রাইফেল গুছিয়ে নিয়ে সাবধানে ও মুখের চারপাশে একটা স্কার্ফ জড়িয়ে নিলো কাঁধের ওপর জড়ানো অ্যান্টিবায়োটিক মিশ্রিত গজটাও তাতে ঢাকা পড়ে যায়। তারপর লম্বা পদক্ষেপে রাতের সাথে মিশে গেল।
.
২০.
“আপনাকে আমি আসার আগ পর্যন্ত কিছু করতে নিষেধ করেছিলাম।” কথাগুলো রেনাটা আমব্রোসিনির।
মাল্টার সবচে দামি হোটেলের সবার ওপরের তলার বিলাসবহুল একটা স্যুইটে বসে আছে ওরা। ওরা মানে আমব্রোসিনি, কার্ট আর জো। কার্ট ওর কপালের ফোলা জায়গাটায় একটা স্কচের বোতল চেপে ধরে রেখেছে। জো হাত-পা ছড়িয়ে আড়মোড়া ভাঙ্গার চেষ্টা করছে।
ওরা যে জেলে যায়নি সেটাকে ভাগ্যই বলা চলে। গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র আর ইতালিয়ান সরকারের ফোন, তার ওপর আবার ওদের বীরত্বের একটা ভিডিও প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ওদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। মাত্র আধা-ঘন্টা আগেই যেখানে ওদের মাথার ওপর পঞ্চাশ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের খড়গ ঝুলছিল, এখন সেখানে ওদেরকে অর্ডার অফসেইন্ট জন-এর নাইটহুডের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।
“বিশ্বাস করুন, সে চেষ্টাই করেছিলাম। কিন্তু চোখের সামনে যখন ওরা দেয়াল ভেঙে দিয়ে পালানো শুরু করল তখন কীভাবে চুপচাপ বসে থাকি?” কার্ট জবাব দিল। *
রেনাটা গ্লাসে নিজের জন্য পানীয় ঢেলে নিয়ে কার্টের পাশে বসলো। “তাও ভালো যে আপনাদের অন্তত কিছু হয়নি। কেনসিংটন আর হ্যাগেন দুজনেই মারা গিয়েছে।”
জো’র চেহারা কালো হয়ে গেল, “আমার ওকে আসলে শুইয়ে রাখাই উচিত ছিল। ওর চেতনা খানিকটা ফেরায় উঠিয়ে দেয়ালের পাশে বসিয়ে দিয়েছিলাম।”
“নিজেকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। তুমি তো আর জানতে না যে ওরা একজন স্নাইপার বসিয়ে রেখেছে ওখানে।” কার্ট বলল।
জো মাথা ঝাঁকালো। “সিরিঞ্জে কি ছিল তা কি জানা গিয়েছে?”
“কেটামাইট। দ্রুত কার্যকরী চেতনানাশক। ল্যাম্পেডুসার ওটা না।”
“এটাই আবার প্রতিষেধকটা না তো?” কার্ট আশা ভরা চোখে জিজ্ঞেস করল।
“ডা, রবিশ্বকে পরীক্ষা করতে দিয়েছিলাম। কিন্তু নাহ! কোনো কাজ হয়নি। আমরা এখনো শূন্যেই পড়ে আছি।”
কার্ট এক চুমুক স্কচ গলায় ঢাললো, তারপর কেনসিংটনের দেয়া দোমড়ানো কাগজটা আবার দেখতে লাগলো।
“এখানে এসে কি নাম আর ফোন নাম্বার জোগার করা শুরু করেছেন নাকি?” রেনাটা জিজ্ঞেস করল।
‘দেয়ালটা ভেঙে পড়ার আগ মূহর্তে কেনসিংটন এটা লিখছিলেন।” কার্ট বলে কাগজটা রেনাটার হাতে ধরিয়ে দিল।
“সোফি স… কখনো শুনেছি বলে মনে পড়ছে না।”
“আমরাও না। কিন্তু উনি আমাদেরকে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছিলেন।” কার্ট বলল।
