এক সেকেন্ড পরই আততায়ীর দল উল্টো ঘুরে দৌড় দিল। জো সেন্সর থেকে টীজার সরাতেই কার্বন-ডাই-অক্সাইড সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেল। তবে আশেপাশে খবর হয়ে গিয়েছে। লোকজন আসবেই দেখতে।
“এখান থেকে চল্লিশ ফুটের মতো দূরে। বামদিকের প্রথম শেলকেই পাবেন। আপনার জায়গায় আমি থাকলে যতো দ্রুত সম্ভব কাজটা সেরে পালাতাম।” কার্ট বলল।
ক্যাব্রিলো হাত বাড়িয়ে বলল, “আবার দেখা হবে।”
কার্ট হাতটায় ঝাঁকি দিয়ে বলল, “আশা করি তখন গুলির বদলে ভালো কিছু খাবো।”
লোকটা আর মহিলাটা সামনের দিকে ছুটলো। জোও নেমে এসেছে শেলফ থেকে।
“আমি যার কথা ভাবছি উনি কী সে-ই নাকি?” নামতেই বলল জো। কার্ট মাথা আঁকালো। “এতো ভালো দুজন মানুষের সাথে এই রকম মরার গোডাউনে দেখা হলো। যাই হোক, এখান থেকে ভাগা যাক চলো।”
ওরা বেরিয়ে মাল খালাস করার জায়গাটায় পৌঁছেই দেখে কয়েকটা অগ্নি নির্বাপনকারী ট্রাক আর পুলিশের গাড়ি পিছন দিয়ে ঢুকছে। অনুষ্ঠানের আসল সিকিউরিটি দলকেও দেখা গেল এদিকেই আসছে।
“পাশের দরজা।” জো বুদ্ধি দিল।
ওরা আবার গোডাউনে ঢুকে পড়ল তারপর সেটা পার হয়ে শেষ মাথার আরেকটা দরজার দিকে দৌড়ে গেল। জো দরজাটা খুলে বাইরেটা দেখে বলল, “কেউ নেই।”
ওরা দরজা গলে গলিটায় নেমে পাঁচ কদম না যেতেই ঠিক ওদের মাথার ওপর একটা স্পট লাইট জ্বলে উঠল। আর ছাদ থেকে লাল আর নীল রঙের আলো বের করা একটা গাড়ি ছুটে এলো ওদের দিকে। জায়গায় জমে গেল ওরা, হাত তুলে ফেলেছে আগেই।
“কে জানে আগের দিন যারা আমাদের গ্রেফতার করেছিল সেই পুলিশগুলোই কি-না। শালারা ভালোই খাতির করেছিল আগের দিন।” জো বলল।
“সেরকম হলে তো ভালোই হয়।” কার্ট জবাব দিল।
ওদের সামনে এসে গাড়িটা থামতেই দুজন অফিসার নেমে এলো। হাতে উদ্যত পিস্তল। কার্ট আর জো কোনো বাধা দিল না। বিদ্যুৎ গতিতে ওদের হাতে হাতকড়া পরিয়ে গাড়িতে তুলে ওখান থেকে বের করে নিয়ে আসা হলো। কার্ট অবাক হয়ে খেয়াল করল ওদেরকে শহরের দিকে না নিয়ে শহর থেকে দূরে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারপর সেই আগের থানাতেই ফিরে এলো।
“আমাদের একটা ফোন করতে হবে তাই না?” কার্ট বলল। একটা হাসিমুখ ওদের দিকে ফিরে বলল, “ইতোমধ্যেই আপনাদের পক্ষ থেকে একটা ফোন করা হয়েছে। লোকটার কথার টানে ভূমধ্যসাগরীয় টান নেই, বরং কেমন একটা লুইজিয়ানার মানুষের মতো টেনে টেনে কথা বলছে।” চেয়ারম্যান নিজেই করেছেন ফোনটা।”
অফিসার এক গোছা চাবি ছুঁড়ে দিল কার্টের দিকে। “আমি ম্যাকড।” পরিচয় দিল লোকটা। “এ সকল পরিস্থিতিতে আমাকে বন্ধু ভাবতে পারেন।”
কার্ট দাঁত বের করে হাসলো। তারপর নিজের হাতকড়া খুলে জো’র টাও খুলে দিল। গাড়ির লাইট আর সাইরেন ততোক্ষণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কয়েক মিনিট পরেই ওদের হোটেল থেকে কয়েক ব্লক আগে ওদেরকে নামিয়ে দেয়া হলো।
