“কি আছে এই ছবিতে?”
“আপনি আছেন। আপনাকে অতটা ভালো দেখাচ্ছে না, তবে এটা যে আপনি তা পুরোপুরিই বোঝা যাচ্ছে। আজকেও একই জ্যাকেটটা পরে আছেন আপনি।”
“হ্যাঁ, এটা আমি, তো?”
“ছবিতে বাকি যাদেরকে দেখা যাচ্ছে, এরা যে ধরনের মানুষ, তাতে এদের সাথে তো আসলে আপনার ঘোরাঘুরি করার কথা না। আর আমার ধারণা এই ধরনের মানুষরাই আপনার পার্টিতে আসবে।”
কেনসিংটন ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
“কাউকে কি চিনতে পারছেন?” জো জিজ্ঞেস করল।
“এনাকে।” ডা. হ্যাগেনকে দেখিয়ে বললেন কেনসিংটন। “লোকটা নাকি সংগ্রাহক। বেশি বড় না, ছোট খাটো। যতদূর মনে পড়ে পেশায় ডাক্তার। আর এই দুজন ওনার সহকর্মী। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না এর সাথে
কার্ট কথা কেড়ে নিলো, “উনি একজন ডাক্তার সেটা ঠিক। তবে লোকটাকে গতকালের ল্যাম্পেডুসার সন্ত্রাসী হামলাটার জন্যে দায়ী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। বাকি দুজনও সম্ভবত এটার সাথে সম্পৃক্ত।”
কেনসিংটনের মুখ থেকে রক্ত সরে গেল। ঘটনাটা ঘণ্টায় ঘন্টায় টিভিতে দেখানো হচ্ছে। ভোপালের দুর্ঘটনার পর এটাই সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নাকি এটা। “আমিতো সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে কিছু জানিনা। আমিতো ভেবেছি যে জাহাজটা বিধ্বস্ত হয়েছে ওটার থেকে বের হওয়া কোনো রাসায়নিক পদার্থের কারণেই বোধ হয় এরকম হয়েছে।”
“বাইরের সবাইকে এ কথাই জানানো হয়েছে, তবে আসল ঘটনা সেটা না।” কার্ট বলল।
কেনসিংটন গলা খাকারি দিয়ে গলাটা পরিষ্কার করলেন। ডেস্কের ওপর আঙুল বাজালেন, তারপর অযথাই একটা কলম নিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগলেন। প্রচণ্ড অস্থির হয়ে গেছেন বোঝাই যাচ্ছে।
“আমি…আমি আসলে বুঝতে পারিছ না আপনারা কি জানতে চাচ্ছেন?” কথা আটকে যাচ্ছে তার। “লোকটার নামও আমার মনে নেই।”
“হ্যাগেন।” পাশ থেকে জো বলল।
“হা হা…হ্যাগেন।”
“আপনার দেখছি ভালোই ভুলো মন। এই ছবিটা যারা তুলেছে তারা আপনাকে তিনবার হ্যাঁগেনের সাথে দেখা করতে দেখেছে। লোকটা কি চায় সেটা কি অন্তত মনে আছে?”
কেনসিংটন জোরে নিশ্বাস ফেললেন তারপর এমনভাবে চারপাশে তাকাতে লাগলেন যেন সাহায্য খুঁজছেন। “লোকটা পার্টিতে আসার দাওয়াত চায়। কিন্তু আমি বলেছি পারবো না।”
“কেন?”
“বললামই তো এটা খুবই প্রাইভেট একটা বিষয়। শুধু কয়েক ডজন ধনকুবেরকে দাওয়াত দেয়া হয়। এরা সবাই যাদুঘরের পৃষ্ঠপোষক। ডা. হ্যাঁগেনের এখানে আসার যোগ্যতা নেই।”
কার্ট চেয়ারে হেলান দিল, “দুই লাখ ইউরো দিলেও না?”
