কাপড়টা যদি আসল হয় তাহলে এটা রয়্যাল নেভীর কাছে একেবারে ধর্মীয় জিনিসের মতোই মর্যাদা পাবে। তবে মাল্টায় জিনিসটা বিক্রির জন্য ভোলা হচ্ছে দেখে জিনিসটার সম্পর্কে সন্দেহ যাচ্ছে না। তবে জঙ্গলের ভেতরেও গুপ্তধন পাওয়া যায়।
এর পাশেই নেপোলিয়নের কিছু জিনিসপত্র দেখতে পেল ও। সবই নাম্বার বসানো। এর মধ্যে একটা XVI।
প্রথম যে জিনিসটা সেটা হলো একতাড়া চিঠি। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো আদেশ নামাও আছে। পরেরটা হলো আরো বেশি টাকা চেয়ে অনুরোধ পত্র। চিঠিটা প্যারিসে পাঠানো হয়েছিল তবে তার আগেই ব্রিটিশদের হাতে পড়ে এটা। সবশেষে একটা ছোট বই, ওপরে লেখা “নেপেলিয়নের ডায়রি।”
সময় খুবই কম। কিন্তু তারপরও কার্ট একবার ভেতরে তাকানোর লোভ সামলাতে পারলো না। এর আগে কোনোদিন নেপোলিয়নের কোনো ডায়রির কথা শোনেননি। বাক্সটা খুলে আগুনরোধী খামের ভেতর থেকে ডায়রিটা বের করল। কিন্তু ভেতরে কোনো ডায়রি নেই। তার বদলে একটা বই। হোমারের “ওডিসি”। বইটা উল্টে-পাল্টে দেখে ফ্রেঞ্চ ভাষায় বইটার এখানে সেখানে লেখা। এগুলো কী নেপোলিয়নের লেখা নাকি? সম্ভবত সেরকমই কিছু হবে। কিন্তু এটাকে কী নেপোলিয়নের ডায়রি বলে চালানো যাবে কি-না তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে।
পাতাগুলো উল্টাতেই একটা অসংগতি চোখে পড়ল। কয়েকটা পাতা নেই। আর বেশ কিছু শব্দের চারপাশে গোল করে দাগ দেয়া। দেখেই বোয়া যায় যে, পাতাগুলো টেনে ছেঁড়া হয়েছে। ডায়রির সাথের বর্ণনা লেখা কাগজটা থেকে জানা যায় যে, বইটা ফ্রান্সের সম্রাটের সাথে সেন্ট হেলেনায় তার শেষ দিনগুলো পর্যন্ত ছিল।
খুব আগ্রহ থাকার পরও কার্ট বইটা বন্ধ করে ঠিক আগের মতো করে মুড়ে রেখে দিল। জিনিসটা খুবই টানছে ওকে তবে ওকে এখন আগে মিসরীয় জিনিস খুঁজতে হবে। কারণ কেনসিংটনের খুনী সেটাই খুঁজছিল।
এরপরে কার্ট বিশাল বড় দুটো কাঁচে ঘেরা ট্যাংক দেখতে পেল। প্রথম ট্যাংকটায় পোর্সেলিনের তাকে অসংখ্য দামি দামি জিনিস রাখা। জিনিসটা দেখতে বড় একটা ডিশওয়াশের মতো লাগছে। পরেরটায় বিশাল বড় দুটো কামানের নল। ট্যাঙ্কের পাশের কাগজ থেকে জানা যায় যে ট্যাঙ্ক দুটো পাতিত পানি দিয়ে ভরা। তার মানে জিনিসগুলো সদ্য সমুদ্রতল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের পানিতে থেকে যে লবণ এগুলোর গায়ে জমা হয়েছে তাকে অপসারণের জন্য এই ব্যবস্থা।
ও গ্লাসের ভেতর দিয়ে উঁকি দিল। মিসরীয় কিছু নেই ওর ভেতর। এতে পুরো বাজার করতে যাওয়ার মতো। সব সময়ই আমি উল্টো দিকে জিনিস খুঁজে হয়রান হই।” বিড়বিড় করল কার্ট।
তারপর ওই সারি বাদ দিয়ে পাশের সারি দেখতে গেল। কিন্তু সাথে সাথেই হামাওঁড়ি দিয়ে কোণের ছায়ার দিকে ঢুকে গেল। সামনের আবছায়ার মধ্যে নাড়াচাড়া দেখা যাচ্ছে। একজন লোক আর একজন মহিলা। অবাক করা ব্যাপার হলো দুজনেরই পরনে পার্টিতে আসার পোশাক। আর দুজনেরই হাতে পিস্তল।
.
