.
১৮.
ডা. হ্যাগেন প্রাণপণে দুর্গের দিকে ছুটছে। আতঙ্ক গ্রাস করেছে তাকে। সবকিছুই আয়ত্তের বাইরে চলে গিয়েছে। কেনসিংটনের অফিসে লাগানো লুকানো মাইক্রোফোনে NUMA’র লোকটার সাথে আলাপচারিতার সবটাই শোনে ও। ভয় পেয়ে যায় যে কেনসিংটন সব ফাস করে দেবে। তাই ওসাইরিস থেকে লোকগুলোকে বলে বেশি কিছু ফাস করার আগেই কেনসিংটনকে সরিয়ে দিতে হ্যাগেন নিশ্চিত ছিল যে কাজটা হবেই। কিন্তু সেটা করতে যেতেই শুরু হলো একের পর এক ঝামেলা : ধাওয়া খেয়ে পালানো, দুর্ঘটনা, গাড়ি উল্টানোর সময় বন্দুক হাত ছাড়া হয়ে যাওয়া।
“আমাদের সাহায্য দরকার। কাউকে ফোন দাও।” চেঁচিয়ে বলল হ্যাগেন। ভাগ্য ভালো যে অন্য লোকটার কাছে এখনো একটা রেডিও রয়ে গেছে। সে ওটা কোমর থেকে খুলে দৌড়াতে দৌড়াতেই কথা বলতে লাগল।
“শ্যাডো, ট্যালন বলছি। একটা ঝামেলা হয়েছে। আমাদেরকে উদ্ধার করার জন্যে লোক পাঠাও।
“কি হয়েছে ট্যালন?” অপর প্রান্তের লোকটা বিরক্ত হয়েছে বোঝা গেল।
“কেনসিংটন আমেরিকার দুটোর সাথে দেখা করেছে। ওসব ফাস করে দিচ্ছিলো। তাই ওকে সরিয়ে দিয়েছি। এখন আমেরিকান দুটো আমাদের ধাওয়া করছে।”
“তো ওদেরকেও সরিয়ে দাও।”
“সম্ভব না। ওদের কাছে অস্ত্র আছে।” কথাটা মিথ্যা কিন্তু এখন মিথ্যা বলা ছাড়া উপায় নেই। “আমরা আহত। একজন মারা গিয়েছে। আমাদেরকে নিতে কাউকে পাঠাও।”
ফোর্ট সেইন্ট অ্যাঞ্জেলো কাছিয়ে এসেছে। চারপাশের উজ্জ্বল স্পট লাইটগুলোর কারণে ওটার গা থেকে কেমন কমলা আভা বেরুচ্ছে। যতই ওরা দুৰ্গটার কাছে যাচ্ছে ওদের নিচের মাটির রঙ আরো বেশি উজ্জ্বল হচ্ছে। ঠিক যেন টাইমস স্কয়ারের ভেতর দিয়ে দৌড়াচ্ছে। কিন্তু ওদের এখন এসব খেয়াল করার সময় নেই। বাঁচতে হলে দ্রুত দুর্গের দেয়ালের ভেতর ঢুকতে হবে।
“কি বলল ও?” হ্যাগেন আবার চেঁচালো।
“শ্যাডো, শুনতে পাচ্ছ?”
কিছুক্ষণ বিরতির পর আবার শোনা গেল কণ্ঠস্বর। “খাড়ির মুখে নৌকা থাকবে। যারা ধাওয়া করছে ওদের ব্যবস্থা করে তারপর সাঁতরে এসে নৌকায় উঠবে। এবার যেন আর ভুল না হয়। হলে কি হবে তা খুব ভালো করেই জানো।”
হ্যাগেনও কথাটা শুনেছে। এমনটা ও আশা করেনি। তবে নাই মামার চেয়ে কানা মামা তো অন্তত ভালো। দুর্গে ঢোকার ঢালু পথটায় ওঠার পর ওর গতি কমে গেল। হাফাচ্ছে। ট্যালন সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করেই দৌড়ে চলে গেল। ওর স্বাস্থ্য হ্যাঁগেনের চেয়ে ভালো। আর হ্যাগেন ধরা পড়ল কি পড়ল না তাতে ওর কিছুই যায় আসে না।
.