“উদ্ধার করে আনার জন্য ধন্যবাদ। হুয়ানকে বলবেন একটা খাওয়া পাওনা হয়েছে ওনার।”
ম্যাকড হাসলো, “উনি কখনোই আপনাকে টাকা দিতে দেবেন না। তবে আপনি যে খাওয়াতে চেয়েছেন সেটা আমি জানাবো ওনাকে।”
কার্ট দরজাটা লাগিয়ে দিতেই, ম্যাকড ড্রাইভারকে ইশারা করল আর গাড়িটা চলতে শুরু করল।
“এই মিশনটা কোনোভাবে হুয়ান আর ওদের লোকদের ঘাড়ে চাপানো যায় না?” জো জিজ্ঞেস করল।
“যেত, কিন্তু ওরা নিজেরাই বহুত ঝামেলায় আছে।” কার্ট জবাব দিল। তারপর হোটেলের দিকে হাঁটা শুরু করল। ওদের গা থেকে তখনো পানি ঝরছে। গুলির শব্দে লাগা কান তালা এখনো খোলেনি। তবে রাস্তায় কোনো লোক না থাকায় ওদেরকে কেউ খেয়াল করল না। কিন্তু এতো চেষ্টার পরও–এতো ঝুঁকি নেয়ার পরও যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই পড়ে রইল ওরা।
“সন্ধ্যাটা অদ্ভুতভাবে কাটলো।” কার্ট বলল।
“এটা বছরের সবচেয়ে ভুয়া কথা।” জো জবাব দিল।
হোটেলে ঢুকে ক্লান্ত দেহে পা টেনে টেনে নিজেদের রুমে ঢুকেই দেখে রেনাটা বসে আছে। চোখমুখ ঝলমল করছে খুশিতে।
“আরে আপনাদের এই দশা কীভাবে হলো?”
কার্ট তার জবাব না দিয়ে বলল, “আপনি তত ভালোই মজায় আছেন মনে হচ্ছে।” তারপর দরজা আটকে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়ল।
“শহরের পুলিশের গাড়ি দৌড়াতে দেখলাম। আপনাদের কাজ নিশ্চয়ই?”
“শুধু আমাদের না, আজকের পার্টিটা কেউই ভুলতে পারবে না।”
কার্ট আশা করল রেনাটার হাসির পিছনে ভালো কোনো কারণ আছে।
“সোফি সিলিনকে খুঁজে পেয়েছেন?”
“সত্যি কথা হচ্ছে, হ্যাঁ পেয়েছি। আর সে থাকেও খুবই কাছে।” জবাব দিল রেনাটা।
.
২৯.
খবরটা শুনেই কার্টের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। “দেখা করতে যাবো কখন?”
“আশা করি খুব দ্রুত তার সাথে দেখা করার সৌভাগ্য হবে না। কারণ তিনি আর ইহজগতে নেই।” রেনাটা জবাব দিল।
খারাপ খবর। কার্টের কাছে অন্তত সেটাই মনে হলো। “সেজন্যে তো আপনার মন খারাপ বলে মনে হচ্ছে না।”
“অনেকদিন হয়ে গেল তো, শোক কাটিয়ে উঠেছি। ভদ্র মহিলা মারা গিয়েছেন ১৮২২ সালে।”
কার্ট জো-এর দিকে তাকিয়ে বলল, “মাথামুণ্ডু কিছুই তো বুঝতে পারছি না।”
জো মাথা নাড়লো, “অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড আমার ব্রেনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে নিশ্চয়ই, কারণ আমি উল্টাপাল্টা শুনছি।” জো বলল।
“মজা করছো জানি। কিন্তু ভেবে দেখো ব্যাপারটা। সোফি সি, কে? আর ১৮২২ সালে মারা যাওয়া একজন মহিলার সাথে ড, কেনসিংটন আর ল্যাম্পেডুসার ঘটনার কী এমন সম্পর্ক থাকতে পারে?”