২৭.
কার্ট ইয়ারফোনের সুইচ টিপে জো কে বলল, “এদিকে দুজন লোক দেখা যাচ্ছে।”
“এদিকে আমিও একা না।” জো জবাব দিল।
“ঘরের মাঝের দিকে চলে এসো। আমাদেরকে লুকাতে হবে।” কার্ট বলল। কার্ট ঘুরে আবার সেই পাতিত পানির ট্যাঙ্কের কাছে চলে এলো। জোও সেখানেই এসে হাজির হলো।
“অফিস থেকে একজন লোক এসেছে। সারা গায়ে ছোট বড় অস্ত্র ঝোলানো।” জো বলল। “গার্ডের ড্রেস পরা, কিন্তু অন্য আরেকটা লোকের পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে নিয়ে এসেছে। বিপজ্জনক লোক দেখলেই বোঝা যায়। ধরা খেলে জান নিয়ে ফিরতে হবে না। হয় লুকিয়ে থাকতে হবে না হয় ওদিক দিয়ে কেটে পড়াই উত্তম।” কার্ট যেদিক থেকে এসেছে সেদিকে দেখালো জো।
“ওদিকে যাওয়া যাবে না, এক ব্যাটা আর বেটি পিস্তল হাতে ওদিক দিয়েই আসছে।”
“গার্ড নাকি?”
“গার্ডরা নিশ্চয়ই টাক্সিডো আর গাউন পরে না। এরা নিশ্চিত পার্টি থেকেই আসছে।”
আর কিছু বলার আগেই কঙ্কিটের মেঝেতে চাকা গড়ানোর ঘড় ঘড় আওয়াজ শুনতে পেল ওরা। একজোড়া ফ্লাশ লাইটের আলোও দেখা গেল শেল্ফগুলোতে অলসভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জো-র দেখা দলটা কাছাকাছি চলে এসেছে।
“আবারও গিয়ে বক্সটার ভেতরে ঢুকবো নাকি?” জো জিজ্ঞেস করল। কার্ট চারদিকে তাকাল। দ্বিতীয় গ্রুপটাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। আর এভাবে উল্টোপাল্টা কোনো দিকে গিয়ে কোনো বন্দুকধারীর সামনে পড়তে চায় না। আর একজন দুজন তো না। সব মিলিয়ে অনেকজন এখন।
“না, লুকাতে হবে দ্রুত।” কার্ট বলল।
“কিন্তু এখানে তো খুব বেশি আড়াল নেই।”
জোর কথা ঠিক। শেগুলোতে অনেক জিনিস। ওগুলোর আড়ালে যাওয়ার উপায় নেই। উল্টো দিকে তাকিয়ে কামানের নল ভর্তি অ্যাকুরিয়ামের মতো দেখতে ট্যাঙ্কটা চোখে পড়ল। ওটাই ওদের একমাত্র ভরসা। “ভিজতে হবে চলো।”
জো ঘুরে ট্যাঙ্কটা দেখে মাথা ঝাঁকালো। ট্যাঙ্কের পাশের ছোট্ট মইটা ধরে ওঠে যতটা সম্ভব আস্তে নেমে পড়ল নিচে। বুঁদ বুদ আর ঢেউগুলো মিলিয়ে যেতেই ওরা প্রথম কামানের নলটার পিছনে চলে গেল। তারপর ওটার ওপর দিয়ে এমনভাবে মাথা ভাসিয়ে রাখলো যেন শিকারের আশায় একটা কুমির কোনো গাছের গুঁড়ির পিছনে লুকিয়ে আছে।
প্রথম গ্রুপটা ওদের পাশ দিয়ে চলে গেল। পাঁচজন লোক তিনজনের হাতে বন্দুক; একজন একটা ট্রলি ঠেলছে আর একজন সম্ভবত ওদের কয়েদী। পিঠের ওপর পিস্তল তাক করা। সবার পরনেই এখানকার সিকিউরিটিদের পোশাক। তবে ওরা একবারও ট্যাঙ্কটার দিকে তাকালও না। দ্রুত পরের সারির দিকে গিয়ে উধাও হয়ে গেল।
