের নামে রাখতে বাধ্য করে।
“উপহার হিসেবে?” জো জিজ্ঞেস করল।
“আমিতো জানতাম বেশিরভাগ মেয়েই গয়না পছন্দ করে।” জো বলল।
“একমত,” জানালো রেনাটা।
“তা সোফির কি হলো?” কার্ট আবার ফিরিয়ে আনলো মূল কথায়। রেনাটা পায়ের ওপর পা তুলে বলল, “মহিলা বৃদ্ধ বয়সে ঘুমের মধ্যে মারা যান। তারপর তাকে প্যারিসের বাইরের একটা ব্যক্তিগত কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।”
কার্ট আসল ব্যাপারটা বুঝলো এতোক্ষণে, “তার মানে কেসিংটন আসলে সোফি সি. দিয়ে ঐ জাহাজটাকে বোঝাতে চেয়েছেন।”
রেনাটা মাথা ঝাঁকালো। তারপর জাহাজটার ইতিহাস লেখা একতাড়া কাগজ কার্টকে ধরিয়ে দিল। “সোফি সি, ছিলো নেপোলিয়নের ভূমধ্যসাগরীয় নৌ-বহরের অন্তর্গত একটি জাহাজ। ফরাসি শাসনামলে জাহাজটা মাল্টাতেও একবার এসেছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে মাল্টা বন্দর ছাড়ার কিছুদিন পরই জাহাজটা ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। তখন ওতে ছিল মিসর থেকে উদ্ধার করা নানা পুরাকীর্তি আর গুপ্তধন। দ্য চ্যাম্পিয়ন কমিশন এর তত্ত্বাবধানে জাহাজটা খুঁজে বের করে উদ্ধার করা হয়। এই কমিশনটা মাল্টার এক ধনাঢ্য পরিবারের অনুদানে পরিচালিত হতো। বহু বছর উদ্ধারকৃত পুরাকীর্তিগুলো নিজেদের ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখার পর সম্প্রতি তারা এর মধ্যে কয়েকটা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিক্রয়ের নির্দিষ্ট অর্থ জাদুঘরও পাবে।”
“এই জিনিসগুলোই আমাদের মারমুখী বন্দুরা কোনো টাকা পয়সা না। দিয়েই নিয়ে চলে গিয়েছে। জো বলল।
“কেনসিংটন বলেছিলেন দুই লাখ ইউরো দিলেও ওরা নাকি টেবিলে বসার। মোগ্য-ই হবে না। আর ওরা এখন পুরো টেবিলটাই নিয়ে গেল।”
জো এবার আসল প্রশ্নটা করল, “কেনসিংটন যেখানে আমাদেরকে নিলামে কোন কোন জিনিস উঠবে সেটাই বলছিলেন না, তো কোন দুঃখে এই সোফি সিলিন এর কথা বলতে গেলেন?”
“যে কারণে আমরা উদয় হয়ে ওনাকে প্রশ্ন করা শুরু করার আগ পর্যন্ত লোকগুলো ওনাকে মেরে ফেলেনি। সম্ভবত ঐ ধ্বংসাবশেষে আরও কিছু আছে যেটা ওরা চায়। সম্ভবত ওটার খবর এখনো ফাস হয়নি।”
“আমি যে মিসরীয় শিলালিপিটা দেখেছিলাম ওটা ভাঙ্গা ছিল।” পুরোটা ছিল না। খণ্ড খণ্ড। ওরা সম্ভবত বাকিগুলো খুঁজছে।” জো বলল।
কার্ট রেনাটার দিকে ফিরে বলল, “জাহাজটা ডুবেছিল কোথায়?”
রেনাটা হাতের বাকি কাগজটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “এই হলো জাহাজটার অবস্থান। ভ্যালেট্টা থেকে তিরিশ মাইল পূর্বে।”
“আমি যদ্দুর জানি, ওটা ফ্রান্স যাওয়ার রাস্তা না।” কার্ট বলল।
“ওটার ক্যাপ্টেন ব্রিটিশ জাহাজের সামনে না পড়ার জন্যে এমনটা করেছিলেন। তাই প্রথমে পূর্ব দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তারপর উত্তরে। হয়তো ইচ্ছা ছিল সিসিলির উপকূল ঘেষে যাবেন বা সরাসরি সিসিলি আর ইতালির মাঝখান দিয়ে চলে যাবেন। শেষমেশ কোনোটা করার আগেই জাহাজ ঝড়ের কবলে পড়ে। ধারণা করা হয় উনি বন্দরে ফিরে আসতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই জাহাজ ডুবে যায়।”
ঘটনা শুরুর পর এই প্রথম কার্টের মনে হলো যে ওরা চালে এগিয়ে গিয়েছে।
“তারমানে এরপর কি করতে হবে তা আমাদের জানা। আর ওরা কি করবে সেটাও এখন জানি। যখনই ওরা টের পাবে যে এসব শিলালিপি আর ছবি আসলে ভাঙ্গা টুকরো আর খণ্ড অংশ, সাথে সাথেই ওরা ধ্বংসস্তূপ থেকে বাকি টুকরোগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করবে।”
“আমি হলেও সেটাই করতাম। তবে আমি এখনো ভেবে পাচ্ছি না এটার সাথে ল্যাম্পেডুসার দুর্ঘটনার কী সম্পর্ক? আর ঐ লোকগুলোই বা কি চায়? তবে যদি ব্যাপারটা আসলেই এতো গুরুত্বপূর্ণ না হয় তাহলে ওরা এটার পিছনে লাগবে না। তারপরও আমার মনে হয়, ওদের আগেই আমাদের জাহাজের ধ্বংসাবশেষটার খোঁজ করা উচিত।”
.
৩০.
কার্ট, জো, ডা. আমব্রোসিনি আর প্রয়োজনীয় লোকবলসহ সী ড্রাগন ভ্যালেট্টা বন্দর ত্যাগ করল। সাবধানতাস্বরূপ কার্ট বাকি সবাইকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে।
“সোজা এই বরাবর চালাও।” ক্যাপ্টেন রেনল্ডসকে বলল কার্ট।
“আই। তবে উত্তর দিকে না ঘুরলে যে আমরা ধ্বংসাবশেষের দেখা পাবো না সে কথা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছো?” রেনল্ডস বলল।
“আর কারো মুখোমুখি যাতে না হতে হয় সেজন্যেই দূরে থাকতে চাইছি।” কার্ট মাথা ঝাঁকিয়ে নিজের মনিটরের দিকে তাকিলে বলল, “আপনিই
রেনল্ডসকে সব বুঝিয়ে দিয়ে কার্ট জাহাজের পিছন দিকে চলে এলো। জো আর রেনাটা মিলে গ্লাইডার (ইঞ্জিন বিহীন বিমান) জোড়া লাগাচ্ছে।