“হয়তো কেনসিংটন চায় আমরা এই লোকটাকে খুঁজে বের করি। “হয়তো এই মহিলা আমাদেরকে সাহায্য করতে পারবে। হয়তো সোফিস-ই হলো সেই রহস্যময় পৃষ্ঠপোষক যিনি তার সব সংগ্রহ নিলামের জন্যে দান করে দিচ্ছেন।” জো বলল।
“লেখাটা শেষ করতে পারলেই সব বোঝা যেতো।” কার্ট বলল।
“লেখালেখির ঝামেলাই বা করতে গিয়েছিলেন কেন? মুখে বললেই তো হতো।” রেনাটা জিজ্ঞেস করল।
কার্টও সে কথাটাই ভাবছিল। “উনি যেভাবে কথা বলছিলেন আর রুমের চারপাশে ঘুরে ঘুরে তাকাচ্ছিলেন তার মনে হয় রুমে লুকানো মাইক্রোফোন ছিল। না হয় অন্তত কেনসিংটনের ধারণা ছিল যে মাইক্রোফোন আছে।”
রেনাটা গ্লাস থেকে চুমুক দিল। “তাই উনি লিখে আপনাকে তথ্য দেয়ার চেষ্টা করছিলেন, আর মুখে বলছিলেন যে কিছুই জানেন না?”
কার্ট মাথা ঝাঁকালো। “ওনার ধারণা ছিল ওরা ওনার কথা শুনলেও দেখতে পাবে না। উনি একদিকে চাইছিলেন আমাদেরকে সাহায্য করতে আবার অন্যদিকে ধরা পড়ার ভয়ও ছিল।”
“তাহলে খামাখা উনাকে মারলো কেন? উনি তো ওদের কথা মতোই চলছিলেন।” রেনাটা জিজ্ঞেস করল।
“হ্যাগেনকে যে কারণে মেরেছে, সেই একই কারণে। প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করতে।”
ওরা বুঝতে পেরেছিল যে কেনসিংটন একসময় না একসময় সব ফাঁস করেবন-ই। এর মধ্যে আবার আমরা এসে পড়ায় তাড়াতাড়িই কাজটা সারতে হয় ওদের।” কার্ট ব্যাখ্যা করল।
“ওরা তো চাইলে আপনাদেরকেও মারতে পারতো।” রেনাটা বলল।
“সম্ভবত।” কার্ট বলল।
কি করতে পারতো সেটা আর এখন বড় কথা না, কি করেছে সেটাই আসল ব্যাপার। আর এখন পর্যন্ত ওদের প্রতিপক্ষই ওদের চেয়ে এগিয়ে আছে। যেটুকু সূত্র হাতে পেয়েছিল তার দুটোই আবার হাত ছাড়া হয়ে গিয়েছে। অন্তত খেলা তো জমেছিল।
“এখন এই সোফিকে খুঁজে বের করতে হবে।” রেনাটার দিকে ফিরে বলল কার্ট।” “এসব নাম-ধামের ব্যাপারে আমাদের চেয়ে আপনার নাড়াচাড়া বেশি। আপনার ইন্টারপোলের বন্ধুরা কি কোনো সাহায্য করতে পারবে? হয়তো মেয়েটা কেনসিংটনের বন্ধু বা জাদুঘরের পরিষদের সদস্য বা পৃষ্ঠপোষক।”
“হয়তো ঐ পার্টিতে দাওয়াত পাওয়া একজন।” জো বলল।
রেনাটা মাথা আঁকালো, “আমি ইন্টারপোল আর AISE (ইতালির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা)-কে অনুরোধ করবো নামটা একটু চেক করতে। ছোট একটা দ্বীপ এটা। এখান থেকে একজনকে খুঁজে বের করা কঠিন কিছু হবে না। তাও যদি না পাওয়া যায় তাহলে আরো বিস্তারিত খুঁজবো। হতে পারে এটা একটা কোর্ড নেম বা কোনো অ্যাকাউন্টের পরিচিতি বা কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম যে কোনো কিছু হতে পারে।
“মহিলা ঐ স্নাইপারটাও হতে পারে। কার্ট বলল।
