“ধুর। শেষমেশ এই পাহাড়ি ছাগলটাই কপালে জুটলো।”
এখান থেকে লাফ দিলে একটা ঢালু জায়গায় নামতে হবে। কার্ট একপা পিছিয়ে এসে লাফ দিল। নিরাপদেই অবতরণ করে, আবার শুরু করল ধাওয়া।
লোকটাও দৌড়াচ্ছে। সামনেই আরেকটা দেয়াল। এটা একদম দুর্গের সবচেয়ে সামনের দেয়াল। এরপরই বন্দর। এখন পর্যন্ত ওরা বিয়ের কেকটার একদম চূড়া থেকে দুটো ধাপ নেমে এসেছে। এটাই শেষ ধাপ। তার মানে এই দেয়ালটার ওপাশে মাটি কমপক্ষে সতুর-আশি ফুট নিচে হবে। আর সেখানে শুধু হা করা পাথর।
লোকটাও সম্ভবত ব্যাপারটা ধরতে পারলো। তাই দেয়াল বেয়ে উঠে যাওয়ার আগ মুহূর্তে থমকে দাঁড়ালো। একমুহূর্ত কার্টকে দেখলো, তারপর কি ভেবে আবার দেয়াল বেয়ে উঠে দিল নিচে ঝাঁপ। কার্ট জীবনে প্রথম কাউকে এভাবে আত্মহত্যা করতে দেখলো।
কার্টও দ্রুত পৌঁছে গেল দেয়ালে। আশা করেছিল নিচে তাকিয়ে দেখবে যে পাথরের ওপর একটা ফেলানো লাশ পড়ে আছে। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলো দেয়ালের ওপাশে পাথরের মধ্যে চৌকো একটা নালার মতো আছে। আর লোকটা শুধু যে বেঁচে আছে তাই না। এই মুহূর্তে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নের মতো দূরের একটা ট্রলারের দিকে সাঁতরে যাচ্ছে।
চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া ওর আর কিছুই করার ছিল না। লোকটা ট্রলারের কাছে পৌঁছামাত্র কয়েকজন তাকে টেনে তুললো আর সাথে সাথে ট্রলারটা রাতের আঁধারে হারিয়ে গেল।
“কি হয়েছে?” এক স্তর ওপর থেকে একটা কণ্ঠ ডাকলো ওকে। কার্ট দেখলো জো ডা. হ্যাঁগেনের ঘাড় ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
“লোকটা পালিয়ে গিয়েছে। কিছুই করার ছিল না।” কার্ট বলল।
“অন্তত এই ব্যাটাকে তো আটকানো গিয়েছে।” জো জবাব দিল। জোর কথা শেষ না হতেই তীক্ষ্ণ একটা শব্দ হলো কোথাও আর ডা. হ্যাগেন হাঁটু ভেঙে কাত হয়ে পড়ে গেল। কার্ট আর জো দুজনই লাফ দিয়ে আড়ালে সরে গেল কিন্তু আর কোনো গুলির শব্দ পাওয়া গেল না।-কার্ট আড়ালে থেকেই উঁকি মেরে বাইরে দেখার চেষ্টা করল। ও আর জো আড়াল থেকে বের না হয়েই চিৎকার করে কথা বলতে লাগল।
“জো, ঠিক আছো তুমি?”
“হ্যাঁ, কিন্তু ডা. হ্যাগেন মারা গিয়েছে।” জো’র কণ্ঠ মনমরা।
“কার্টও সেরকম-ই ভেবেছিল, “ধ্যাৎ, এতো কষ্ট বৃথা গেল।”
“গুলি কোত্থেকে করেছে দেখেছো নাকি?”
