“শালার আমরা দুজনই এখানে পচে মরছি আর ডেলিভারি নিচ্ছি। বাকিরা সবাই যাদুঘরের সব সুন্দর জিনিস দেখে ফেলছে।” একজন গার্ড বলল।
রাস্তার ধারেই লিমুজিনসহ নানান দামি দামি গাড়ি কিছুক্ষণ পর পর এসে যাদুঘরের মেইন বিল্ডিং-এর সামনে দাঁড়াচ্ছে। এখানেই হবে আজকের অনুষ্ঠান। অতিথিদের কেউ কেউ নৌকাতে করেও আসছেন। দূরেই ভাসছে তাদের ইয়ট।
গাড়ি থেকে নামছেন গণ্যমান্য সব ব্যক্তি, তাদের স্ত্রী বা বান্ধবী, তার সাথে ঝলমলে পোশাক পরা লাবণ্যময়ী যুবতীদের দল তো আছেই। এ কারণেই গুদাম ঘরের গার্ডটা এতো বিরক্ত।
দ্বিতীয় গার্ডটা কাঁধ ঝাঁকালো, “চিন্তা করোনা। কিছুক্ষণ পরেই দেখবে কারো কানের দুল খুলে পড়ে গিয়েছে আর তুলকালাম কাণ্ড শুরু হয়েছে সেটা খুজতে, আর এদিকে আমরা আরাম করে এখানে বসে থাকবো।”
“হুম! আচ্ছা চলো দেখি ট্রাকে কি এলো।” একটা ক্লিপবোর্ড হাতে নিয়ে বলল গার্ড।
প্রথম জন মাল খালাসের জায়গায় এগুতেই পিছনের জন দরজা বন্ধ করে দিল। চারপাশের দেয়ালের মাথায় কাটা বসানো। হাত দিলে কেটে যায়। ওটাই প্রথম স্তরের নিরাপত্তা। এরপর দ্বিতীয় স্তর হলো দরজায় লাগানো সিকিউরিটি কীপ্যাড।
সেখানে কার্ড ঢুকিয়ে ভেতরে ঢুকতে হয়। তবে তারপরেও চব্বিশ ঘণ্টা এখানে পাহারা থাকে। আর কেনসিংটন খুন হওয়ার পর এখন লোকসংখ্যা তিন গুণ বাড়ানো হয়েছে।
ট্রাকটা হালকা ঝাঁকুনি খেয়ে প্লার্টফর্মে উঠে এলো। ড্রাইভার লাফ দিয়ে নেমে পিছনে এসে দরজা খুলে দিল।
“কি নিয়ে এসেছেন আপনি?” গার্ড জিজ্ঞেস করল।
“শেষ মুহূর্তের জিনিস পত্র।”
গার্ড ট্রাকের ভেতর উঁকি দিল। একটা কাঠের বক্সমতো দেখা যাচ্ছে ভেতরে। আট ফুট মতো লম্বা, চার ফুট চওড়া আর উচ্চতা পাঁচ ফুট হবে হয়তো।
“রিসিট নাম্বার?” গার্ড জিজ্ঞেস করল।
“SN-5417” নিজের ক্লিপবোর্ডের দিকে তাকিয়ে জবাব দিল ড্রাইভার। কিন্তু গার্ড নিজের কাছের কাগজে এই নাম্বারের কোনো অর্ডার দেখতে পেল না। পরের পাতা উল্টে একদম শেষে পেল নাম্বারটা। যাক পেয়েছি। একেবারে শেষ মুহূর্তে যোগ করা হয়েছে দেখছি। কোথায় ছিলেন এতোক্ষণ? এটাতো আরো এক ঘণ্টা আগে পৌঁছে দেয়ার কথা।”
ড্রাইভারকে কিছুটা হতাশ দেখালে, “আমাদের বের হতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল, আর আপনাদের এই পার্টি পুরো শহরে জ্যাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আসতে যে পেরেছি এই বেশি।”
গার্ডও একমত হলো, “দেখি একবার জিনিসাটা?”
