“আস্তে। আমার বুকে লাথি লাগছে।” একটা কণ্ঠ শোনা গেল। কার্ট নিশ্বাসের পাইপ থেকে মুখ সরিয়ে বলল, “স্যরি। তবে মোচড়া মুচড়িতে লাভ হয়েছে কিছুটা। তবে তখনও অস্বস্তি কাটেনি। পিঠে তীক্ষ্ণ একটার খোঁচা লাগছে। আর গায়ের ওপরের খড়ের কারণে চুলকাচ্ছে শরীর। শেষমেশ আর থাকতে পারলো না।
হাতটা বাঁকিয়ে চুরিয়ে মুখের সামনে নিয়ে আসলো। ঘড়িতে জ্বলজ্বল করছে কাটা।
“দশটা ত্রিশ। পার্টি এতোক্ষণে শুরু হয়ে গিয়েছে। কেঁচোর মতো গর্ত ছেড়ে বের হওয়ার সময় হয়ে গেছে।” কার্ট বলল।
“কেঁচো আমার একদম পছন্দ না। তবে তোমার লাথির হাত থেকে বাঁচতে, এই মুহূর্তে কেঁচো হতেও আপত্তি নেই।”
কার্ট খড় আর ফোমের জঙ্গল ভেদ করে মাথা উঁচু করল। বাইরে কোনো সাড়া-শব্দ আছে কি-না শোনার চেষ্টা করছে। কিছুই শুনতে না পেয়ে ওর মুখোশের একপাশের একটা সুইচ টিপে দিতেই মাথার ওপর একটা LED লাইট জ্বলে উঠল। তার আলোয় দেখা গেল জো-ও পাশেই মাথা তুলেছে।
“এটা তোমার এযাবত কালের সবচেয়ে জঘন্য বুদ্ধি। পল আর গামায়কে যখন বলবো যে বুদ্ধিটা কাজ করেছে তখন ওরা বিশ্বাসই করবে না”, জো বলল।
“এটাকে বলে, থিং কিং আউট অফ দ্য বক্স”, কার্ট দাবি করল।
“মজা পেলুম!” জো বলল, যদিও কণ্ঠ শুনে মনে হচ্ছে না যে মজা পাচ্ছে।
“কতক্ষণ ধরে এই ডায়লগ ঝাড়ার জন্যে আঁকুপাঁকু করছো?”
“একঘণ্টার মতো। আরে শোনো এবার ভুলটা কোথায় হয়েছে ধরতে পেরেছি। পরের বার আরও বড় একটা বাক্সের ব্যবস্থা করবো।” কার্ট বলল।
“পরেরবার আর বক্সে ঢুকতে হবে না। নিজেই একটা বক্স সেজে নিও।” জো জবাব দিল।
অনেক চেষ্টার পরেও খড় আর কাঠের গুড়া-টুড়া ওদের সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে রাস্তায়ও জ্যাম। আর সবশেষ ডেলিভারির পর রাখার সময় ওদেরকে প্রায় তিনফুট ওপর থেকে আছাড় মেরে ফেলা হয়েছে।
“ভাগ্য ভালো যে ব্যাটারা কামানটা ভালো মতো পরীক্ষা করে দেখেনি। একপাশে মেড ইন চায়না লেখা আছে।”
“তোমার কি একটা সত্যিকার কামানের নিচে সেনোর শখ হয়েছে নাকি?”