কেনসিংটন অবাক হয়ে চাইলেন। মুহূর্তেই সেটা সামলে বললেন, “দশ লক্ষ হলেও না।”
কার্ট ভেবেছিল টাকাটা বোধ হয় পুরাকীর্তিটা কেনার উদ্দেশ্যেই পাঠানো কিন্তু এখন মনে হচ্ছে অন্য উদ্দেশ্য আছে। “যদি লোকটা আপনাকে ঘুষ হিসেবে টাকাটা সেধে থাকে তাহলে একটা কথা মনে করিয়ে দেই, এই ধরনের লোকেরা সাধারণত শেষমেশ টাকাটা দেয় না। কাজ শেষে প্রমাণ রাখা এদের স্বভাব না। ওরা আপনাকে টাকাটা দেখাবে। হয়তো আগাম হিসেবে খানিকটা দিতেও পারে। কিন্তু যখনই তাদের কাজটা উদ্ধার হয়ে যাবে, টাকাটা খরচ করার জন্যে আপনাকে আর বাঁচিয়ে রাখবে না।”
কেনসিংটন কিছু না বলে চুপচাপ বসে রইলেন। যেন কার্টের কথাগুলো ভাবছেন। নীরবতা ভেঙে কার্টই কথা বলল আবার, “আর কথাটা আপনি নিজেও জানেন। এ কারণেই আপনি দরজা লাগিয়েও আবার উঁকি মেরে দেখছিলেন যে আযরাইল আশেপাশে আছে নাকি।”
“আমি…”
“আপনি আসলে ভাবছিলেন ওরা আবার আসবে। আপনি ওদেরকে ভয় পাচ্ছেন। বিশ্বাস করুন, ভয় পাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।”
কেনসিংটন কৈফিয়তের সুরে বললেন, “আমি ওদেরকে কিছুই বলিনি। বলেছি চলে যেতে। কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন না, ওরা…”
কেনসিংটন চুপ মেরে গেলেন আর আবারো অস্থির হয়ে এটা ওটা করতে লাগলেন। তারপর নিচু হয়ে একটা ড্রয়ার খুলতে গেলেন।
“কি করেন?” কার্ট বলল।
“আমি বন্দুক বের করছি না।” কেনসিংটন বললেন। তারপর এন্টাসিডের একটা বোতল বের করলেন। প্রায় খালি হয়ে এসেছে সেটা।
“আমরা আপনাকে বাঁচাতে পারবো। আপনার যাতে কিছু না হয় সে ব্যবস্থাও করতে পারবো। কিন্তু সেজন্যে তো আগে আপনাকে আমাদেরকে সাহায্য করতে হবে।
কেনসিংটন বোতলটা থেকে কয়েক ঢোক ওষুধ খেয়ে নিলেন। এখন একটু সুস্থির লাগছে তাকে।
“আমাকে কিছু থেকেই বাঁচাতে হবে না। এটা কি মগের মুল্লুক নাকি? কোথাকার কোন সংগ্রাহক একটা পুরাকীর্তি কেনার জন্য আমার কাছে এসে কয়দিন ঘ্যান ঘ্যান করল আর আমি হয়ে গেলাম মস্ত বড় সন্ত্রাসী? গণ হত্যাকারী?”।
“আপনাকে কেউ সেই দোষ দিচ্ছে না। কিন্তু এই লোকগুলো এতে জড়িত। ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক আপনাকে ওদের সাথে দেখা গিয়েছে। দুই দিক দিয়েই আপনি বিপদে যাকে বলে মাইনকার চিপায়।”
কেনসিংটন কিছু না বলে কপাল ডলতে লাগলেন। বাইরে আরো একটা যন্ত্র চালু হলো। সারা ভবনে ছড়িয়ে পড়ল আওয়াজ।
কার্ট কেনসিংটনের মনের অবস্থা বুঝতে পারলো। কি করবে বুঝতে পারছে না লোকটা। এই শব্দ, এই টেনশন সবকিছু চেষ্টা করছে কপাল ঘষে তুলে ফেলতে।
“আমি আপনাকে সত্যি বলছি। আমি ঐ লোকগুলো সম্পর্কে কিছুই জানিনা। আপনাদের মতো ওরাও নিলামের কয়েকটা জিনিসের ব্যাপারে জানতে চেয়েছিল। কিন্তু এ সম্পর্কে মুখখোলা নিষেধ, তাই আমি না করে দেই। আপনি কি ভাবছেন জানিনা, তবে ওরা যেসব জিনিসের খোঁজ করছিল সেসব যে খুব আলাদা কিছু তেমন কিন্তু না। একদমই সাধারণ জিনিস।”
