গোলাগুলির মাঝেই আরেকদল গার্ড ঢুকলো ওখানে। তারপর গলির মাঝখানে কার্টের ঠিক সামনে বসে ক্যাব্রিলোর দিকে মারার জন্যে একটা C-4 রেডি করতে লাগল।
কার্ট আর বসে থাকতে পারলো না। কামানের নলটার গায়ে কাঁধ ঠেকিয়ে কাঁচের দিকে ধাক্কা দিতে লাগল। তারের ওপর ভর করে দুলতে দুলতে সেটা সোজা গিয়ে আঘাত করলো সামনের কাছে। কাঁচের গায়ের ফাটলগুলো আরো একটু লম্বা হলো তবে ভাঙলো না পুরোপুরি। কামানের নলটা পিছন দিকে সরে এসে আবার সামনে ধেয়ে গেল। কার্ট পিছন থেকে আরো জোরে ধাক্কা দিল। এবার ঠিকই পাঁচশো পাউন্ড ওজনের নলটা সোজা কাঁচের দেয়াল ভেদ করে বেরিয়ে গেল। দশ হাজার গ্যালন পানি ট্যাঙ্কটা থেকে বেরিয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ল। সেই সাথে বিস্ফোরক হাতে দাঁড়ানো লোকগুলোকে নিয়ে পাশের শেলফে আছড়ে ফেলল। কার্টও পানিতে ভেসে বাইরে চলে এসেছে। সোজা গিয়ে পড়ল এক গার্ডের ওপরে। ও দ্রুত পিছিয়ে এসে লোকটার চোয়াল বরাবর বিরাশি সিক্কার এক ঘুসি বসিয়ে দিল।
দ্বিতীয় আততায়ীও উঠে বসার চেষ্টা করতেই কিছু একটা এসে ওর মাথাটা থেতলে দিল। ওপরে কোথাও থেকে জালা ছুঁড়েছে জিনিসটা।
কার্ট বিস্ফোরকের টুকরাটা হাতে নিয়ে কারেন্টের তার দুটো আলগা করে দিল তারপর ক্যাব্রিলোর দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল, “হুয়ান এই দিকে আসুন।”
ক্যাব্রিলো গলিটার দিকে চাইলো। ইতস্তত করছে। ধোকা কি-না নিশ্চিত না। “তাড়াতাড়ি, আপনাদেরকে ঘিরে ফেলল।” কার্ট আবারো চেঁচালো। ইতস্ত ত ভাব কেটে গেল। “দৌড় দাও।” সঙ্গিনীকে বলল হুয়ান। মহিলা নির্দ্বিধায় দৌড় দিল। ক্যাব্রিলোও আরো কয়েকটা গুলি করেই পিছু নিলো। তারপর কার্টের পাশে হামাগুড়ি দিয়ে বসে পড়ল।
“কার্ট অস্টিন।” যেন বিশ্বাস হচ্ছে না এমনভাবে মাথা নাড়তে নাড়তে বলল হুয়ান।
“এই চুলোয় মরতে এসেছেন কোন দুঃখে?”
“দেখেতো মনে হচ্ছে আপনার প্রাণ রক্ষা করতেই এসেছি। আপনি?”
লম্বা কাহিনী। মোনাকোর ব্যাপারটার সাথে সম্পর্ক আছে অবশ্য।”
ব্যস্ততার মাঝেও কার্ট মোনাকো গ্রাণ্ড প্রিক্স-এর দুর্ঘটনাটার কথা শুনেছে। গত কয়েক দিন ধরে ল্যাম্পেডুসার ঘটনা আর এই ঘটনাটা চব্বিশ ঘণ্টা টিভির খবরের শিরোনাম হিসেবে প্রতিযোগিতা করছে। কার্ট ঘুসি মেরে অজ্ঞান করা লোকটার পিস্তল তুলে নিয়ে এবার নিজেও মারামারিতে অংশ নিলো।
গার্ড-সাজা লোকগুলো আড়াল নিয়েছে। হঠাৎ দুজনের জায়গায় প্রতিপক্ষ তিনজনে পরিণত হওয়ায় আর পানির তোড়ে নিজেদের লোকজন ভেসে যেতে দেখায় ওরা আগের চেয়ে সতর্ক হয়ে গিয়েছে। ফলে গুলি বর্ষণ আপাতত বন্ধ।
“হচ্ছেটা কী এখানে?” মহিলা মুখ খুললো এতোক্ষণে।
“পুরনো দোস্ত।” ক্যাব্রিলো এক কথায় ব্যাখ্যা করল সব।
কার্ট মহিলার দিকে ফিরে তাকাল। কে হতে পারে ভাবছে। “আপনার নাম কি সোফি?” প্রশ্ন করল কার্ট।
মহিলাও বিরক্ত চোখে ওর দিকে তাকিয়ে বলল, “নাওমি।”
কার্ট কাঁধ ঝাঁকালো। “কাছাকাছি হয়েছিল।”
ক্যাব্রিলো দাঁত বের করে হাসলো তারপর বলল, “আসলে এখানে কী করতে এসেছেন বলুন তো?”।
কার্ট ওদিকের লোকগুলোকে ইঙ্গিতে দেখিয়ে বলল, “ল্যাম্পেডুসার ঘটনার জন্যে ঐ লোকগুলো সম্ভবত দায়ী।”
“NUMA কী ঘটনাটা তদন্ত করছে নাকি?”