“বেশি আরাম তো লাগার কথা না।” জো বলল।
কার্টও একমত হলো, “আমাদেরকে জায়গা মতো ডেলিভারি করলেই হয় এখন।” কার্ট ওর অন্য হাতটাও খড় থেকে ছাড়িয়ে ওর বাহুর সাথে বাঁধা একটা ভেলক্রো প্যাক খুললো। সেখান থেকে একটা সরু কালো তার বের করে প্যাঁচ খুললো। তার এক মাথা লাগানো নিজের চশমার সাথে অন্য মাথা লাগানো একটা খুবই ছোট্ট ক্যামেরার সাথে। চারপাশটা পরীক্ষা করে দেখবে একবার।
“পেরিস্কোপ।” ফিসফিস করে বলল ও।
ক্যামেরাটা চালু করে সেটাকে বাক্সের ওপরের একটা ছিদ্র দিয়ে ঢুকিয়ে দিল। লেন্স ফোকাস করতেই কার্টের মাস্কের ভেতর ছবিগুলো চলে যেতে লাগল। যদিও সব ঝাপসা কারণ, গুদামের এদিকটায় বেশি আলো নেই।
“কোনো জাপানি যুদ্ধ জাহাজ দেখা যাচ্ছে?” জো জিজ্ঞেস করল।
কার্ট ক্যামেরার মুখ ঘুরালো আরেক দিকে। “না মি. জাভালা। সাগর পুরো শান্ত। আপনি চাইলেই পানির ওপর উঠতে পারেন।”
কার্ট ক্যামেরাটা আবার খুলে ওর প্যাকে রেখে দিল। আর জো ঢাকনা খোলার কাজে মনোযোগ দিল। কার্টও মাথার লাইট বন্ধ করে ওর পাশের অংশে ঠেলা শুরু করল। দুজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষে খুলে গেল ঢাকনা।
জো-ই প্রথম বের হলো বাক্স থেকে। কার্টও বের হলো এক সেকেন্ড পর। তারপরই দুজন বাক্সটার পিছনে লুকিয়ে পড়ল। আস্তে আস্তে পুরোপুরি হাত পা-এর অনুভূতি ফিরে আসার পর ওরা উঠে বসলো।
“রাস্তা থেকে দেখে যতটা ভেবেছিলাম, এটা তো তারচেয়েও অনেক বড়।” জো বলল।
কার্ট চারপাশে চোখ বুলালোর ঘরে প্রচুর জিনিস, তবে সবই যে নির্দিষ্টভাবে ভাগ করে রাখা তা বোঝা যায়। পিছন দিকে ওরা যেখানে আছে, সেখানকার সব জিনিসই মাটিতে রাখা। তবে অন্যান্য দিকে বেশ কিছু তাক আর শেল্ফ দেখা গেল।
“এতো কম সময়ে এতকিছু চেক করা সম্ভব না।” জো বলল।
“সব দেখতে হবে না। শুধু নিলামের জন্য যেগুলো আনা সেগুলো দেখতে হবে। তার মধ্যেও যেগুলো মিসরীয় সেগুলো। ওরা যেগুলো নিলামে তুলবে সেগুলো এই হয় মাটিতে নামিয়ে রেখেছে। না হয় একেবারে আলাদা করে কোথাও রেখেছে। তাই আপাতত শেল্ফগুলোর দেখার দরকার নেই। তুমি ডান দিকে দেখো, আমি বামে দেখছি। এদিক থেকে দেখে দেখে সামনে পর্যন্ত যাবো।”
জো মাথা ঝাঁকিয়ে কানের ভেতর একটা ছোট মাইক্রোফোন খুঁজে দিল। কার্টও একই কাজ করল। এরপর দুজনের হাতেই দেখা গেল ইনফ্রারেড ক্যামেরা। অন্ধকারেও ছবি তুলতে পারে এগুলো। পরে ছবিগুলো কাজে লাগতে পারে।
“চোখ খোলা রেখো। আগের দিনের ঘটনার পর সিকিউরিটি কিন্তু খুব কড়া হবে। আর আমি নিজেও গুলি খেতে চাই না, বা ওদের কাউকেও গুলি করতে চাই না। কিছু হলেই এখানে এসে লুকিয়ে থেকো। কার্ট সাবধান করল জো-কে।
“বলতে হবে না সেটা। পিস্তল আর শর্টগানের বিপক্ষে টীজার আর পিপার স্প্রে যে কাজ করবে না তা আমি জানি।”
যেহেতু ওরা জানে যে এখানকার সিকিউরিটিরা নিতান্তই নির্দোষ মানুষ, সেজন্য প্রাণঘাতী কোনো অস্ত্র আনেনি। খুব দরকার পড়লে যাতে কাজে লাগে তাই নিরীহ পদ্ধতিই ব্যবহার করবে।
“সুতরাং পিস্তলধারী কারো হাতে ধরা পড়োনা যেন।” কার্ট বলল।
“দারুণ উপদেশ।”
