কার্ট দাঁত বের করে হাসলো, তারপর তীরন্দাজদের মতো দু আঙুল দিয়ে স্যালুট করে সামনের আলো ছায়ায় ঘেরা অংশটার দিকে এগিয়ে গেল।
.
২৬.
হাসান মাল্টা পৌঁছালো পার্টি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে। এখন থেকে ও-ই সব দেখবে। প্রথমত, ঐ শিলালিপিগুলো উদ্ধার করতে হবে, আর ওগুলোর অস্তিত্বের সব প্রমাণ গায়েব করতে হবে। ভাগ্য ভালো যে ওর লোকেরা এর মধ্যেই যাদুঘরের সিকিউরিটি সার্ভিসে ঢুকে পড়েছে। এতোক্ষণে গুদাম ঘরটার ভেতর শিলালিপিটা খোঁজাও শুরু করার কথা। এখন শুধু সিকিউরিটি সুপারভাইজারকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখতে পারলেই হবে। লোকটা এই মুহূর্তে বলরুমের দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটিদের সাথে রেডিওতে কথা বলছে। আর হাসান তার পিছনেই উদ্যত পিস্তল হাতে দাঁড়িয়ে আছে। ভাগ্যটা একটু বেশিই ভালো বলা যায়। সিকিউরিটি গার্ডদের চারভাগের তিনভাগই এখন বলরুমের আশেপাশে দায়িত্ব পালন করছে। তার মানে গুদামে মাত্র আটজন লোক। এর মধ্যে দুজন আবার ওসাইরিসের হয়ে কাজ করে।
হাসান জানে গুদামের পুরাকীর্তিগুলোর অনেক দাম। তবে ওর কাছে ওগুলো ইয়ট, বা ব্যক্তিগত বিমান চালানো এসব ধনকুবেরদের কাছে কিছুই না।
রেডিওতে একটা কল আসলো, “চার পাশটা খুঁজে দেখা শেষ। চারপাশে হীরা জহরতে ভরা। তবে সবকিছু ঠিক আছে।”
সুপার ভাইজার ইতস্তত করতে লাগল।
“জবাব দিন।” পিস্তলটা আরো একটু ঠেলে আদেশ দিল হাসান।
সুপারভাইজার নিজের মাইক্রোফোন তুললো, “খুব ভালো, তিরিশ মিনিট পর আবার খবর দিও।”
“ঠিক আছে। কয়েকজনকে একটু বাইরে পাঠিয়ে দেবো নাকি? অনেকেই দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বিরক্ত হচ্ছে। গুদামের ওদিক থেকে ওদের বদলে আসতে বললেই হয়।”
হাসান মাথা নাড়লো। অদল-বদল করার মতো কেউই বেঁচে নেই।
“এখনই না। ভালো মতো খেয়াল রেখো সব। সুপারভাইজার বলল।
কিছুক্ষণের জন্যে আর ঝামেলা নেই। “এখন আমাকে একত্রিশ, চৌত্রিশ আর সাতচল্লিশ নম্বর মাল যেখানে আছে সেখানে নিয়ে যান।” হাসান বলল।
সুপার ভাইজার এক সেকেন্ড ভাবলো যে কি করবে। হাসান ওর হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে সজোরে চড় কষালো তার মুখে। সুপারভাইজার চেয়ারসুদ্ধ উল্টে মাটিতে পড়ে গেল।
“দেরি করা আমার একদম পছন্দ না।” হাসান জানালো।
একান্ত আনুগত্যের মতো হাত নেড়ে সুপার ভাইজার বলল, “চলুন নিয়ে যাচ্ছি।”
হাসান স্করপিয়নের দিকে ফিরলো, “বোমাগুলো গুদামে নিয়ে যাও। যদি উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তাহলে ওগুলো ধ্বংস করে দিতে হবে। তবে ওগুলো অক্ষত অবস্থায় মিসরে ফিরিয়ে নেয়াই আমি বেশি পছন্দ করবো।”
তারপর দ্বিতীয় আরেকটা লোকের দিকে ফিরে বলল, “সব কম্পিউটারে Cyan-ভাইরাস ঢুকিয়ে দাও। ঐ শিলালিপিগুলো সম্পর্কে কোনো তথ্যই যেন ওতে না থাকে।”
লোকটা মাথা ঝাঁকাতেই হাসান সন্তুষ্ট হয়ে ঘুরে দাঁড়ালো। সবকিছুই ঠিকঠাক মতো চলছে। কিন্তু কেউই টিভি স্ক্রিনের দিকে খেয়াল করল না। বিভিন্ন সিকিউরিটি ক্যামেরার দৃশ্য ওখানে দেখা যাচ্ছে। খেয়াল করলে ওরা দেখতে পেতো দুটো স্ক্রীনে দেখা যাচ্ছে দুটো কালো অবয়ব গুদাম ঘরে কিছু একটা খুঁজে বেড়াচ্ছে।
স্বরপিয়ন একটা চারচাকার ট্রলি নিয়ে ফিরে এলো।
“চমৎকার, একত্রিশ নাম্বার দিয়েই শুরু করা যাক।” হাসান বলল প্রশংসার সুরে।
.
