“ওরা এখান থেকে কিছু একটা নিতে এসেছে।” কার্ট ফিসফিস করে বলল। তারপর আর কিছু বলার আগেই জোড়াটাকে দেখা গেল। তবে ওরা আগের দলটার সাথে যোগ দেয়ার বদলে খুব সাবধানে পা টিপে টিপে এই সারিটার দিকে এগুলো। তারপর শেফের জিনিসপত্র পরীক্ষা করতে লাগল।
কার্ট ওদের ফিসফিসানি শুনতে পাচ্ছে। অ্যাকুরিয়ামের পিছনের দেয়ালটা সামনের চেয়ে উঁচু। ওটায় বাড়ি খেয়ে শব্দ ওর কানে আসছে।
“মহিলাটা তো সেই!” জো ফিসফিস করে বলল।
মহিলাটা লম্বা, একহারা। পরনে কালো গাউন। তার আবার একপাশ কাটা। তবে পায়ের হিলের বদলে ফ্লাট স্যান্ডেল। সে উবু হয়ে শেলফের জিনিস পরীক্ষা করছে।
“এই তো আরেকটা তবে কি লেখা পড়তে পারছি না। অন্ধকার বেশি।” মহিলা বলল।
টাক্সিডো পরা নোকটা চারপাশে তাকিয়ে বলল, “আপাতত কেউ নেই। ফোনের লাইট জ্বালিয়ে দেখো।”
মহিলা হাত দিয়ে ঢেকে মোবাইলের আলোতে কাগজটা পড়তে লাগল, “এটা না” হতাশ সুরে বলল সে।
লোকটা আবার আশেপাশে তাকিয়ে বলল, “তাড়াতাড়ি করো। আশেপাশে লোকজন অনেক বেশি। পরিস্থিতি বিচারে খুবই ভালো সিদ্ধান্ত।
সাইলেন্সর লাগানো পিস্তলটা শক্ত করে চেপে ধরে ওরা প্রস্থান করল।
“আমার মনে হয় এরা ওদের সাথে না।” কার্ট বলল।
“হায় হায়, চোরের দল তাহলে কয়টা?” জো বলল।
“অনেক। পশ্চিমা বিশ্বে এটাই সম্ভবত সবচেয়ে কম সুরক্ষিত গুদাম ঘর।” কার্ট বলল।
“আমরাই একমাত্র বেকুব যারা অস্ত্র আনিনি। জেনে শুনে বিষ পান করা আর কি।” জো জবাব দিল।
কার্টও একমত, তবে আরেকটা ব্যাপারে ওর মন খুঁত খুঁত করছে।
“টাক্সিডো পরা লোকটার কণ্ঠ খেয়াল করেছ? আমার কাছে কেমন পরিচিত পরিচিত লাগল।
“আমারো। তবে ধরতে পারছি না কার।” জো বলল।
“আমিও না। অন্ধকারে চেহারাটাও ঠিকমতো দেখতে পারিনি। তবে আমি নিশ্চিত যে এই কণ্ঠ আগেও শুনেছি।”
আপাতত আশেপাশে কেউ নেই। “দেব নাকি দৌড়?” জো জিজ্ঞেস করল।
“দরজা পর্যন্তই যেতে পারবে না। আমাদেরকে আগে সবাইকে এখান থেকে ভাগাতে হবে, তারপর কর্তৃপক্ষকে খবর দিতে হয়। আর তা করার একমাত্র উপায় হলো ফায়ার এলার্ম চালু করা। আশেপাশে কোথাও দেখেছো?” কার্ট বলল।
জো সিলিং এর দিকে আঙুল তুলে বলল, “এগুলো দিয়ে হবে না?”
