হঠাৎ রাস্তায় জটলা লেগে যাওয়ায় কার্টের ট্রাক ভ্যানটার প্রায় কাছেই চলে এলো কিন্তু ছোট ভ্যানটা কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাঁক-ফোকর গলে বেরিয়ে গেল। কার্ট আর কি করে। গাড়ির সব বাতি জ্বেলে হর্ণ চেপে ধরেই রইল যতক্ষণ পারে।
ওর অস্থির হর্ণ শুনে চলমান গাড়িগুলো রাস্তা ছেড়ে দিল, কিন্তু রাস্তার পাশে দাঁড় করানো গাড়িগুলোই বাধালো ঝামেলা। কার্ট প্রায় সবটাতেই ঢুশ মেরে মেরে এগুতে লাগল। একটারও আয়না আস্ত থাকল না।
টানা পাঁচটা আয়না ভাঙ্গার পর জো বলল, “আরে শেষেরটা তো মিস করলে।”
“ফেরার পথে ভাঙ্গবো ওটা।”
ফাঁকা রাস্তা পেয়ে আবারও গতি বাড়ালো কার্ট। তারপর জোকে জিজ্ঞেস করল, “তোমাকে না কেনসিংটনের সাথে থাকতে বললাম?”
“ওর সাথেই তো ছিলাম,” জো জবাব দিল।
“আমি বলেছিলাম সাহায্য আসার আগ পর্যন্ত থাকতে।”
“পরের বার তাহলে স্পষ্ট করে বলবে।”
আবারও ভ্যানটার কাছাকাছি চলে এসেছে ওরা। সামনের রাস্তাটা একেবারে সমুদ্রের কিনারে গিয়ে থেমেছে। তারপর বেঁকে বন্দরের ধার ঘেষে ঘাটের দিকে চলে গিয়েছে। ভ্যানের একজনকে দেখা গেল গুলি করে ভ্যানের পেছনের কাঁচ ভেঙে ফেলল, তারপর ভাঙ্গা জানালা দিয়ে ট্রাকের দিকে গুলি করতে লাগল।
কার্ট বন্দুকের নল দেখা মাত্র মাথা নিচু করে ফেলেছে। পর মুহূর্তেই সামনের কাঁচ চুরচুর হয়ে ছিটকে পড়ল চারপাশে। গুলি থেকে বাঁচতে ও রাস্তার পাশের একটা গলিতে ঢুকে পড়ল। গলিটা আবার মূল শহরের দিকে ফিরে গিয়েছে।
“আমরা কিন্তু উল্টো দিকে যাচ্ছি।” জো মনে করিয়ে দিল। কার্ট সে কথা পাত্তা না দিয়ে গাড়ির স্পিড় আরো বাড়িয়ে দিল।
“এখন আমরা আরো দ্রুত উল্টো দিকে যাচ্ছি।” জো বলল আবার।
“শর্টকাট মারছি। এখানকার সমুদ্র তীরটা একেবারে হাতের পাঞ্জার মতো। এই শালারা যাচ্ছে আঙুলের ধার ঘেষে। আর আমরা এতো ঝামেলায় না গিয়ে সরাসরি তালু বরাবর যাবো।” কার্ট ব্যাখ্যা করল।
“অথবা হারিয়ে যাবো। তোমার কাছে কোনো ম্যাপ নেই।”
“ম্যাপ লাগবে না। বন্দরটা বামে রাখতে হবে শুধু।” কার্ট জানালো।
“হুম। ব্যাটারা এখন উল্টোদিকে না ঘুরলে হয়।”
বন্দরের আশেপাশের সব দুর্গ বা গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ছাদেই ফ্লাডলাইট লাগানো। ফলে বন্দরটা নজরে রাখতে কোনো সমস্যাই হয় না, আর আলোর কারণে নিচের রাস্তাগুলো ভালোই দেখা যায়।
.