জো একটা শক্ত প্লাস্টিকের কেস-এর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। একপাশে একটা ছোট কাগজে লেখা XXXI।
“একত্রিশ,” বিড়বিড় করে বলল ও।
জো ওপরের ঢাকনাটা সরিয়ে একটা আগুনরোধী কাগজ তুলে আনলো। এটার ঠিক নিচেই একটা ভাঙ্গা শিলালিপি দেখা গেল। মিসরীয় চিত্র কর্ম তাতে।
ছবিটায় একজন লম্বা সবুজ মানুষ একটা মন্দিরের ভেতর দাঁড়িয়ে নিজের হাত একদিকে বাড়িয়ে রেখেছে। হাতের নিচেই অনেক মানুষ মেঝের ওপর শুয়ে আছে। সবুজ লোকটার হাত থেকে ঘুমন্ত বা মৃত লোকগুলোর পর্যন্ত দাগ টানা। দেখে মনে হয় যেন লোকটা শোয়া মানুষগুলোকে শূন্যে ভাসানোর চেষ্টা করছে। ওপরের কোণার দিকে একটা গোলাকার পিণ্ড আঁকা তবে সেটা আবার কালো রঙ দিয়ে ঢাকা। সম্ভবত সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ বোঝানো হচ্ছে।
জো মিসরে বেশ কিছুদিন ছিল। কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক খোঁড়াখুড়িও করেছে। প্রাচীন মিসরীয় চিহ্ন-টিহ্নও কিছুটা চেনে।
জো কানের ইয়ার পিসে লাগানো একটা তার ধরে মোচড় দিল। এখন ও কার্টের সাথে কথা বলতে পারবো। “মিসরীয় ছবি আঁকা একটা শিলালিপি পেয়েছি। সবুজ একটা মানুষ আঁকা। বিশাল সাইজ। একবার দেখে যাও।”
“তুমি কী নিশ্চিত যে ওটা দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক-এর প্রথম দিককার কোনো ছবি না?” কার্ট বলল শান্ত স্বরে।
“তাহলে তো ভালোই। সেই জিনিস আবিষ্কার করে ফেলেছি।” জো বলল ফিসফিস করে। তারপর ক্যামেরাটা নিয়ে একটা ছবি তুললো আর আবার যেমন ছিল তেমন রেখে দিল।
অন্য পাশে কার্ট অবশ্য এখনও তেমন কিছু খুঁজে পায়নি। তবে সময়ও নষ্ট করেনি একটুও। বেশির ভাগ জাদুঘরের মতোই প্রদর্শন ক্ষমতার অতিরিক্ত পুরার্কীতি দিয়ে এটা ভরা। মাঝ মাঝে হয়তো অদল-বদল করে প্রদর্শন করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগই গুদামে পড়ে থেকে থেকে ধুলো সঞ্চয়
আর যেহেতু এগুলো গুছিয়ে রাখার কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিও নেই, তাই ঠিকভাবে সেটা করাও সম্ভব হয় না। এখন পর্যন্ত কার্ট পেলোপনেশিয়ান বিদ্রোহ থেকে রোমান সাম্রাজ্য পর্যন্ত সব ধরনের পুরাকীর্তিই খুঁজে পেয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের জিনিসপত্রও আছে। পাশেই আছে ফরাসি বিদ্রোহের সময়কার ধ্বংসাবশেষ। ওয়াটারলু যুদ্ধে বিট্রিশদের ব্যবহৃত অস্ত্র এমনকি অ্যাডমিরাল নেলসন ট্রাফালগারে আহত হওয়ার পর যে কাপড়টা দিয়ে বেঁধে রক্তপাত বন্ধ করছিলেন সেটাও আছে।