১৯.
কার্ট আর জো-ও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে আততায়ী দুজনকে ধরে ফেলার। কিন্তু ওরা দুজন আগেই অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। এবং দুর্গে পৌঁছেই ভেতরে উধাও হয়ে গিয়েছে।
কার্ট ঢালু পথটা পর্যন্ত ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ে পার হলো। পাশেই জো।
কিন্তু দুর্গের আলোর কাছে আসতেই গতি কমিয়ে দিল। কমলা আভা আর ছায়ার কারণে আশপাশটা ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। অন্ধকার থেকে কেউ ওর ওপর ঝাঁপ দেয় এটা কার্ট চাচ্ছে না।
এই পাশ থেকেও দুর্গটাকে দারুণ জমকালো মনে হচ্ছে। পুরো দালানটা তৈরি ভ্যালেটা বন্দরের ভেতর ঢুকে পড়া এক ফালি জমিতে। দেখতে অনেকটা বিয়ের কেক-এর মতো। কিন্তু দেয়ালগুলো গোল না বরং বিভিন্ন দিকে বাঁকানো। ফলে কেউ যখন আক্রমণ করতে চাইতো তখন বুঝে পেতো না ঠিক কোথায় গুলি করবে।
কার্ট গতি আরও কমালো। ওর ডানেই দুর্গ আর বামে বন্দর। ওর একটা তালামারা দরজা চোখে পড়ল। তারপাশেই একটা সরু সিঁড়ি একটা চিকন নালার মতো করে দুর্গের ভেতর ঢুকে গিয়েছে। সিঁড়ির মুখেও গেট আছে। তবে কার্ট এক নজর দেখেই বুঝলো যে লোক দুটো এদিকেই গিয়েছে।
“তালা ভেঙে ঢুকেছে।”গেটটা খুলতে খুলতে বলল কার্ট। তারপর ওপরে এক ঝলক তাকিয়েই ওঠা শুরু করল। দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে এগুচ্ছে। কিন্তু একদম শেষ মাথায় একজন ওকে আক্রমণ করে বসলো। হাতে তরবারি।
কার্ট একপাশে ঝাঁপ দিয়ে আঘাতটা এড়ালো। তারপর গড়ান দিয়ে সোজা হতেই দেখে জো চলে এসেছে। তরবারিওয়ালা এক কদম পিছিয়ে গেল তারপর একবার জো আর ওর হাতের বাঁকানো লোহাটা আরেকবার কার্টের দিকে তাকাতে লাগল।
কার্টের নজরে পড়ল দুর্গের ইতিহাসের প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে দেয়ালের পাশেই ধাতব বর্ম আর অস্ত্রপাতি রাখা। লোহার একজোড়া দস্তানা পড়ে আছে। মাটিতে। তরবারিটা ওটার ভেতরেই ছিল।
লোকটা তরবারিটা একবার কার্ট আরেকবার জোর দিকে তাক করতে লাগল। কার্ট ওকে চিনতে পারলো।
“আরে! এ যে দেখছি ডা. হ্যাগেন। এমন বীরপুরুষ যে কি-না এক দ্বীপ ভরা লাশ ফেলে পালিয়েছে।”
“তুই আমার সম্পর্কে কিছুই জানিস না।” ঘোত ঘোত করে বলল হ্যাগেন।
“এইটুকু জানি যে তোর কাছে একটা প্রতিষেধক আছে যেটা দিলে। ল্যাম্পেডুসার লোকজন ভালে হয়ে যাবে। যদি সময় মতো বলিস তাহলে অন্তত ফাঁসির দড়ি থেকে বাঁচতে পারবি।”
“চোপ।” চিৎকার করে উঠল হ্যাগেন। তারপর কার্টের দিকে আক্রমণ করার ভান করে জো-এর দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। বিশাল একটা অর্ধবৃত্ত রচনা। করে চালালো তরবারি।
বাতাসে শিষ কেটে ফলাটা জোর দিকে ধেয়ে গেল। কিন্তু জো দারুণ দক্ষতায় সেটা পাশ কাটিয়ে লোহার দণ্ডটা দিয়ে বাড়ি দিল। ঝনাৎ করে শব্দ হয়ে আশে পাশে স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ল।
