“এতো দেখি পুরো মধ্যযুগীয় বর্বরতা।” জো বলল।
হ্যাগেন আবারো সামনে বাড়লো। জোর দিকে তরবারি চালিয়েই যাচ্ছে যাতে ও সিঁড়ির দিকে হেলে গড়িয়ে পড়ে যায়। কিন্তু জো সব আঘাতই ফিরিয়ে দিল। শেষমেশ হ্যাঁগেনের তরবারিতে জোরে একটা বাড়ি দিয়ে ওর বুকে একটা লাথি কষালো। হ্যাগেন উল্টে পড়ে গেল কিন্তু সাথে সাথেই উঠে দাঁড়িয়ে গেল। আবার লড়াই করতে প্রস্তুত।
“তুমিতো দেখি এই জিনিস ভালোই চালাতে পারো।” কার্ট বলল, “প্রতিটি স্টার ওয়ার্সের সিনেমা কয়েকবার করে দেখা আমার।” গর্ভ ভরে বলল জো।
“তারমানে এটাকে তো তুমি একলাই সামলাতে পারবে?”
“তা আর বলতে। তুমি এর সাথেরটাকে খুঁজে বের করো। ততোক্ষণে আমি এটাকে প্যাকেট করে ডেলিভারির জন্য রেডি করে ফেলি।”
কার্ট চলে যেতেই জো এবার ওর শত্রুর মুখোমুখি মোকাবেলা করতে দাঁড়ালো। এখন আর দণ্ডটা ও তরবারির মতো এক হাতে ধরে নেই। বরং দুই হাতে ধরে রেখেছে।
হ্যাগেন আবারো তরবারি চালালো কিন্তু জো এক প্রান্ত দিয়ে সেটাকে ঠেকিয়ে অন্য প্রান্ত দিয়ে সজোরে মুখে মারলো হ্যাঁগেনের। নাক ফেটে রক্ত বেরুলো সাথে সাথে।
“ডাক্তাররা ইঞ্জেকশন দেয়ার সময় কি বলে বলোতো? বলে যে “একটুও ব্যথা লাগবে না।” জো বলল, “তবে আজকে কিন্তু সেরকম কিছু হবে না, আজকে ভালোই ব্যথা লাগবে।”
হ্যাগেন সামনে এগিয়ে পাগলের মতো তরবারি নাড়তে লাগলো। সাথে গালাগালি এমনকি থুতু মারছে জোর উদ্দেশ্যে।
এদিকে জো একদমই ঠাণ্ডা আর ধীরস্থির। একজন প্রশিক্ষিত যোদ্ধার মতোই ওর নাড়াচাড়া। প্রতিটা পদক্ষেপ মাপা আর নিখুঁত। ফলে হ্যাঁগেনের তরবারির একটা আঘাতও জো-র শরীরে লাগল না। জো শান্তভাবে প্রতি আক্রমণ করল, দণ্ডটার এক প্রান্ত দিয়ে মারার ভান করে অন্যপ্রান্ত দিয়ে মারলো।
“আমি শুধু স্টার ওয়ার্স-ই দেখি না। এরল ফ্লিন-এরও বড় ভক্ত।” সাবধান করল জো।
“এরলল ফ্লিনটা কে?” হ্যাগেন বলল।
“এরলকে চেনো না?”
