বাইরের যন্ত্রটা অবশেষে থামল। কেনসিংটনের হাত কাঁপছে। উনি একটা কলম চেপে ধরে তা থামানোর চেষ্টা করছেন।
কাগজে এলোমেলো দাগ দিতে দিতে বললেন, “খুব দামি কিছুও না। প্রাচীন মিসরের কিছু পুরাকীর্তি। এগুলো কি আসল না নকল তা-ও পরীক্ষা করা হয়নি।”
বাইরে এবার একটা ইঞ্জিন চালু হলো। খুব জোরে আর মারাত্মক শব্দ করছে ইঞ্জিনটা। শিরশিরানিতে কার্টের ঘাড়ের কাছের চুলগুলো দাঁড়িয়ে গেল। সেগুলো নামানোর জন্যে মাথাটা বাঁকিয়ে হাত দিতেই দেখে জানালার পাশ থেকে একটা ছায়া সরে গেল।
“মাথা নামাল।” চিৎকার দিয়ে মাটিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল কার্ট। একপাশের দেয়াল ভেঙে ভেতরে একটা ক্রেনের মাথা ঢুকে গেল। কালো আর হলুদ রঙ করা দণ্ডটা আরেকটু সামনে বাড়তেই কেনসিংটনসহ ওনার ডেস্কটা গিয়ে আটকালো পেছনের দেয়ালে। সাথে ভাঙ্গা কাঁচ আর তুলোয় ভরে গেল ঘর। দণ্ডটা কয়েক ফুট পিছনে ফিরতেই কার্ট কেনসিংটনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে টেনে ক্রেনের সামনে থেকে সরিয়ে আনলো। পর মুহূর্তেই ক্রেনটা সেই জায়গায় পেছনের দেয়ালে একটা ফুটো করে দিল।
আরো একবার আঘাত করলো ক্রেন। মনে হলো ওপর থেকে ছাদ ভেঙে পড়বে।
“কেনসিংটন?” কার্ট ডাকলো লোকটাকে।
কেনসিংটনের চেহারা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছে। নাক ভেঙে গিয়েছে, ঠোঁট আর দাঁত গেছে থেতলে। দষ্টার মাথা সরাসরি লেগেছে মুখে। কার্টের ডাকে সাড়া না দিলেও শ্বাস পড়ছে বোঝা গেল।
কার্ট ওনাকে মাটিতে শুইয়ে দিতেই খেয়াল হলো হাতের মধ্যে মুচড়ে আছে একটা কাগজ। কাগজটা হাতে নিতেই শোনে জো চিৎকার দিল,
“মাথা নামাও।”
দণ্ডটা এবার পাশের দিকে আসছে। কার্ট কেনসিংটনকে আড়াল করে যতটা সম্ভব মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করল। দণ্ডটা ওদের ওপর দিয়ে গিয়ে পাশের দেয়ালটা ভেঙে ফেলল।
কিন্তু এবার দণ্ডের মাথাটা দেয়ালের একটা পাথরে আটকে গেল। কয়েকবার টানাটানি করল ছোটানোর জন্যে কিন্তু কাজ না হওয়ায় হাল ছেড়ে দিয়ে পুরো ক্রেনটাই বন্ধ হয়ে গেল।
কার্ট সাথে সাথে ভাঙ্গা দেয়াল থেকে নিচে উঁকি দিল। ক্রেনের ছোট গাড়িটায় একজন লোককে দেখা গেল ক্রেনটা আবার চালু করার চেষ্টা করছে, আর আরেকজনকে দেখা গেল সাব মেশিনগান হাতে পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। কার্টকে দেখতে পেয়ে লোকটা বন্দুক তুলে দ্রুত কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লো। কার্টও সাথে সাথে মাথা সরিয়ে নেয়ায় বুলেটগুলো পাথরে লেগে ছিটকে গেল।
এদিকে জো ফোন করে সাহায্য চাচ্ছে। ফোন কানে থাকতেই আবারো শুনলো গুলির শব্দ।
শব্দ শুনে বোঝা গেল যে, গুলি এবার এদিকে করা হয়নি, অন্যদিকে। আবারো বাইরে তাকিয়ে দেখে আততায়ীরা পালাচ্ছে। ওপরের দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়ছে যাতে লোকজন পথ থেকে সরে যায়।
“কেনসিংটনের খেয়াল রেখো। আমি দেখি ঐ ব্যাটাদের ধরা যায় কি না।” বলেই কার্ট ভাঙ্গা জানালাটা টপকে ক্রেনের দণ্ড বেয়ে নিচে নামতে লাগল। জো বাধা দেয়ার জন্যে কিছু বলতে গেলো কিন্তু তার আগেই কার্ট নেমে গেছে অনেকখানি।
.