“ঐ যে।” একদিকে আঙুল তুলে দেখালো জো।
কার্টও দেখেছে। মাইক্রো ভ্যানটা তখনও ছুটছে। এখন আরও দ্রুত গতিতে। ড্রাইভারের ভিড়ের মধ্যে মিশে যাওয়ার কোনো ইচ্ছেই নেই।
ঢালু রাস্তা বেয়ে নামা শুরু করতেই ট্রাকটা ভয়ানক বেগে ছুটতে আরম্ভ করল। সাথে শুরু হলো ঝাঁকুনি। ঝকির চোটে পিছনে লেগে থাকা সব কীটের গুঁড়ো আর ধুলোবালি সব উড়া আরম্ভ করল। সেই সাথে ইঞ্জিনের ভো ভে তো আছেই।
গাড়িটা সামনের চৌরাস্তার দিকে ছুটছে। ভ্যানটাও এই চৌরাস্তাতেই আসবে একটু পর।
“কি করতে চাচ্ছ?” জো জিজ্ঞেস করল।
“রোমানদের মতো বায়স বিদ্ধ করবো।”
জো ব্যস্ত হয়ে সিটবেল্ট খুঁজতে গিয়ে দেখে নেই সেটা।
“লাগালোও ও…।”
ট্রাকটা প্রচণ্ড বেগে সমতল রাস্তায় এসে উঠল কিন্তু ভ্যানটার গায়ে লাগল না। নামার সময় ট্রাকটার গতি বেশিই বেড়ে গিয়েছিল, ফলে কার্টের হিসেবে গরমিল হয়েছে। এখন ওরাই উল্টো ভ্যানের আগে চলে এসেছে।
“আমরা তো এখন সামনে চলে এসেছি দেখি। আমাদের তো ধাওয়া দেয়ার কথা।” জো বলল।
“তো কিছু একটা করো।”
ঐ মুহূর্তে জো এর মাথায় একমাত্র যুক্তিসঙ্গত যে চিন্তাটা আসলো, ও সেটাই করল। ট্রাকের পিছনের অংশটা আটকানোর যে হাতলটা ছিল সেটা টেনে দিল। সাথে সাথে অংশটা কাত হয়ে গেল আর পুরো কয়েক হাজার পাউণ্ড ভাঙ্গা ইটের টুকরো, মাটি, লোহালক্কর রাস্তায় গড়িয়ে পড়ল।
ভাঙ্গাচোরা জিনিসের স্রোত সরাসরি দ্রুত গতিতে ছুটে আসা ভ্যানটার গায়ে গিয়ে পড়ল আর সামনের দিকটা ছাড়িয়ে একেবারে ভ্যানের ছাদে গিয়ে উঠল। সামনের গ্রিল আর রেডিয়েটর ভেঙে গেল সাথে সাথেই। সামনের কাঁচও ভেঙে ঢুকে গেল ভেতরে। আর ভ্যানটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে একদিকে কাত হয়ে রাস্তার পাশে উল্টে গেল।
কার্ট এবার সমগ্র শক্তি দিয়ে ব্রেক চেপে ধরলো আর ট্রাকটা কয়েক ফুট পিছলে গিয়ে তারপরে থামল। কার্ট লাফিয়ে নেমেই উল্টানো গাড়িটার দিকে ছুটলো। জোও নামলো পিছু-পিছু হাতে একটা বাঁকানো লোহার দণ্ড।
গাড়িটার কাছে গিয়ে দেখে রেডিয়েটর দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আর গাড়ির একটা অংশও আস্ত নেই। পুরোটা এবড়োখেবড়ো হয়ে গিয়েছে। বাতাসে গ্যাসোলিনের গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে।
একবার ভেতরে তাকাতেই বুঝলো পিছনের সিটে বসা লোকটা মারা গিয়েছে। জানালা গলে ইটের বড় একটা টুকরা মাথাটা থেতলে দিয়েছে। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হলো ভেতরে আর কেউ নেই।
“বাকিরা গেল কোথায়?” জোর জিজ্ঞাসা।
অনেক সময় এভাবে গাড়ি উল্টে গেলে গাড়ি থেকে শরীর ছিটকে বের হয়ে যায়। কিন্তু আশেপাশে তাকিয়েও কার্ট কাউকে দেখতে পেল না। তারপর কিছু দূরেই দেখা গেল দুটো অবয়ব ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াচ্ছে। ফোর্ট সেইন্ট এঞ্জেলোর দিকে এগুচ্ছে।
‘কেডস পরে এসেছ তো? দৌড় কিন্তু শেষ হয়নি।” লোক দুটোর দিকে দৌড় দিয়ে জো’কে বলল কার্ট।