কার্ট ওপরে তাকাল। অনেক পাইপ দেখা গেল সেখানে। কারেন্টের গ্রিডের মতো এক জায়গায় এসে জড়ো হয়েছে। সেগুলোর জায়গায় জায়গায় নজেল দেখা যাচ্ছে। তার পাশেই মোচাকৃতির সেন্সর। সেগুলোতে সবুজ নির্দেশক জ্বলছে। ওগুলো নিশ্চয় তাপ বা আগুন সনাক্তকারী।
“ওখানে উঠতে পারবে?” কার্ট জিজ্ঞেস করল।
“তুমি কি জানো তুমি এই মুহূর্তে সেন্ট ইগনাশিও জ্যাঙ্গল জিম চ্যালেঞ্জের চ্যাম্পিয়নের সাথে কথা বলছো?” জো বলল।
“জিনিসটা কি তা আমার কোনো ধারণাই নেই। তবে উত্তরটা হা ধরে নিচ্ছি।” কার্ট বলল।
“আরে শেলফের তাকগুলোয় পাড়া দিলেই উঠে যাওয়া যাবে।”
সামনের দিকে আরেকবার তাকিয়ে জো ট্যাঙ্ক থেকে বের হয়ে ওটার মইটা শেরে গায়ে ঠেকিয়ে ওঠতে লাগল। প্রথম তাকটায় উঠেই ও ওপরের তাকে হাত দিয়ে শরীরটাকে পরের তাকে টেনে তুললল। সিলিং-এর কাছে যেই পৌঁছেছে তখনই কোথাও কয়েকটা গুলির আওয়াজ পাওয়া গেল। পর মুহূর্তেই আশেপাশে নরক ভেঙে পড়ল।
.
২৮.
কার্ট সাবধানে আশেপাশে উঁকি দিল। গোডাউনের একদম ভেতর থেকে আসছে গুলির শব্দ।
‘ধেৎ!” বিড়বিড় করল কার্ট। তারপর ভালো করে দেখার জন্যে পানি থেকে উঠে এলো।
জো আড়ালে লুকালো আর কার্ট পাশের সারির শেষ মাথার দুই দলের মারামারি দেখার চেষ্টা করল। ফিটফাট পোশাক পরা দুজন আর গার্ডের পোশাক পরা দলটার মধ্যে গুলি বিনিময় হচ্ছে।
ফিটফাট দলটা দুদিক থেকেই গুলি খাচ্ছে। তবে তাতে তারা ঘাবড়ে গেছে বলে মনে হলো না। বরং দারুণভাবে সেগুলোর প্রত্যুত্তর দিয়ে দিয়ে পিছিয়ে আসছে।
হঠাৎই একজন গার্ড উন্মত্ত হয়ে সাবমেশিন গান দিয়ে গুলি করা শুরু করল আর একটা মাটির ফুলদানি ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। মাটি, ধুলো আর ফুলদানির ভাঙ্গা টুকরোয় গলিটা ভরে গেল। এর মধ্যেই এলোমেলো গুলি চলতেই থাকল। গ্লাসের ট্যাংকটাতেও লাগল কয়েকটা গোল গোল দাগ হয়ে গেল ওটার গায়ে, সাথে সূক্ষ্ম ফাটল ছড়িয়ে গেল দশদিকে।
টাক্সিডো পরা লোকটা গুলি এড়াতে একদিকে লাফ দিল। তারপর সটান উঠে দাঁড়িয়ে মহিলাটাকে টান দিয়ে একপাশে সরিয়ে পিছু হটলো। তারপর গলিটার ধার ঘেষে দাঁড়িয়ে গুলি করতে লাগল। লোকটা ফোন কানে লাগিয়ে বলল, “ম্যাকড, চেয়ারম্যান বলছি। ঝামেলা হয়ে গিয়েছে এদিকে। গুলি খেয়ে মরার দশা। এখান থেকে বের হওয়া দরকার এখুনি।”
চেয়ারম্যান…।
মহিলা আরেকদিকে গুলি করে বললো, “হুয়ান, ওরা আমাদেরকে ঘিরে ফেলছে। এখুনি সরে যেতে হবে।”
“হুয়ান? হুয়ান ক্যাব্রিলো?” কার্ট ভাবছে মনে মনে।
হুয়ান ক্যাব্রিলো, কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান। কয়েক বছর আগে NUMA’র • একটা অপারেশনে ডার্ক পিটকে সাহায্য করতে গিয়ে একটা পা হারিয়ে ছিল লোকটা। উনি ওরিগন নামের একটা জাহাজের ক্যাপ্টেন। জাহাজটা বাইরে থেকে দেখতে লক্কর ঝক্কর হলেও আসলে ভেতরে পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি আর অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সজ্জিত।
হুয়ান আর তার সঙ্গিনী এখানে কি করতে এসেছে এ সম্পর্কে কার্টের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। তবে দেখতেই পাচ্ছে বেচারারা মারাত্মক বিপদে পড়তে যাচ্ছে। একে তো এরা মাত্র দুজন, গুলিও ফুরিয়ে আসার কথা এতোক্ষণে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এদেরকে ঘিরে ফেলবে গার্ডের দল।