১৭.
ক্রেনের দণ্ডটায় যে গোল গোল ছিদ্রগুলো ছিল ওগুলো ধরে ধরে কার্ট নেমে এলো নিচে। তিনজন লোক তখনও দৌড়াচ্ছে। হাতে বন্দুক। রাস্তার শেষ মাথায় একটা মাইক্রো ভ্যান দেখা যাচ্ছে। ওটাতেই উঠবে সম্ভবত। লাফ দিয়ে মাটিতে নামতেই বেশ কয়েকজন লোক গুলি খেয়ে পড়ে আছে। সম্ভবত এরাই ক্রেনের আসল কর্মচারী।
এদিকে লোকগুলো ভ্যানে উঠে পড়েছে।
কার্ট এদিক ওদিক তাকাল পিছু নেয়ার মতো কিছু পাওয়ার আশায়। কাছেই একটা সিট্রোয়েন কোম্পানির মাটি টানা ট্রাক দেখা গেল। ট্রাকটার শরীর বেশ সরু কিন্তু লম্বায় বড়। আমেরিকায় হয়তো গাড়িটা অদ্ভুত লাগবে কিন্তু এখানকার চিকন চিকন রাস্তার জন্যে এটাই মানানসই।
দৌড়ে গাড়িটায় উঠল ও। ভাগ্য ভালো যে চাবি ওখানেই লাগানো আছে। ইঞ্জিন চালু হতেই বিন্দুমাত্র দেরি না করে গিয়ার তুলে ওটাকে নামিয়ে আনলে রাস্তায়। উদ্দেশ্য ভ্যানটার সামনে গিয়ে রাস্তা আটকাবে।
কিন্তু ছোট্ট গাড়িটাকে আটকানো গেল না কোনো মতেই। ওটা কার্টের ট্রাকটাকে পাশ কাটিয়ে ফুটপাতে ওঠে গেল তারপর আবার একশ ফুটের মতো গিয়ে রাস্তায় মেনে এলো।
কার্ট দ্রুত গাড়ি রিভার্স গিয়ারে দিয়ে উল্টোদিকে সরিয়ে নিলো। তারপর দ্রুত ঘুরিয়ে ভ্যানটার পিছু নিতে যেতেই দেখে যাদুঘরের গেটে জো।
“উঠে পড়ো!” চেঁচালো কার্ট।
জো উঠতেই কার্ট গ্যাস পেডাল একেবারে ফ্লোর বোর্ডের সাথে চেপে ধরলো। “আরও ছোট কিছু ভাড়া পাওনি?” জো জিজ্ঞেস করল।
“পেয়েছিলাম কিন্তু ওরা বোনাস হিসেবে এটাই দিল। বহুত পুরনো মেম্বার তো, ভালোই সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়।”
“তা পুলিশ ধরলে কি সুযোগ সুবিধাগুলো কাজে লাগাবে?”
“সেটা নির্ভর করছে একটা জিনিসের ওপর।” কার্ট বলল।
“কোন জিনিসের ওপর?”
“আমরা ঐ শয়তানগুলোকে ধরতে পারবো কি পারবো না তার ওপর।” যত গর্জে ততত বর্ষে না’ প্রবাদটা প্রমাণ করতেই যেন, ট্রাকটা শব্দ করছে ভীষণ কিন্তু সেই তুলনায় বেশি একটা আগাচ্ছে না। মাইক্রো ভ্যানটার গতিও এমন আহামরি কিছু না কিন্তু জিনিসটা খুব সহজে রাস্তার এপাশ ওপাশ করতে পারছে। দূরতু তাই ক্রমশ বাড়ছেই। এই সামান্য গতির তুলনাতেই ট্রাকটাকে গদাই লশকর মনে হচ্ছে।