জো যেহেতু ওপরের তলায় ছিল, আর শব্দের প্রতিধ্বনিটার ধরন শুনে মনে হয় গুলিটা করা হয়েছে পানির দিক থেকে। সে হিসেবেই বলল, “বন্দরের ওপাশ থেকে সম্ভবত।”
তারপর ঝুঁকি নিয়েই মাথা উঁচিয়ে চট করে সেদিকে একবার নজর বুলালো। ট্রলারটা নেই। আর ওটার ওপর দাঁড়িয়ে এত দূর গুলি করাও যেতো না। ওপাড়ে কিছু দালানকোঠা আছে। অন্য দুৰ্গটার কামানগুলোও এ মুখো করা।
“ওপাড় তো কমপক্ষে এক হাজার ফিট।” জো বলল।
“একে অন্ধকার, তার সাথে বাতাসও কম। দারুণ নিশানা।” কার্ট বলল।
“তাও একেবারে প্রথমবারেই।” জো যোগ করল।
ব্যাপারটা এমন না যে ওরা ভয় পাচ্ছে, ওরা আসলে ওদের শত্রুর প্রকৃতিটা বের করতে চাচ্ছে।
“আর আমাদের বদলে ওদের নিজেদের লোককেই গুলিটা করেছে।” কার্ট বলল এবার।
“তুমিও কি আমার মতোই ভাবছো নাকি? এরা কী পেশাদার খুনি?” জো জিজ্ঞেস করল।
“হ্যাঁ, ভাড়াটে খুনি। হ্যাগেন ছিল আস্ত একটা গাধা।
পুলিশ ইতোমধ্যে দুর্গের দিকে রওনা দিয়েছে। বন্দর থেকেও লাল নীল বাতি জ্বালিয়ে একটা পুলিশের স্পিডবোট এদিকেই আসছে।
“খেলা তো শেষ এখন এসে কী হবে। এক বদমায়েশ ভেগেছে, আরেকটা মরে পড়ে আছে।” কার্ট ভালো মনে মনে। স্নাইপার এখনো জায়গা থেকে সরেছে কি-না জানে না, তাই শুয়ে শুয়েই কার্ট কেনসিংটনের হাতের কাগজটা বের করল। কেনসিংটন কিছু একটা লিখার চেষ্টা করছিলেন। রক্তে ভিজে গেছে কাগজটা, তবে একটা পাশ পড়া যাচ্ছে। একটা নাম মনে হচ্ছে। “সোফি স…
এরকম কোনো কিছু বা কাউকে কার্ট চেনে না। তবে এই মুহূর্তে আসলে কোনো কিছুকেই আর ওর মাথায় খেলছে না। ও কাগজটা রেখে পুলিশের অপেক্ষা করতে লাগল আর ভাবতে লাগল কবে ওদের ভাগ্য খুলবে।
নদীর অপর পাড়েই ফোর্ট সেন্ট অ্যাঞ্জেলোর শতাব্দী প্রাচীন পাথুরে মেঝেতে শুয়ে শুয়ে আরেকটা অবয়ব ভাবছিল যে তার ভাগ্যটা আজ খুবই ভালো। উঠে দাঁড়িয়ে তার গুলির ফলাফল কি হলো তা দেখতে লাগল।
সে শত্রুকে দেখলো, তারপর বাতাসের সাথে সমন্বয় করে যেই গুলি করতে যাবে ওমনি ঝাপসা দেখা শুরু করল। তারপর বহু কষ্টে দুটো প্রতিবিম্বকে এক করে তারপর ট্রিগার টিপেছে। মুখের ফোস্কা আর ঘা-গুলো হওয়ার পর থেকেই চোখের সমস্যাটা শুরু। এখন অবশ্য কমছে ধীরে ধীরে।
তবে চার নাম্বারের কাছে এই দাগগুলো গর্বের। সেদিন সে ঠিকই ঐ মরণ হন্টন শেষ করে বেঁচে গিয়েছিল। তার পুরস্কারস্বরূপ ওসাইরিসের হয়ে কাজ করার জন্যে তাকে আরেকটা সুযোগ দেয়া হয়েছে। আর মাত্র একটা গুলি করেই সে নিজের যোগ্যতা বুঝিয়ে দিয়েছে।
সে ঝটপট নিজের লম্বা ব্যারেলের রাইফেলটা গুটিয়ে ফেলল। তারপর মনোযোগ দিয়ে মাত্র খুন করা লোকটার ছবি দেখতে লাগল। একবার মনে হলো ওর কি আসলে আমেরিকানগুলোকে মারা উচিত ছিল কি-না। কিন্তু কাউকে টের না পাইয়ে একটার বেশি গুলি করা সম্ভব না। আর হ্যাঁগেনের মুখ বন্ধ করাটাই সবচেয়ে জরুরি ছিল।