“অন্য আরেক সরকারের হয়ে।”
ক্যাব্রিলো মাথা ঝাঁকালো। “তার মানে তো আমাদের কারো হাত-ই খালি নেই। কোনো সাহায্য-টাহায্য লাগবে নাকি?”
আরেক দফা গুলি করা হলো ওদিক থেকে। তিনজনই পারলে মাটির সাথে মিশে যায়। ওই অবস্থা থেকেই পাল্টা গুলি করল ওরা। আততায়ীর দল পিছু হটলো আবার।
“কি আর সাহায্য করবেন। আমি আসলে এখানে একটা মিসরীয় পুরাকীর্তি খুঁজছিলাম।”
“তাহলেই হয়েছে। এখানে কোনো জিনিস খুঁজে পাওয়া সম্ভব না। আমরা বহুক্ষণ ধরে নেপোলিয়নের একটা বই খুঁজলাম। বইটা ওনার কাছে মরার আগ পর্যন্ত ছিল।”
“হোমারের ওডিসি নাকি? ফাঁকা জায়গাগুলোতে হাতে কি সব লেখা?” কার্ট জানতে চাইলো।
“হা, ওটাই। দেখেছেন নাকি আপনি?”
এতক্ষণ ধরে গোলগুলির কোনো ধারাবাহিকতা নেই। হঠাৎ মাঝে মাঝে গুলি ছোঁড়া হচ্ছে। আর যেহেতু দুই দলই আড়ালে আছে তাই মাঝখানের খালি জায়গাটা সবচে মারাত্মক।
“কিন্তু ঐ দিকে যাওয়াটা তো সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না।” হুয়ান জানালো।
“আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে।” কার্ট বলল। তারপর ওপরে তাকিয়ে জোর-এর উদ্দেশ্যে শিস বাজালো।
জো আবার স্মোক ডিটেক্টরের দিকে বেয়ে উঠতে লাগল। কিন্তু একদম সবার ওপরের তাকেও উঠে দেখা গেল সেন্সরের নাগাল পাচ্ছে না। সামনে থেকে একটা বক্স সরিয়ে শরীর টান টান করে দিল সামনে। কিন্তু এর ফলে ওকে ওপাশ থেকে দেখে ফেলল একজন। লোকটা গুলি করল ওর দিকে। সিলিংটা বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গেল।
কার্ট সেদিকে তাকিয়ে পিস্তল তাক করল। কিন্তু ক্যাব্রিলো ওর আগে গুলি করল। এক গুলিতেই লোকটা কুপোকাত।
লোকটা পড়ে যেতেই আবার হাত বাড়িয়ে স্মোক ডিটেক্টরের পাশে ওর টীজারটা চেপে ধরলো। চারহাজার ভোল্টের বিদ্যুতের বিচ্ছুরণে যে স্ফুলিঙ্গ উৎপন্ন হলো, তাতেই সেন্সরের কাছে সেটা আগুন হিসেবে বিবেচিত হলো। সাথে সাথে কান ফাটানো শব্দে অ্যালার্ম বাজা শুরু হলো, আশেপাশের লাইটগুলো ঘনঘন জ্বলতে-নিভতে আরম্ভ করল আর গোডাউন জুড়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস বের হওয়া শুরু হলো।