বাক্সটার ঢাকনার নিচে একটা স্কু-ড্রাইভার ঢুকিয়ে খুলে ফেলল ওটা। ভেতরে খড়ের গাদার ভেতর শুয়ে আছে একটা মানুষ মারা কামানের নল। এগুলো দিয়ে ছররা গুলি বের হতো। ডেলিভারি শিট অনুযায়ী এটা আঠারো শতকের একটা ব্রিটিশ জাহাজ থেকে পাওয়া। তার পাশেই অনেক তরবারি দেখা গেল। সেগুলো অন্ন প্রতিরোধী কাগজ দিয়ে মোড়া।
সন্তুষ্ট হয়ে ট্রলি হাতে এক কর্মচারীকে বলল, “এগুলো পিছনে নিয়ে গিয়ে একপাশে সরিয়ে রাখো। দেখো রাস্তার মাঝে ফেলে রেখো না। পার্টি শেষ হলে তারপর এগুলোর ব্যবস্থা করবো।”
ট্রলিওয়ালা মাথা ঝাঁকালো। সে অবশ্য এখানে থাকতে পেরে খুবই খুশি। রাতের ডিউটি মানেই ওভার টাইম। আর যদি কাজ মাঝরাত পার হয়ে যায় তাহলেই দ্বিগুণ টাকা পাওয়া যায়। আজতো মাঝরাত পার হবেই। সে বাক্সটা ট্রলিতে তুলে নিয়ে গুদামের দিকে চলে গেল। রাস্তা আটকাবে না এমন একটা জায়গা খুঁজে বের করে তবেই থামল।
বাক্সটা নামিয়ে রাখার সময় সামান্য ঝাঁকি লাগল। এক নজর দেখেই লোকটা বুঝলো যে সবার নিচের কাঠের তক্তাটা ফেটে গেছে নিশ্চিত। লোকটা কাঁধ ঝাঁকালো। প্রায়ই এরকম হয়।
তারপর আবার সে সামনের দিকে ফিরে গেল। আপাতত আর কোনো কাজ নেই। কিছুক্ষণ তাই টিভি দেখার সিদ্ধান্ত নিলো সে।
ট্রলিটা রেখে মাথার শক্ত ক্যাপটা খুলে দরজা খুলে ঢুকতেই চোখে পড়ল মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে লাশ। এ মধ্যে মাত্র যে দুজন গার্ড ডেলিভারি নিয়েছে তাদের লাশও আছে।
রুমের অপর পাশেই পিস্তল হাতে আরো কয়েক সিকিউরিটি গার্ডকে দেখা গেল। লোকটা ঘুরে পালাতে গেল, কিন্তু তার আগেই গুলি খেয়ে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে।
সাইলেন্সার লাগানো পিস্তলের মৃদু শব্দ কেউ টেরও পেল না। লোকটা তখনো মরেনি। আরেকটা গুলি হলো, লোকটা এবার কাত হয়ে উল্টে আরেকটা লাশের ওপর পড়ল।
ট্রলিচালক লোকটা আরেকটু ভালো করে খেয়াল করলেই দেখতে পেতে যে এই গার্ডগুলো আসলে নতুন যাদেরকে ভাড়া করা হয়েছে তারা। আর তাদের পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে ঝলসানো মুখের একজন মানুষ। কিন্তু এসব তথ্য তার মস্তিস্কে পৌঁছানোর আগেই লোকটা মারা গিয়েছে।
.
২৫.
আবদ্ধ একটা জায়গায় আটকে আছে কার্ট। দমবন্ধ লাগছে ওর। ডাইভিং মাস্কের ভেতর দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করল বাইরে। নিচ্ছিদ্র অন্ধকার বাদে কিছুই নেই। কয়েকবার ধীরে ধীরে শ্বাস নিলো ও তারপর কততক্ষণ পর হয়েছে অনুমান করার চেষ্টা করল। কিন্তু ঠাহর করতে পারলো না। এরকম একটা অন্ধকার আর নিশূপ জায়গায় শুয়ে থাকা আর সেনসরি ডিপ্রাইভেশন ট্যাঙ্কের ভেতর শুয়ে থাকা একই কথা।
ও পা সোজা করার চেষ্টা করল কিন্তু পা নাড়াতে পারলো না। বহু কষ্টে পা-টা মোচড়া মুচড়ি করতে লাগল। যেন ছোট্ট কোনো প্রাণী মাটি খুঁড়ে বের হতে চাচ্ছে। তারপর পাপোষে পা মোছর মতো করে প্যাকিং-এর জিনিসপত্রের গায়ে পা ঘষতে লাগল।