হ্যাগেন জবাব দিল না তবে জো আবার আক্রমণ করল। দণ্ডের একপ্রান্ত দিয়ে ডাক্তারকে খোঁচা দিয়ে পেছনে ঠেলে তারপর অন্যপ্রান্তটা সজোরে নামিয়ে আনলো ওর কাঁধে। হাড্ডি ভাঙ্গার মট আওয়াজ পাওয়া গেল আর প্রচণ্ড ব্যথায় ডাক্তার ঝাঁকিয়ে উঠল।
“আমি নিশ্চিত এটা হিউমেরাস (বাহুর হাড়)। আর এটাও নিশ্চিত যে খুব বেশি মজা লাগেনি তোমার।”
হ্যাগেন ঘোঁত ঘোত করে উঠল, “বলদ, এটা আমার ক্লাভিকন।” ডানা ভাঙ্গা পাখির মতো একদিকে হেলে পড়েছে হ্যাগেন।
“হায় হায়! আচ্ছা আরেকবার চেষ্টা করি।” বলে আবার মারার জন্যে দণ্ডটা তুললো জো।
“না না! আমি হার মানছি। আর মেরো না।” তরবারি ফেলে দিয়ে বলল হ্যাগেন।
হ্যাগেন হাঁটু মুড়ে বসে ওর কাধ চেপে ধরে হাঁপাতে লাগল। ব্যথায় গোঙ্গাচ্ছে। কিন্তু জো সামনে আসার চেষ্টা করতেই আরেকবার শয়তানি করার চেষ্টা চালালো। পকেট থেকে একটা সিরিঞ্জ বের করে জোর পায়ে ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করল হ্যাগেন সেটা দেখতে পেয়ে সজোরে লাথি চালালো আর সেটা উল্টো ডাক্তারেরই উরুতে গিয়ে বিধলো।
সিরিঞ্জে যা-ই থাক সেটা একদম সাথে সাথে কাজ করা আরম্ভ করল। হ্যাগেন চোখ উল্টে ওঠে ভাঙ্গা কাঁধের দিকেই ধপাস করে পড়ে গেল।
“ধুর! এখন শলাকে আবার ঘাড়ে নিতে হবে।” জো বলল নিজেকেই। পাশে বসে হাতের পালস চেক করল। আছে পালস। ও ঊরু থেকে সিরিঞ্জটা খুলে সুই ভেঙে ফেলল। তারপর পকেটে রেখে দিল। পরে পরীক্ষা করে দেখা যাবে ভেতরে কি আছে।
.
এদিকে কার্ট সতর্ক পদক্ষেপে বাকি লোকটাকে খুঁজছে। ওর ধারণা লোকটার হয় গুলি শেষ হয়ে গেছে না হয় অস্ত্রটাই হারিয়ে ফেলেছে। কারণ এতোক্ষণ হয়ে গেল একটা গুলিও করেনি। তারপর মানে এই না যে লোকটা কোথাও ওঁত পেতে নেই।
সামনে বাড়তেই আরেকটা সিঁড়ি থেকে হালকা পদশব্দ শুনতে পেল। কার্ট সাথে সাথে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে কোণা দিয়ে উঁকি দিল। কিন্তু সিঁড়িটা প্যাচানো। সিঁড়িগুলো লম্বা হলেও পাথরের দেয়ালের কারণে একবারে কয়েকটার বেশি সিঁড়ি চোখে পড়ে না।
কার্ট নিশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল। শোনার চেষ্টা করছে। প্রথম কয়েক সেকেন্ড কিছুই শোনা গেল না। তারপর হঠাৎই কেউ হুড়মুড় করে শেষ কয়েকটা ধাপ উঠে গেল।
কার্ট ডিগবাজি দিয়ে সিঁড়ির সামনে পড়ে ওপর দিকে উঠে গেল। তিরিশটা ছোট ছোট সিডি প্যাঁচ খেয়ে ওপরে উঠে গিয়েছে। আঠারো শতকের মানুষজনের জন্য বানানো এগুলো লম্বায় আর বহরে দুদিকেই ছোট ছিল তারা। কার্ট যতটা সম্ভব দ্রুত সিঁড়িটা পার হয়ে এসে দেখে একজন লোক দুর্গের বারান্দা ধরে সোজা দৌড়ে যাচ্ছে।
লোকটা বারান্দার শেষ মাথার দিকে দৌড়াচ্ছে। যেখানে একসারি প্রাচীন আমলের কামান বসানো। মুখগুলো সব সাগরের দিকে। কার্টও সাথে সাথে পিছু ধাওয়া করল। মাঝখানে একটা ছোট দেয়াল লাফিয়ে পার হলো। তারপর বিশাল বড় একটা সভাকক্ষ। সেটা পার হতেই লোকটাকে আবার দেখা গেল। কার্ট প্রায় কাছাকাছি পৌঁছেই গিয়েছিল, কিন্তু লোকটা দেয়াল থেকে প্রায় আট ফুট নিচে লাফিয়ে পড়ল।
কার্টও দেয়ালটার কাছে পৌঁছে ওটা থেকে লাফিয়ে পড়ল। পতনের ধাক্কা সামলে উঠে দাঁড়িয়ে লোকটা ইতোমধ্যে চল্লিশ ফুটের মতো এগিয়ে গিয়েছে পরের দেয়ালটা থেকে লাফ দিচ্ছে। কার্ট দেয়ালের কাছে পৌঁছে দেখে এটার উচ্চতা প্রায় দশ ফুট।
